জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিংবডি (এডহক) গঠনকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী এক কলেজ শিক্ষকের চাপের মুখে পড়েছেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহম্মদ আবু হাসান। কমিটির সভাপতি হতে আগ্রহী স্থানীয় সরিষাবাড়ী কলেজের একজন প্রভাষক জোরপূর্বক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর নেয়ায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহতসহ শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে ।
২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবু তাহের স্বাক্ষরিত পত্র মোতাবেক নীতিমালা অনুসারে ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার গভর্নিংবডি (এডহক কমিটি) গঠনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহম্মদ আবু হাসান।
এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে শাহাজাদী খানমকে মনোনয়ন দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিভাবক সদস্য হিসেবে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া আক্তারের বাবা মশিউর রহমানকে মনোনয়ন দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী সভাপতি হিসেবে ওয়ালেদুর রহমান খান, মোজাফ্ফর হোসেন ও রশিদা খানমের নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়।
এদিকে এডহক কমিটির সভাপতি হতে উঠে-পড়ে লাগেন সরিষাবাড়ী কলেজের প্রভাষক শেখ হোসেন জামান জুয়েল। কমিটির প্রস্তাবনা পাঠানোর পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহম্মদ আবু হাসান অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, কমিটির প্রস্তাবনা পাঠানোর খবর শুনে প্রভাষক শেখ হোসেন জামান জুয়েল তাকে চাপ দিতে থাকেন। ২৬ জানুয়ারি রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক দুটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ওই কাগজে তিনি নিজের মত করে কমিটির প্রস্তাবনা সাজিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠান। পরে বিষয়টি জামালপুরের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বর্তমানে চাপ ও নানা হুমকির কারণে প্রতিষ্ঠানটির পড়ালেখাসহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সরিষাবাড়ী কলেজের প্রভাষক শেখ হোসেন জামান জুয়েল এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পাঠানো কমিটি নিয়ে এলাকায় বিতর্ক থাকায় তিনিই নতুন নাম-তালিকা করে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ পাল এ প্রতিবেদককে বলেন, জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি আমাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি তদন্ত করে দেখবো।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 



















