ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশ রক্ষায় তিন শতাধিক তালবীজ রোপণ হৃদয়ের রেকর্ডগড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে তৃতীয় দিন বাংলাদেশের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত বকশীগঞ্জে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সাংবাদিক লায়নের পিতার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই এনজিও

৮ ডিসেম্বর মেলান্দহ হানাদার মুক্ত দিবস

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: ৮ ডিসেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১’র এই দিন বিকেলে আলম কোম্পানির টু আইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম মেলান্দহ উমির উদ্দিন হাই স্কুল মাঠে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলান্দহকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন।

এদিন মেলান্দহ থানার তৎকালীন ওসি জোনাব আলী তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ নুরুর রহমান সরকার, গিয়াস উদ্দিন, শহিদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ, আব্দুল হক আকন্দ, আব্দুল গেনা, আব্দুল লতিফ, মোহাম্মদ আলী, শমসের আলী, করিম ভেদা, হাশেমসহ মোট ৪৬ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।

জানা যায়, তৎকালীন মেলান্দহ সদরের একটি নিচু ঝুপড়ি এলাকা (বর্তমান মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে) শাহজাতপুরের আব্দুল বারেক, দিঘলবাড়ির বাচ্চু মিয়া, বারই পাড়ার গৌর গোপাল, আদিপৈতের গোপাল ডাক্তার, কাজির পাড়ার লুৎফর রহমান লেবুসহ নাম নাজানা অনেক মুক্তিকামী জনতাকে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন শেষে হত্যা করে পাকবাহিনীরা। এ স্থানটিকে বর্তমানে বদ্ধভূমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মেলান্দহ সদর ও মাহমুদপুর পয়লা ব্রিজ এলাকায় পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে তেঘরিয়া-সিরিঘাট এলাকার রমিজ, নাম নাজানা আরও একজন মুক্তিসেনাসহ ৮/১০ জন বেসামরিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। এসময় আদিপৈত গ্রামের শহিদ সমর উদ্দিন পাকসেনার হাতে বন্দি হন। তাঁকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। অপর দিকে আব্দুল করিমের সহযোদ্ধা কলাবাধা হাই স্কুলের ছাত্র আব্দুল কদ্দুস পাকবাহিনীর হাতে আটক হন। পাকবাহিনীরা কদ্দুসকে ইসলামপুরে নিয়ে জুতোর মালা পরিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দিতে বাধ্য করে ও পরে জামালপুর কালিঘাটে নিয়ে হত্যা করে। এ যুদ্ধে আব্দুল করিমের সহযোদ্ধা ইউসুফ আলীর ব্রাশ ফায়ারে ১২ জন পাক সেনা নিহত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দিবসটি উপলক্ষে মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

৮ ডিসেম্বর মেলান্দহ হানাদার মুক্ত দিবস

আপডেট সময় ০৭:৪২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: ৮ ডিসেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১’র এই দিন বিকেলে আলম কোম্পানির টু আইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম মেলান্দহ উমির উদ্দিন হাই স্কুল মাঠে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলান্দহকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন।

এদিন মেলান্দহ থানার তৎকালীন ওসি জোনাব আলী তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ নুরুর রহমান সরকার, গিয়াস উদ্দিন, শহিদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ, আব্দুল হক আকন্দ, আব্দুল গেনা, আব্দুল লতিফ, মোহাম্মদ আলী, শমসের আলী, করিম ভেদা, হাশেমসহ মোট ৪৬ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।

জানা যায়, তৎকালীন মেলান্দহ সদরের একটি নিচু ঝুপড়ি এলাকা (বর্তমান মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে) শাহজাতপুরের আব্দুল বারেক, দিঘলবাড়ির বাচ্চু মিয়া, বারই পাড়ার গৌর গোপাল, আদিপৈতের গোপাল ডাক্তার, কাজির পাড়ার লুৎফর রহমান লেবুসহ নাম নাজানা অনেক মুক্তিকামী জনতাকে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন শেষে হত্যা করে পাকবাহিনীরা। এ স্থানটিকে বর্তমানে বদ্ধভূমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মেলান্দহ সদর ও মাহমুদপুর পয়লা ব্রিজ এলাকায় পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে তেঘরিয়া-সিরিঘাট এলাকার রমিজ, নাম নাজানা আরও একজন মুক্তিসেনাসহ ৮/১০ জন বেসামরিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। এসময় আদিপৈত গ্রামের শহিদ সমর উদ্দিন পাকসেনার হাতে বন্দি হন। তাঁকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। অপর দিকে আব্দুল করিমের সহযোদ্ধা কলাবাধা হাই স্কুলের ছাত্র আব্দুল কদ্দুস পাকবাহিনীর হাতে আটক হন। পাকবাহিনীরা কদ্দুসকে ইসলামপুরে নিয়ে জুতোর মালা পরিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দিতে বাধ্য করে ও পরে জামালপুর কালিঘাটে নিয়ে হত্যা করে। এ যুদ্ধে আব্দুল করিমের সহযোদ্ধা ইউসুফ আলীর ব্রাশ ফায়ারে ১২ জন পাক সেনা নিহত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দিবসটি উপলক্ষে মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।