ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতের সুপারিশ স্থায়ী কমিটির ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ১০০০ ইউপিতে নির্বাচন : ইসি সচিব মাদারগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বিএনপিনেতা ফিরোজ মিয়ার উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত মেলান্দহে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৪ ইসলামপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত জামালপুরে স্বাস্থ্য পুষ্টি ওয়াস বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু দুশ্চিন্তায় মাদারগঞ্জের কৃষকেরা, হাতবদলেই ১৭ টাকার মরিচ ৫০ টাকা কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি’র অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হলো জাতিসংঘের ভোটে : তথ্যমন্ত্রী

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ তথ্যও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিপুল ভোটে আবারও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি এবং দেশবিরোধীদের বিভিন্ন অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

১১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত এই ভোটে পঞ্চমবারের মতো ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ১৮৯টি ভোটের মধ্যে ১৬০টি ভোট পেয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ৪৭ সদস্যের এই কাউন্সিলে বাংলাদেশ এর আগে ২০০৬, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী ১২ অক্টোবর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬০ ভোট পেয়ে পুনরায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আপনারা জানেন, বিএনপি এবং কিছু কিছু ব্যক্তিবিশেষ এবং চিহ্নিত কয়েকটি সংগঠন ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে বলে অপপ্রচার করছে। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভুল তথ্য উপাত্ত প্রেরণ করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটের মধ্যেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা যে অপপ্রচার চালিয়ে এসেছে, যেভাবে বিদেশিদের বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে, সেগুলো অসার প্রতিপন্ন হয়েছে এবং কাজে আসেনি। বরং প্রমাণ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সঠিক পথেই আছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মানবাধিকারের সর্বোচ্চ লংঘন হয়েছে, যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে বিনা বিচারে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার-জওয়ানকে হত্যা করেছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আগে, বিচারের রায় হয়েছে পরে। দিজ আর ডকুমেন্টেড অর্থাৎ এগুলোর প্রমাণও রয়েছে। জিয়ার আমলে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়াও কম যাননি। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা, আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, খুলনার মনজুর ইমামকে হত্যা, হুমায়ুন কবির বালু থেকে শুরু করে বহু সাংবাদিক হত্যার সাথে খালেদা জিয়ার সরকার যুক্ত ছিল এবং তারা সেগুলোর কোনো সঠিক বিচার করেনি’।

তিনি বলেন, ‘২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে মানবাধিকারের চরম লংঘন হয়েছে, আমরা সেগুলো বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাচ্ছি। জিয়াউর রহমান যাদেরকে হত্যা করেছিল তাদের পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের কান্না’ ঢাকা-চট্টগ্রামহসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ বিএনপি নেতারা এটির কি জবাব দেবেন আমি জানতে চাই।’

বিএনপির সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশের নামে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তাহলে সরকার জনগণের নিরাপত্তা বিধানে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জনগণ যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলে আমাদের দলও সাথে থাকবে। আর বিএনপির পাঁচজন সংসদ সদস্যের কেউ পদত্যাগ করলে সেখানে উপনির্বাচন হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে এসময় মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘বিএনপি বিদ্যুৎ না দিয়ে শুধু খাম্বা দিয়েছিল। আর আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি তখন দেশের মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পেতো তাও সবসময় না, বিদ্যুৎ মাঝে মধ্যে আসতো। আজকে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে। সুতরাং বিএনপি যখন এ ধরণের কথা বলে, তখন শুধু মানুষ নয়, হনুমানও হাসে।’

মতবিনিময় শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান ভার্চুয়াল উপায়ে দিনাজপুর পৌর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

আপলোডকারীর তথ্য

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপি’র অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হলো জাতিসংঘের ভোটে : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:২১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ তথ্যও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিপুল ভোটে আবারও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি এবং দেশবিরোধীদের বিভিন্ন অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

১১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত এই ভোটে পঞ্চমবারের মতো ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ১৮৯টি ভোটের মধ্যে ১৬০টি ভোট পেয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ৪৭ সদস্যের এই কাউন্সিলে বাংলাদেশ এর আগে ২০০৬, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী ১২ অক্টোবর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬০ ভোট পেয়ে পুনরায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আপনারা জানেন, বিএনপি এবং কিছু কিছু ব্যক্তিবিশেষ এবং চিহ্নিত কয়েকটি সংগঠন ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে বলে অপপ্রচার করছে। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভুল তথ্য উপাত্ত প্রেরণ করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটের মধ্যেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা যে অপপ্রচার চালিয়ে এসেছে, যেভাবে বিদেশিদের বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে, সেগুলো অসার প্রতিপন্ন হয়েছে এবং কাজে আসেনি। বরং প্রমাণ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার সঠিক পথেই আছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মানবাধিকারের সর্বোচ্চ লংঘন হয়েছে, যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে বিনা বিচারে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার-জওয়ানকে হত্যা করেছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আগে, বিচারের রায় হয়েছে পরে। দিজ আর ডকুমেন্টেড অর্থাৎ এগুলোর প্রমাণও রয়েছে। জিয়ার আমলে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়াও কম যাননি। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা, আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, খুলনার মনজুর ইমামকে হত্যা, হুমায়ুন কবির বালু থেকে শুরু করে বহু সাংবাদিক হত্যার সাথে খালেদা জিয়ার সরকার যুক্ত ছিল এবং তারা সেগুলোর কোনো সঠিক বিচার করেনি’।

তিনি বলেন, ‘২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে মানবাধিকারের চরম লংঘন হয়েছে, আমরা সেগুলো বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাচ্ছি। জিয়াউর রহমান যাদেরকে হত্যা করেছিল তাদের পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের কান্না’ ঢাকা-চট্টগ্রামহসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ বিএনপি নেতারা এটির কি জবাব দেবেন আমি জানতে চাই।’

বিএনপির সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশের নামে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তাহলে সরকার জনগণের নিরাপত্তা বিধানে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জনগণ যদি প্রতিরোধ গড়ে তোলে আমাদের দলও সাথে থাকবে। আর বিএনপির পাঁচজন সংসদ সদস্যের কেউ পদত্যাগ করলে সেখানে উপনির্বাচন হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে এসময় মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘বিএনপি বিদ্যুৎ না দিয়ে শুধু খাম্বা দিয়েছিল। আর আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি তখন দেশের মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পেতো তাও সবসময় না, বিদ্যুৎ মাঝে মধ্যে আসতো। আজকে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে। সুতরাং বিএনপি যখন এ ধরণের কথা বলে, তখন শুধু মানুষ নয়, হনুমানও হাসে।’

মতবিনিময় শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান ভার্চুয়াল উপায়ে দিনাজপুর পৌর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।