ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, আসামি সাইদুর মুন্সিকে ৮ বছরের জেল সরিষাবাড়ীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ৫ নভেম্বর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ডিসেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

মাদারগঞ্জে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা দিলেন মেয়র মির্জা কবীর

মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর তার নিজ বাড়ির আঙিনায় সামাজিক দূরত্ব মেনে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষদের মানবিক সহায়তার টাকা বিতরণ করেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর তার নিজ বাড়ির আঙিনায় সামাজিক দূরত্ব মেনে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষদের মানবিক সহায়তার টাকা বিতরণ করেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জুতা সেলাই বা সেলুনে কাজ করে দিন আনে দিন খায়, সমাজে এমন পিছিয়ে পড়া মানুষের করোনার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ২০০ কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। ১৫ এপ্রিল মাদারগঞ্জে নিজ বাড়িতে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিজন কর্মহীন মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর মাননিব সহায়তা নিয়ে যাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা সমাজে পিছিয়ে পড়া রবিদাস ও নরসুন্দর পরিবারের সদস্য। সমাজে তাদের কোন ঠাঁই নেই। এই ভয়াবহ করোনায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানের শাটার বন্ধের সাথে সাথে তাদের পেটও বন্ধ। নেই রোজগার, নেই হাতে টাকা-পয়সা বড় অভাবে আছি। এইসব মানুষ জড়ো হয়েছিল বালিজুড়ি বাজারে মানবিক সাহায্য নেওয়ার জন্য।

এই সাহায্য নিতে আসা সেলুন কর্মচারী বিশ্বনাথ শীল, নিরঞ্জন শীল, সুমনশীল বলেন, মাদারগঞ্জ সদরের বালিজুড়ি বাজারের সেলুনে কাজ করে তাদের জীবিকা চলে। করোনার কারণে সেলুন বন্ধ। দিন আনি দিন খাই, এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিপাকে পড়েছি। কেউ দেখে না। আজ মেয়রের সাহায্য পেয়ে আমরা খুশি, যে কেও খোঁজ না নিলেও তিনি আমাদের কথা স্মরণ করেছেন।

পৌরসভার জোনাইল বাজারের পাশে রবিদাসপাড়া। যাদের পেশা হলো জুতা মেরামত আর মরে যাওয়া গরুর চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা। এখন অনেকে পৈত্রিক পেশায় নেই। সেলুনে কাজ বা পাহারাদারের কাজ করেন। কৃষিকাজ ও ব্যবসায় কেউ তাদের নেয় না। দোকানদারিও করতে পারে না। তাই এই করোনার কারণে তাদের রুজি রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। বউ, পোলাপান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে তাদেরকে। তাদের মধ্যে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন পৌর মেয়র। মেয়র নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মানবিক সাহায্য প্রদান করে আসছেন।

সাহায্য পেয়ে হীরা লাল রবিদাস, রাজমহল রবিদাস, নারায়ণ রবিদাস বলেন, কয়েকদিন ধরে হাতে টাকা নেই। বাজার খাওয়া প্রায় বন্ধ। এমন সময় মেয়র সাব এগিয়ে এলেন। তার এই সাহায্য আমাদের অনেক বড় উপকার হয়েছে। এই সাহায্য দিয়ে পরিবার নিয়ে অন্তত কয়েকদিন খেতে পারবো।

এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির জানান, সমাজে পিছিয়ে পড়া লোকদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। করোনার এই পরিস্থিতিতে তারা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই সরকারি সাহায্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেই যা পারি তাই নিয়ে এগিয়ে গেলাম। পৌরসভায় বরাদ্দ পেলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য বা ত্রাণ প্রদান করা করা হবে।

মাদারগঞ্জ সেলুন মালিক সমিতির সভাপতি সুদর্শন চন্দ্র সরকার বলেন, পৌর এলাকায় আমাদের কয়েকশ’ সেলুন কর্মচারী রয়েছেন। তারা পুরোপুরি কর্মহীন। বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। তারা মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না। লোকলজ্জার ভয়ে নীরবে অভাব সহ্য করছেন। এমন সংকটকালে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য মেয়র সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই।

আপলোডকারীর তথ্য

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা দিলেন মেয়র মির্জা কবীর

আপডেট সময় ০৮:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০
মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর তার নিজ বাড়ির আঙিনায় সামাজিক দূরত্ব মেনে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষদের মানবিক সহায়তার টাকা বিতরণ করেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জুতা সেলাই বা সেলুনে কাজ করে দিন আনে দিন খায়, সমাজে এমন পিছিয়ে পড়া মানুষের করোনার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ২০০ কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। ১৫ এপ্রিল মাদারগঞ্জে নিজ বাড়িতে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিজন কর্মহীন মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর মাননিব সহায়তা নিয়ে যাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা সমাজে পিছিয়ে পড়া রবিদাস ও নরসুন্দর পরিবারের সদস্য। সমাজে তাদের কোন ঠাঁই নেই। এই ভয়াবহ করোনায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানের শাটার বন্ধের সাথে সাথে তাদের পেটও বন্ধ। নেই রোজগার, নেই হাতে টাকা-পয়সা বড় অভাবে আছি। এইসব মানুষ জড়ো হয়েছিল বালিজুড়ি বাজারে মানবিক সাহায্য নেওয়ার জন্য।

এই সাহায্য নিতে আসা সেলুন কর্মচারী বিশ্বনাথ শীল, নিরঞ্জন শীল, সুমনশীল বলেন, মাদারগঞ্জ সদরের বালিজুড়ি বাজারের সেলুনে কাজ করে তাদের জীবিকা চলে। করোনার কারণে সেলুন বন্ধ। দিন আনি দিন খাই, এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিপাকে পড়েছি। কেউ দেখে না। আজ মেয়রের সাহায্য পেয়ে আমরা খুশি, যে কেও খোঁজ না নিলেও তিনি আমাদের কথা স্মরণ করেছেন।

পৌরসভার জোনাইল বাজারের পাশে রবিদাসপাড়া। যাদের পেশা হলো জুতা মেরামত আর মরে যাওয়া গরুর চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা। এখন অনেকে পৈত্রিক পেশায় নেই। সেলুনে কাজ বা পাহারাদারের কাজ করেন। কৃষিকাজ ও ব্যবসায় কেউ তাদের নেয় না। দোকানদারিও করতে পারে না। তাই এই করোনার কারণে তাদের রুজি রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। বউ, পোলাপান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে তাদেরকে। তাদের মধ্যে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন পৌর মেয়র। মেয়র নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মানবিক সাহায্য প্রদান করে আসছেন।

সাহায্য পেয়ে হীরা লাল রবিদাস, রাজমহল রবিদাস, নারায়ণ রবিদাস বলেন, কয়েকদিন ধরে হাতে টাকা নেই। বাজার খাওয়া প্রায় বন্ধ। এমন সময় মেয়র সাব এগিয়ে এলেন। তার এই সাহায্য আমাদের অনেক বড় উপকার হয়েছে। এই সাহায্য দিয়ে পরিবার নিয়ে অন্তত কয়েকদিন খেতে পারবো।

এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির জানান, সমাজে পিছিয়ে পড়া লোকদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। করোনার এই পরিস্থিতিতে তারা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই সরকারি সাহায্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেই যা পারি তাই নিয়ে এগিয়ে গেলাম। পৌরসভায় বরাদ্দ পেলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য বা ত্রাণ প্রদান করা করা হবে।

মাদারগঞ্জ সেলুন মালিক সমিতির সভাপতি সুদর্শন চন্দ্র সরকার বলেন, পৌর এলাকায় আমাদের কয়েকশ’ সেলুন কর্মচারী রয়েছেন। তারা পুরোপুরি কর্মহীন। বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। তারা মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না। লোকলজ্জার ভয়ে নীরবে অভাব সহ্য করছেন। এমন সংকটকালে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য মেয়র সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই।