জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদারের চর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি রাস্তা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়। ৫ জুলাই, রবিবার বিকালে রাস্তাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাটি ভরাট করে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে চর মাদার গ্রামের বাসিন্দা নিমনত আলী স্থানীয় বাসিন্দাদের না জানিয়েই তাদের পায়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি আকস্মিক বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় ৩০টিরও বেশি পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, শুধু চলাচলের ওই রাস্তাটুকুই নয়, নিমনত আলীর বসতবাড়ি ও আঙিনার একটি বড় অংশও সরকারি খাস জমির উপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসনের আলটিমেটাম ও জমি উদ্ধার ভূমি রেকর্ড নিশ্চিত হওয়ার পর, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিমনত আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলকৃত সরকারি জমি থেকে রাস্তার অংশটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনের এই কঠোর নির্দেশনার পর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিমনত আলী রাস্তার জন্য দখল করা জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। জমি অবমুক্ত হওয়ার পর পরই চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলামের উদ্যোগে সেখানে মাটি ভরাট করে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চর আমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম বলেন, নিমনত আলী জোরপূর্বক দীর্ঘদিনের পায়ে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতে ৩০টিরও বেশি পরিবারের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ইউএনও মহোদয়ের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। এলাকাবাসী এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। সরকারি খাস জমিতে একটি স্থায়ী রাস্তার সৃষ্টি হয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, জনগণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি খাস জমিতে থাকা জনসাধারণের ব্যবহৃত পথটি অবৈধভাবে দখল করেছিলেন। প্রশাসনের আইনি নির্দেশের পর তিনি দখল ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে মাটি ভরাট করে স্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর হয়েছে।
বিল্লাল হোসেন মন্ডল : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 















