ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্কুলজীবনে শিক্ষকদের স্মৃতি : শাহ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাগল পেল ১২০ পরিবার মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় : মির্জা ফখরুল রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনগণের সঠিক ধারণা নির্ভর করে গণমাধ্যমের ওপর : তথ্যমন্ত্রী কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস সঙ্গীত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অনন্য সেতুবন্ধ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জামালপুরে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও বালুখেকোদের শাস্তির দাবি জানালেন ঠিকাদার সাজ্জাদ

জামালপুর : বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসাইন সাকিব। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মেলান্দহে বালুখেকো রেজাউল করিম, আশরাফ ও তার লোকজনদের চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পনা মাফিক মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব। ১৬ জুলাই, বুধবার দুপুরে জামালপুর শহরের শেখের ভিটা এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব। সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়াত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে আমি উপজেলা এলজিইডি অফিসের আওতায় ফ্ল্যাট প্রকল্পের একই প্যাকেজের তিনটি রাস্তা মেরামতের কাজ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে নেই। রাস্তার কাজের জন্য মাটি কিনতে স্থানীয় জুইস, রেজাউল, আশরাফ নামের লোকদের সাথে যোগাযোগ করি। সে সময় ঠিকাদারি কাজের কথা শুনে রেজাউল চাহিদা মত মাটির ব্যবস্থা করার কথা বলে আমার কাছে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পরে মেলান্দহ উপজেলার পাথালিয়া গ্রামের বুলবুল মেলেটারি নামের একজনের সাথে যোগাযোগ করি এবং মাটি কাটার সকল বন্দোবস্ত সম্পন্ন করি। সে সময় রেজাউল, আশরাফ ও জুইস সাংবাদিকসহ অজ্ঞাত সাদা পোশাকধারী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয়ে দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তখন পুনরায় আমার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রেজাউল ও আশরাফ। সে সময় টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে ‘ডিসি’ বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পুলিশে দেন রেজাউল ও আশরাফ চক্র।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব আরও বলেন, আমি শুধু আমার কাজের স্বার্থেই সেখানে গিয়েছিলাম এবং চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ডিসি’র তকমা লাগিয়ে জেল খাটতে হয়েছে আমাকে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার পুনরায় তদন্তের দাবি করেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন শাকিব। একই সাথে আশরাফ-রেজাউল ও তার লোকজনসহ চাঁদাবাজ চক্রের প্রত্যেক সহযোগীর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিবের বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, স্ত্রী বিপাশা সাকিবসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ জামালপুরের মেলান্দহে ডিসি (জেলা প্রশাসক) পরিচয়ে চাঁদাবাজি করায় সাজ্জাদ হোসাইন শাকিবকে (৩৫) আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও বালুখেকোদের শাস্তির দাবি জানালেন ঠিকাদার সাজ্জাদ

আপডেট সময় ১০:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

জামালপুরের মেলান্দহে বালুখেকো রেজাউল করিম, আশরাফ ও তার লোকজনদের চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পনা মাফিক মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব। ১৬ জুলাই, বুধবার দুপুরে জামালপুর শহরের শেখের ভিটা এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব। সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়াত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে আমি উপজেলা এলজিইডি অফিসের আওতায় ফ্ল্যাট প্রকল্পের একই প্যাকেজের তিনটি রাস্তা মেরামতের কাজ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে নেই। রাস্তার কাজের জন্য মাটি কিনতে স্থানীয় জুইস, রেজাউল, আশরাফ নামের লোকদের সাথে যোগাযোগ করি। সে সময় ঠিকাদারি কাজের কথা শুনে রেজাউল চাহিদা মত মাটির ব্যবস্থা করার কথা বলে আমার কাছে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পরে মেলান্দহ উপজেলার পাথালিয়া গ্রামের বুলবুল মেলেটারি নামের একজনের সাথে যোগাযোগ করি এবং মাটি কাটার সকল বন্দোবস্ত সম্পন্ন করি। সে সময় রেজাউল, আশরাফ ও জুইস সাংবাদিকসহ অজ্ঞাত সাদা পোশাকধারী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয়ে দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তখন পুনরায় আমার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রেজাউল ও আশরাফ। সে সময় টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে ‘ডিসি’ বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পুলিশে দেন রেজাউল ও আশরাফ চক্র।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব আরও বলেন, আমি শুধু আমার কাজের স্বার্থেই সেখানে গিয়েছিলাম এবং চাঁদা না দেওয়ার কারণেই ডিসি’র তকমা লাগিয়ে জেল খাটতে হয়েছে আমাকে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার পুনরায় তদন্তের দাবি করেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন শাকিব। একই সাথে আশরাফ-রেজাউল ও তার লোকজনসহ চাঁদাবাজ চক্রের প্রত্যেক সহযোগীর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন শাকিবের বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, স্ত্রী বিপাশা সাকিবসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ জামালপুরের মেলান্দহে ডিসি (জেলা প্রশাসক) পরিচয়ে চাঁদাবাজি করায় সাজ্জাদ হোসাইন শাকিবকে (৩৫) আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসাইন শাকিব।