ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী মাদারগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী : জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যােগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী সন্ত্রাসমুক্ত হবে জঙ্গল সলিমপুর, এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিঞ্জিরাম নদে শিশু নিখোঁজ ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার নরুন্দিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলাধুলার মাঠ দখল করে সবজি চাষ

স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করেছে সবজি চাষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সবজি চাষ করায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। এতে প্রাতসমাবেশ ও খেলাধুলায় চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা।

জানা গেছে, সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয় ২০১০ সালে। এখানে ১২ জন শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছয়জন এবং চার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে।

প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত অবস্থাতেও চলছে নিয়মিত পাঠদান। বাঁশের খুঁটি দিয়ে টিনশেড শ্রেণি কক্ষে প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাবে অস্বস্তিতে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।নেই।ছাত্রীদের কমনরুম, নেই বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, ছাত্রাবাস, কম্পিউটার অপারেটর ও কম্পিউটার ল্যাব। এমনকি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার জন্য নেই নামাজঘর। সভা-সমাবেশের জন্য নেই কোনো অডিটোরিয়াম। এভাবেই দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েও সুনাম ধরে রেখেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় বিদ্যালয়টির নানা সমস্যার কথা। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সবজি চাষ করায় শিক্ষার্থীরা দৈনিক প্রাতসমাবেশ ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তায় যাতায়াত করে আসছে তারা। নেই কোনো যানবাহন চলার উপযোগী রাস্তা। অজপাড়ায় শিক্ষার আলো ছড়াতে তবুও নিরলসভাবে পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

দশম শ্রেণির ছাত্রী আখিঁ বললো, আমরা খুব কষ্টে ক্লাস করি। নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান না থাকায় সবাই শ্রেণিকক্ষেই নামাজ আদায় করি। নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আনিসুর রহমান বললো, আমাদের বিদ্যালয় মাঠের জমি দখল করে সবজি চাষ করায় আমরা বিপাকে রয়েছি। মাঠে খেলাধুলা করতে পারি না। অপরদিকে ভবন না থাকায় টিনশেড কক্ষে ক্লাস করি। এতে আমাদের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গরমের দিনে আরও বেশি সমস্যা হয় আমাদের। সরকারের কাছে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০০২ সাল থেকে বিদ্যালয়ের জন্য শ্রম দিয়ে আসছি। উর্ধমুখী ভবন, বিজ্ঞানাগার, ছাত্রীদের কমনরুম, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, নামাজঘর না থাকায় চরম বিপাকে রয়েছি। এছাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের মাঠের জমি দখল করে বেড়া দিয়ে বেগুন ও মুলা সবজি চাষ করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত রয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

সবজি চাষের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাকোয়াপাড়া এলাকার শাহীন ও ঘুতু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের পারিবারিক জমির ওপর সবজি চাষ করেছি। এই জমি বিদ্যালয়ের না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আখতার এ প্রতিবেদককে বলেন, সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সবজি চাষের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। এই বিষয়টিসহ বিদ্যালয়ের আরও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স এ প্রতিবেদককে জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে সবজি চাষের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের

সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলাধুলার মাঠ দখল করে সবজি চাষ

আপডেট সময় ০৮:০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সবজি চাষ করায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। এতে প্রাতসমাবেশ ও খেলাধুলায় চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা।

জানা গেছে, সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয় ২০১০ সালে। এখানে ১২ জন শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছয়জন এবং চার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে।

প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত অবস্থাতেও চলছে নিয়মিত পাঠদান। বাঁশের খুঁটি দিয়ে টিনশেড শ্রেণি কক্ষে প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাবে অস্বস্তিতে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।নেই।ছাত্রীদের কমনরুম, নেই বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, ছাত্রাবাস, কম্পিউটার অপারেটর ও কম্পিউটার ল্যাব। এমনকি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার জন্য নেই নামাজঘর। সভা-সমাবেশের জন্য নেই কোনো অডিটোরিয়াম। এভাবেই দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েও সুনাম ধরে রেখেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় বিদ্যালয়টির নানা সমস্যার কথা। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সবজি চাষ করায় শিক্ষার্থীরা দৈনিক প্রাতসমাবেশ ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তায় যাতায়াত করে আসছে তারা। নেই কোনো যানবাহন চলার উপযোগী রাস্তা। অজপাড়ায় শিক্ষার আলো ছড়াতে তবুও নিরলসভাবে পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

দশম শ্রেণির ছাত্রী আখিঁ বললো, আমরা খুব কষ্টে ক্লাস করি। নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান না থাকায় সবাই শ্রেণিকক্ষেই নামাজ আদায় করি। নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আনিসুর রহমান বললো, আমাদের বিদ্যালয় মাঠের জমি দখল করে সবজি চাষ করায় আমরা বিপাকে রয়েছি। মাঠে খেলাধুলা করতে পারি না। অপরদিকে ভবন না থাকায় টিনশেড কক্ষে ক্লাস করি। এতে আমাদের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গরমের দিনে আরও বেশি সমস্যা হয় আমাদের। সরকারের কাছে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০০২ সাল থেকে বিদ্যালয়ের জন্য শ্রম দিয়ে আসছি। উর্ধমুখী ভবন, বিজ্ঞানাগার, ছাত্রীদের কমনরুম, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, নামাজঘর না থাকায় চরম বিপাকে রয়েছি। এছাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের মাঠের জমি দখল করে বেড়া দিয়ে বেগুন ও মুলা সবজি চাষ করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত রয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

সবজি চাষের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাকোয়াপাড়া এলাকার শাহীন ও ঘুতু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের পারিবারিক জমির ওপর সবজি চাষ করেছি। এই জমি বিদ্যালয়ের না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আখতার এ প্রতিবেদককে বলেন, সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সবজি চাষের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। এই বিষয়টিসহ বিদ্যালয়ের আরও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রেরণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স এ প্রতিবেদককে জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে সবজি চাষের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।