
লিয়াকত হোসাইন লায়ন, নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম
জামালপুরের ইসলামপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন হযরত শাহ কামাল (র:) জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের একজন প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় গা ডাকা দিয়েছেন ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মুমিনুল ইসলাম মুন্না। অন্যদিকে ওই হাসপাতালে বারবার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসার নামে কি মানুষ হত্যা চলছে সেই হাসপাতালটিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই শুক্রবার ইসলামপুর পৌরসভার দক্ষিণ গাঁওকুড়া গ্রামের মাহবুবের স্ত্রী আসমাউল হুসনা পুন্নি (২৩) গর্ভবতী অবস্থায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকা রফাদফায় হযরত শাহ কামাল হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. মাহফুজ মিয়াকে দিয়ে অবশ করিয়ে ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মুমিনুল ইসলাম মুন্না। এ সময় কর্তৃপক্ষ রোগীকে বাঁচানো যাচ্ছে না, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহে নিতে বলেন তার পরিবারকে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরেই ওই প্রসূতি মারা যান। তার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক মুমিনুল ইসলাম মুন্নার ভুল চিকিৎসায় মারা যান আসমাউল হুসনা পুন্নি। এ ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক মুমিনুল ইসলাম মুন্না গা ঢাকা দিয়েছেন। উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে এবং তাকে বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিযোগ, অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক কেমনে অস্ত্রোপচার এবং একজন ব্যবস্থাপক হয়ে মো. মাহফুজ মিয়া কেমনে রোগীকে অবশ করেন? এর আগেও ভুল চিকিৎসায় উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ী এলাকার দরিদ্র তাজুল ইসলাম দম্পত্তির নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার নামে কসাইখানায় পরিণত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা আরো বলেন, ওই চিকিৎসক ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত থেকেও পরিচিতি লিখনে ও রোগীর পরামর্শপত্রে ২৫০ শয্যা জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল উল্লেখ করে সেবার নামে ব্যবসা করে আসছেন।
হযরত শাহ কামাল (র:) জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মো. মাইনুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই প্রসূতিকে অস্ত্রোপচারের পরে প্রেসার উঠা-নামা করায় দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক এ এ এম আবু তাহের এ প্রতিবেদককে বলেন, একজন অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক কখনোই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করতে পারে না। এ বিষয়ে জামালপুুরের সিভিল সার্জন ওই ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে। তবে চিকিৎসক মুমিনুল ইসলাম মুন্না ওই ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 










