ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সব জেলায় খাদ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার সহযোগিতা প্রয়োজন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের স্বাধীন গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষায় মিশরের প্রতি ইইউর আহ্বান শব্দদূষণের নতুন ৪টি উৎস শনাক্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে দেওয়ানগঞ্জে জেসমিন প্রকল্পের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দক্ষ নাবিক তৈরিতে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় : নৌপরিবহন সচিব

শেরপুরে জুম ফসল কেটে ফেলায় বন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও

শেরপুরে জুম ফসল কেটে ফেলায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরে জুম ফসল কেটে ফেলায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের শ্রীবর্দীর বনাঞ্চলে রোপণ করা বিপুল পরিমাণ জুম ফসল কেটে ধ্বংস করার অভিযোগে বন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা। ১৩ আগস্ট দুপুরে জেলার পাহাড়ি অঞ্চল ঘেরা তিন উপজেলার ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাসাস), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনসহ প্রায় ১৮টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শ্রীবর্দীর বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে সমাবেশ করে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১২ আগস্ট দুপুরে বালিজুরি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে বনবিভাগের স্টাফ ও কিছু দেশীয় অস্ত্রধারী ক্যাডার খ্রিষ্টান পাড়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের পাঁচজন নারীর জুম ক্ষেত ও বসতভিটার চারা গাছ কেটে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ সময় কেটে ফেলা হয় প্রায় বিশ বিঘা জমিতে রোপণ করা বরবটি, শিমুল আলু, বেগুন ও সুপারি গাছের বাগান। এ ঘটনায় ক্ষতির শিকার হন ভারতী মৃ (৫৫), সভানী সিমসাং (৫৬), বিধবা সবিতা মৃ (৬০), কমলা রেমা (৪৫) ও প্রতিবন্ধী পয়মনি চিরান (৪৬)।

এছাড়া পরবর্তীতে আবারও গাছের চারা রোপণ করলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বনকর্মীরা।

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) শ্রীবর্দী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কাঞ্চন মারাক, কোচ সংগঠনের নেতা মিথুন, গারো নেতা মিখায়েল নেংমিনজা, নারী নেত্রী রিনিকা দালবত, রনু নংরেক বলেন, আমরা যুগ-যুগ ধরে এই জমিতে বসবাস ও জুম চাষ করে আসছি। যে যুগে আমরা টিকে ছিলাম, সে যুগে বন সংরক্ষণ আইনের হদিস ছিলো না। আমরা তখন থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছি। যখন প্রতিটা মুহূর্তে বণ্যপ্রাণী আতঙ্কে জীবন চলতো। তখন পাকিস্তানী শাসন বা সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম নেয়নি।

শ্রীবর্দীর বনাঞ্চলে রোপণ করা বিপুল পরিমাণ জুম ফসল কেটে ধ্বংস করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইংরেজ আমলে আমার পূর্বপুরুষরা টিপু গারোর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে বিদ্রোহ করেছিলো। পরবর্তীতে জানকু পাঠাং ও ধুবরাজ পাঠাং ওই বিদ্রোহে যুক্ত হন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কোনদিন-কোনকালেই সুখে থাকতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে ইংরেজ, জমিদার, ডাকাত, পাকিস্তানী হানাদারদের মাধ্যমে অত্যাচারিত হয়েছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপক্ষে থেকেও এখন প্রতিনিয়ত আমাদের উচ্ছেদ আতঙ্ক নিয়ে বাঁচতে হয়।

এর আগে বহুবার বনবিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের রোপণ করা জুম ফসল নষ্ট করেছে। এবারই প্রথম আমরা ১৮টি সংগঠন একত্রিত হয়ে ফসলের ক্ষতির প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি।

বনের জমিতে জুম চাষ করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ১২ আগস্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের রোপণ করা বিভিন্ন সবজি বাগান কেটে ফেলা হয়েছে। যদি আবারও কেউ চাষাবাদের চেষ্টা করে এমন ব্যবস্থাই নেয়া হবে।

তবে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

শেরপুরে জুম ফসল কেটে ফেলায় বন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও

আপডেট সময় ০৭:৩১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১
শেরপুরে জুম ফসল কেটে ফেলায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের শ্রীবর্দীর বনাঞ্চলে রোপণ করা বিপুল পরিমাণ জুম ফসল কেটে ধ্বংস করার অভিযোগে বন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা। ১৩ আগস্ট দুপুরে জেলার পাহাড়ি অঞ্চল ঘেরা তিন উপজেলার ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাসাস), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনসহ প্রায় ১৮টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শ্রীবর্দীর বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে সমাবেশ করে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১২ আগস্ট দুপুরে বালিজুরি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে বনবিভাগের স্টাফ ও কিছু দেশীয় অস্ত্রধারী ক্যাডার খ্রিষ্টান পাড়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের পাঁচজন নারীর জুম ক্ষেত ও বসতভিটার চারা গাছ কেটে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ সময় কেটে ফেলা হয় প্রায় বিশ বিঘা জমিতে রোপণ করা বরবটি, শিমুল আলু, বেগুন ও সুপারি গাছের বাগান। এ ঘটনায় ক্ষতির শিকার হন ভারতী মৃ (৫৫), সভানী সিমসাং (৫৬), বিধবা সবিতা মৃ (৬০), কমলা রেমা (৪৫) ও প্রতিবন্ধী পয়মনি চিরান (৪৬)।

এছাড়া পরবর্তীতে আবারও গাছের চারা রোপণ করলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বনকর্মীরা।

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) শ্রীবর্দী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কাঞ্চন মারাক, কোচ সংগঠনের নেতা মিথুন, গারো নেতা মিখায়েল নেংমিনজা, নারী নেত্রী রিনিকা দালবত, রনু নংরেক বলেন, আমরা যুগ-যুগ ধরে এই জমিতে বসবাস ও জুম চাষ করে আসছি। যে যুগে আমরা টিকে ছিলাম, সে যুগে বন সংরক্ষণ আইনের হদিস ছিলো না। আমরা তখন থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছি। যখন প্রতিটা মুহূর্তে বণ্যপ্রাণী আতঙ্কে জীবন চলতো। তখন পাকিস্তানী শাসন বা সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম নেয়নি।

শ্রীবর্দীর বনাঞ্চলে রোপণ করা বিপুল পরিমাণ জুম ফসল কেটে ধ্বংস করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইংরেজ আমলে আমার পূর্বপুরুষরা টিপু গারোর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে বিদ্রোহ করেছিলো। পরবর্তীতে জানকু পাঠাং ও ধুবরাজ পাঠাং ওই বিদ্রোহে যুক্ত হন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কোনদিন-কোনকালেই সুখে থাকতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে ইংরেজ, জমিদার, ডাকাত, পাকিস্তানী হানাদারদের মাধ্যমে অত্যাচারিত হয়েছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপক্ষে থেকেও এখন প্রতিনিয়ত আমাদের উচ্ছেদ আতঙ্ক নিয়ে বাঁচতে হয়।

এর আগে বহুবার বনবিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের রোপণ করা জুম ফসল নষ্ট করেছে। এবারই প্রথম আমরা ১৮টি সংগঠন একত্রিত হয়ে ফসলের ক্ষতির প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি।

বনের জমিতে জুম চাষ করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ১২ আগস্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের রোপণ করা বিভিন্ন সবজি বাগান কেটে ফেলা হয়েছে। যদি আবারও কেউ চাষাবাদের চেষ্টা করে এমন ব্যবস্থাই নেয়া হবে।

তবে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।