ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী প্রকৃতির সুরক্ষায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে নতুন অঙ্গীকার প্রায় ২০০ দেশের যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী করা হবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নকলায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়িতে জনদুর্ভোগ, ৫ জনকে জরিমানা মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেন হুমায়ুন, সম্পাদক খাদেমুল বিশ্ব ইজতেমার আগেই মারকাজ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ইসলামপুরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ভিড়

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষীরা

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বিল্লাল হোসেন মন্ডল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সরিষার মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষীরা। উপজেলায় সরিষা ক্ষেতগুলোতে হলুদের সমারোহ। ফুলে ফুলে মৌ মৌ গন্ধ। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছি। পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু আহরণ করছেন মৌ-চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৌমাছির মধু আহরণের ফলে সরিষার ফুলে ফুলে পরাগায়ন ঘটে এবং শতকরা ৩০ ভাগ বেশি ফলন হয়। মধু সংগ্রহে লাভবান হচ্ছেন মৌ-চাষীরা।

দেওয়ানগঞ্জ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে সরিষার বাম্পার ফলন হয় এবং সরিষা ক্ষেতে কৃষক ও মৌ-চাষী উভয়ই লাভবান হয়ে থাকেন। এতে বেকারত্বও দূর হচ্ছে।

চারদিন ধরে সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দর বন গ্রামের ফজর আলীর ছেলে মৌচাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের লংকার চর এলাকার সরিষার ক্ষেতে ৪ শতাধিক মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছেন ১০ জন শ্রমিক নিয়ে।

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মৌ-চাষী রাজু বলেন, সরিষার মধু যেমন খাঁটি তেমনি সুস্বাদু। মানের দিক থেকেও উন্নত হওয়ায় এ মৌসুমে চাহিদাও বেশি। মধু উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা থাকায় ওষুধ, মধু কোম্পানির ও খুচরাভাবে মধু বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন মৌ-চাষীরা। গত বছর বিভিন্ন এলাকার সরিষার ক্ষেতে ৪০০টি কাঠের বাক্স স্থাপন করে অনেক মধু সংগ্রহ করায় লাভবান হয়েছি। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় সরিষার ফুলে ফুলে। পরে ফুলে থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করে। প্রথম ১৫ দিন পর প্রতিটি বাক্স থেকে চাষিরা ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তারপর প্রতি সপ্তাহে একবার ১০ মণের মতো মধু পাওয়া যায়। ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয় মধু।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমি সুন্দর বন এলাকায় বিভিন্ন ফুল যেমন-খলিশা, গোরান, কেউরা, বাইল, হরগোছা এছাড়াও কালিজিরা, ধনিয়া, লিচু, বড়ই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ৪ লাখ টাকার মধু বিক্রি করেছি। তবে গত বারের চেয়ে লাভ কম হবে এবার। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে লোকসানও হতে পারে।

তিনি জানান, ২০০৫ সালে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২০টি বাক্স দিয়ে মৌচাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪০০টি বাক্সে মধু চাষ করছেন। যে কেউ মনোযোগ দিয়ে চাষ করলে অবশ্যই লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি জানান।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সরিষা মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষীরা

আপডেট সময় ০৬:১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০
দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বিল্লাল হোসেন মন্ডল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সরিষার মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষীরা। উপজেলায় সরিষা ক্ষেতগুলোতে হলুদের সমারোহ। ফুলে ফুলে মৌ মৌ গন্ধ। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছি। পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু আহরণ করছেন মৌ-চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৌমাছির মধু আহরণের ফলে সরিষার ফুলে ফুলে পরাগায়ন ঘটে এবং শতকরা ৩০ ভাগ বেশি ফলন হয়। মধু সংগ্রহে লাভবান হচ্ছেন মৌ-চাষীরা।

দেওয়ানগঞ্জ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে সরিষার বাম্পার ফলন হয় এবং সরিষা ক্ষেতে কৃষক ও মৌ-চাষী উভয়ই লাভবান হয়ে থাকেন। এতে বেকারত্বও দূর হচ্ছে।

চারদিন ধরে সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দর বন গ্রামের ফজর আলীর ছেলে মৌচাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের লংকার চর এলাকার সরিষার ক্ষেতে ৪ শতাধিক মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছেন ১০ জন শ্রমিক নিয়ে।

দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষী রিয়াজল ইসলাম রাজু। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মৌ-চাষী রাজু বলেন, সরিষার মধু যেমন খাঁটি তেমনি সুস্বাদু। মানের দিক থেকেও উন্নত হওয়ায় এ মৌসুমে চাহিদাও বেশি। মধু উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা থাকায় ওষুধ, মধু কোম্পানির ও খুচরাভাবে মধু বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন মৌ-চাষীরা। গত বছর বিভিন্ন এলাকার সরিষার ক্ষেতে ৪০০টি কাঠের বাক্স স্থাপন করে অনেক মধু সংগ্রহ করায় লাভবান হয়েছি। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় সরিষার ফুলে ফুলে। পরে ফুলে থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করে। প্রথম ১৫ দিন পর প্রতিটি বাক্স থেকে চাষিরা ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তারপর প্রতি সপ্তাহে একবার ১০ মণের মতো মধু পাওয়া যায়। ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয় মধু।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমি সুন্দর বন এলাকায় বিভিন্ন ফুল যেমন-খলিশা, গোরান, কেউরা, বাইল, হরগোছা এছাড়াও কালিজিরা, ধনিয়া, লিচু, বড়ই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ৪ লাখ টাকার মধু বিক্রি করেছি। তবে গত বারের চেয়ে লাভ কম হবে এবার। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে লোকসানও হতে পারে।

তিনি জানান, ২০০৫ সালে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২০টি বাক্স দিয়ে মৌচাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪০০টি বাক্সে মধু চাষ করছেন। যে কেউ মনোযোগ দিয়ে চাষ করলে অবশ্যই লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি জানান।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সরিষা মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।