ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি
সমস্যা : ইসলামপুরের উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

“স্যার আঙ্গরে স্কুল ফিরিয়ে দিন, পড়বের চাই”

ইসলামপুর : দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রাম থেকে উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ফিরিয়ে আনার দাবি জানায় স্থানীয় শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

“স্যার আন্নেরা আঙ্গরে স্কুল আঙ্গরে ফিরিয়ে দিন। যমুনা নদী ভাঙনের সময় আঙ্গরে স্কুল দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামে নিয়া গেছে। সেখানে তিনটা স্কুল আছে। আঙ্গরে বাড়ির কাছে এহন স্কুল নাই। আমরা স্কুলের অভাবে পড়বের পাইতেছি না। আমরা পড়বের চাই।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানিয়েছে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা গ্রামের তিন শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা গ্রামটি আজ থেকে বিশ বছর আগে যমুনা নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় যমুনাগর্ভে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায় গ্রামটি। ওই সময় উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পার্শবর্তী দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামে স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরের ভাঙাগড়ার একপর্যায়ে যমুনার বুকে জেগে উঠে নতুন চর। ওই চরেই উত্তর জোরডোবা এলাকাটি সমস্ত ভূমি আবারও বিশ বছর পূর্বের অবস্থা ফিরে পায়। আবার শুরু হয়েছে নতুন করে বসতিভিটা স্থাপন ও ফসল উৎপাদন।

ইতিমধ্যে উত্তর জোড়ডোবা গ্রামে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা গড়ে উঠেছে। তবে এই গ্রামের তিন শতাধিক শিশুদের লেখাপড়ার জন্য নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে তিন শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এলাকাবাসী তাদের পুরনো বিদ্যালয়টি আবারও উত্তর জোরডোবা গ্রামে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন।

ইসলামপুর : উত্তর জোরডোবা গ্রামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এলাবাসীর দাবির মুখে ২৮ এপ্রিল সোমবার দুপুরে উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘরটির বর্তমান ও সাবেক অবস্থানের এলাকা দুটি পরিদর্শন করেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি কান্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান চৌধুরী, কুমিরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজম আলী ও উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলাম শামীম।

২৮ এপ্রিল দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনতা উত্তর জোরডোবা গ্রামে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক নায়েব আলী নবাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মন্ডল, সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান ও সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. মুসলিম উদ্দিন আকন্দ, আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

এলাকাবাসীর দাবির মুখে ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বলেন, উত্তর জোরডোবা গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরেপড়া রোধের জন্য উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রাম থেকে স্থানান্তর করে আবারও উত্তর জোরডোবা গ্রামে পুন:স্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

সমস্যা : ইসলামপুরের উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

“স্যার আঙ্গরে স্কুল ফিরিয়ে দিন, পড়বের চাই”

আপডেট সময় ০৫:৫১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

“স্যার আন্নেরা আঙ্গরে স্কুল আঙ্গরে ফিরিয়ে দিন। যমুনা নদী ভাঙনের সময় আঙ্গরে স্কুল দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামে নিয়া গেছে। সেখানে তিনটা স্কুল আছে। আঙ্গরে বাড়ির কাছে এহন স্কুল নাই। আমরা স্কুলের অভাবে পড়বের পাইতেছি না। আমরা পড়বের চাই।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানিয়েছে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা গ্রামের তিন শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা গ্রামটি আজ থেকে বিশ বছর আগে যমুনা নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় যমুনাগর্ভে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায় গ্রামটি। ওই সময় উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পার্শবর্তী দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামে স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরের ভাঙাগড়ার একপর্যায়ে যমুনার বুকে জেগে উঠে নতুন চর। ওই চরেই উত্তর জোরডোবা এলাকাটি সমস্ত ভূমি আবারও বিশ বছর পূর্বের অবস্থা ফিরে পায়। আবার শুরু হয়েছে নতুন করে বসতিভিটা স্থাপন ও ফসল উৎপাদন।

ইতিমধ্যে উত্তর জোড়ডোবা গ্রামে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা গড়ে উঠেছে। তবে এই গ্রামের তিন শতাধিক শিশুদের লেখাপড়ার জন্য নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে তিন শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এলাকাবাসী তাদের পুরনো বিদ্যালয়টি আবারও উত্তর জোরডোবা গ্রামে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন।

ইসলামপুর : উত্তর জোরডোবা গ্রামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এলাবাসীর দাবির মুখে ২৮ এপ্রিল সোমবার দুপুরে উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘরটির বর্তমান ও সাবেক অবস্থানের এলাকা দুটি পরিদর্শন করেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। এ সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি কান্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান চৌধুরী, কুমিরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজম আলী ও উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলাম শামীম।

২৮ এপ্রিল দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনতা উত্তর জোরডোবা গ্রামে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক নায়েব আলী নবাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মন্ডল, সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান ও সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. মুসলিম উদ্দিন আকন্দ, আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

এলাকাবাসীর দাবির মুখে ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বলেন, উত্তর জোরডোবা গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরেপড়া রোধের জন্য উত্তর জোরডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রাম থেকে স্থানান্তর করে আবারও উত্তর জোরডোবা গ্রামে পুন:স্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে।