‘মূসক পরামর্শক’ লাইসেন্স পেলেন বকশীগঞ্জের রাশেদ করিম

মো. রাশেদ করিম

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হতে ‘ভ্যাট কনসালটেন্ট (ভিসি)’ বা মূসক পরামর্শক হিসেবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান মো. রাশেদ করিম। সম্প্রতি তিনি এই লাইসেন্সটি পেয়েছেন। এটি এনবিআর এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বাংলাদেশ ভ্যাট প্রোফেশনালস ফোরাম (বিভিপিএফ) এর সম্মানিত সদস্য। এছাড়া তিনি ২০১২ সালে এনবিআর থেকে একজন আয়কর উপদেষ্টা হিসেবেও সনদপ্রাপ্ত। তিনি ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সম্মানিত সদস্য।

তিনি ২০০৯ সালে দি ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকান্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (ICAB) এর অধীনে M/S AHMED KHAN & CO., CHARTERED ACCOUNTANTS ফার্ম থেকে কৃতিত্বের সাথে CA আর্টিকেলশিপ কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি তার চাকরি জীবনে বাংলাদেশের নামিদামী বিভিন্ন কোম্পানিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সাথে আসীন ছিলেন।

রাশেদ করিম ২০১৭ সালে Food Processing Industry ক্যাটাগরিতে “CFO of the Year” খ্যাতি অর্জন করেন।

রাশেদ করিম ১৯৮২ সালে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধুমালিবাড়ি গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মো. ফজলুল হক ছিলেন একজন সমাজ সেবক।

রাশেদ করিম ছোট বেলা থেকেই একজন মেধাবী ছাত্র ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৭ সালে এসএসসি ও ২০০০ সালে এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে সে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারী তিতুমীর কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে ২০০৫ সালে অনার্স ও ২০০৭ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

সে বিগত কয়েক বছর থেকে একজন স্বাধীন ও সার্বক্ষণিক কর্পোরেট পেশাজীবী হিসেবে ভ্যাট, ট্যাক্স, কাষ্টমস ও কোম্পানী আইন বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সে লক্ষ্যে তিনি KARIM, MARIHA & ASSOCIATES (KMA) নামক কনসালট্যান্সি ফার্ম স্থাপন করেন। সেখানে তিনি হেড অফ ফার্ম হিসেবে কর্মরত।

রাশেদ করিমের স্ত্রী মারিহা রিফাত ইসলাম একজন ব্যবসায়ী ও উক্ত ফার্মের একজন অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। মূলত তার স্ত্রী একজন ব্যবসায়ী পরিবারের কন্যা, রাশেদ করিমের শ্বশুর মাহবুব ইসলাম রুনু একজন
সাবেক সিআইপি ও এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক ও মানিকগঞ্জ জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সাবেক সভাপতি।

একান্ত আলাপচারিতায় রাশেদ করিম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক মুক্ত অর্থনীতিতে তথ্য-উপাত্ত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ। তাই আমি মনে করি, শিক্ষিত ও যুব সমাজকে পরনির্ভরশীল না হয়ে প্রত্যেকেই নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানো উচিৎ। শুধুমাত্র চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এটি সময়ের দাবি। কেননা বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে একটি অতীব সম্ভাবনার দেশ। এমনকি বাংলাদেশে অনেক বড় একটি মার্কেটপ্লেসও রয়েছে।

আমাদের দেশে শ্রমের মূল্য এখনো অনেক কম যেটা আমাদের উদ্যোক্তাদের বেশ ভালোভাবে কাজে লাগানো উচিত। তিনি এও বলেন, একজন সফল উদ্যোক্তাই পারে নিজেকে, পরিবারকে, দেশ, জাতি তথা সমগ্র বিশ্বকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করতে।

তার উপলব্ধি থেকে আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করা উচিত।
বিশেষ করে আমার নিজের জেলার লোকজন ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে তুলনামূলক কম আগ্রহী। তাই আমি মনে করি চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং সৃজনশীল হতে হবে। অর্থাৎ গতানুগতিক ভাবনা বা দৃষ্টিপাত না করে একটু ব্যাতিক্রমভাবে শুরু করলে টেকসই বাণিজ্যের সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

তিনি যুব সমাজ ও নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া যাবেনা। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। দীর্ঘদিন যেকোনো কাজে একাগ্রভাবে লেগে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রত্যেক কাজে বিশেষকরে ব্যবসা বাণিজ্যে নানাবিধ বাধা বিপত্তি আসবেই, এগুলোকে নিজের বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা ও সর্বোপরি সঠিক পরামর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের এই অতি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বা উদ্যোগই একদিন দেশ এমনকি বিশ্ববাসীর কাছে উদাহরণ হতে পারে, যা আজকের প্রতিষ্ঠিত দেশি বিদেশী কোম্পানিগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমনটাই দেখতে পাওয়া যায়। তাই এখন সময় এসেছে নিজের পছন্দ, সামর্থ ও যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন করে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং সে লক্ষ্যে কাজ করা।

আলাপচারিতায় তিনি কিছু কিছু ব্যবসায়ী সমাজকে উদ্দেশ্য করে এও বলেন, যে কেউ কেউ এটা মনে করে ভুল করেন যে, সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি বা কম দিলেই ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায়, বিষয়টি যেমন অনৈতিক তেমনি এটাও সত্য ওই সকল প্রতিষ্ঠান কখনও স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। তাই রাশেদ ব্যবসায়ী সমাজকে পরামর্শ দেন সকল কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন করার জন্য। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের যেমন স্থায়িত্ব বাড়বে তেমনি অনাকাঙ্খিত খরচ থেকে প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে। এতে একটি টেকসই ও সুস্থ ব্যবসায়ী সমাজ গড়ে উঠবে।

সে তাগিদেই রাশেদ ব্যবসায়ী সমাজকে আরও গতিশীল ও সুদূরপ্রসারী করার লক্ষ্যে ঢাকা অফিস এর পাশাপাশি তার নিজ জেলা জামালপুরের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে একত্রে কাজ করার জন্য জামালপুর শহরে খুব শীগ্রই বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনালস ফোরাম (বিভিপিএফ) এর ব্যানারে একটি জেলা অফিস স্থাপন করতে যাচ্ছেন।

তিনি মনে করেন এর ফলে ব্যবসায়ী সমাজ যেমন সঠিক ও সময় উপযোগী পরামর্শ নিয়ে আরও সামনে এগিয়ে যাবে, তেমনি বাংলাদেশ সরকারও পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর, সুখী ও সমৃদ্ধ তথা ‘ভিশন-২০৪১’ সাল এর মধ্যে একটি উন্নত দেশ এ স্বপ্নটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব বলে সে আশা ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে তিনি বলেন, যেকোনো ভাবে দেশ তথা তার নিজ জেলার মানুষের বাণিজ্যিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার সাথে থাকতে পারাটাই তার অন্যতম ইচ্ছা। সর্বোপরি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং নিজের ও পরিবারের সুস্বাস্থ্য কামনা করে সকল মানুষের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন।

প্রয়োজনে রাশেদ করিম তার সাথে নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা অফিসের ঠিকানা
করিম, মারিহা এন্ড অ্যাসোসিয়েটস
১৪/২ তোপখানা রোড, ঢাকা – ১০০০।
মোবাইল – ০১৯১২ ০৮২ ৫৫২
ইমেইল – rashedkarim2014@gmail.com