দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে

দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে টিকিট নেওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের লাইন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে টিকিট নেওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের লাইন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মদন মোহন ঘোষ, দেওয়ানগঞ্জ ॥
ফিরতি টিকিট যেন সোনার হরিণ। রাত জেগে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাচ্ছে না ট্রেন যাত্রীরা। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে কালোবাজারীদের ঠেকাতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করছেন। স্টেশন এলাকায় টিকিট কালোবাজারী হিসেবে পরিচিত মুখ কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছে না। এবার তারা কৌশল পরিবর্তন করে ভাড়ায় নারী-পুরুষ লোকজন নিয়ে কাউন্টারে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করছে কালোবাজারীরা।

স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ মহল কালোবাজারী লোকজনদের দিয়ে লাইনে দাঁড় করে টিকিট নিচ্ছে। কালোবাজারীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ১৪ জুন দেওয়া হয়েছে ২৩ তারিখের টিকিট। আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনের শোভন চেয়ার, এসি প্রথম শ্রেণি, কেবিনসহ টিকিট রয়েছে ১০৭টি। আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ১২২টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। টিকিট বরাদ্দ কম থাকায় ট্রেন যাত্রীরা বিপাকে রয়েছে। রেলের পূর্বাঞ্চলের প্রারম্ভিক স্টেশন দেওয়ানগঞ্জ এখান থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, বালাসি, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজিবপুর, বকশীঞ্জসহ আশেপাশের উপজেলার কয়েক হাজার ট্রেনযাত্রী এ পথে চলাচল করেন।

দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে টিকিট নেওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের লাইন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে টিকিট নেওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের লাইন। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

১৪ জুন বেলা ১০টায় স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, টিকিট নেওয়ার জন্য কাউন্টারে নারী ও পুরুষের দীর্ঘ লাইন। দাঁড়ানোদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহেন শাহ ট্রেন যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ইন্টারনেটে মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে টিকিট প্রদান করার জন্য স্টেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে ট্রেনযাত্রীদেরও সহযোগিতা চান।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুর রশিদ মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেশনের কিছু অসৎ কর্মচারীদের সহায়তায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা ট্রেনের টিকিট পাচ্ছে অথচ আমরা টিকিট পেলাম না।