ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

শেরপুরে উদ্ধার এক্সক্লুসিভ বোমা ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা (মর্টারশেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ১০ মার্চ বিকেলে ওই মর্টারশেলটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ বিকালে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কালাকুমা গ্রামের ফসলি জমির মাটির নিচ থেকে ওই বোমাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, মর্টারশেলটি ধ্বংস করেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসের মেজর নাহিদ শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিকেল চারটা চল্লিশ মিনিটে মর্টারশেলটি মাটির নিচে রেখে এক্সক্লুসিভ দিয়ে সচল করা হয়। পরে মর্টারশেলটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি বছির আহমেদ বাদল জানান, ১৯৬৭ সালে মর্টারশেলটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১২০ এমএম উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা। সম্ভবত পাক-ভারত যুদ্ধের সময় অথবা মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী বোমাটি এ অঞ্চলে ফেলে রেখেছিল। কিন্তু বোমাটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়।

কালাকুমা গ্রামের সোলেমান, হাসমত ও রবিউল জানায়, গত প্রায় ৮/১০ দিন আগে নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভারত থেকে নেমে আসা ভোগাই নদী থেকে নুড়ি পাথর ও বালু তোলার সময় মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি পায়। পরে তা সেখানেই ফেলে আসে নূর ইসলাম। এক পর্যায়ে এটি সাধারণ লোহা ভেবে এর ওজন বিবেচনা করে বিক্রির উদ্দেশে ওই ব্যক্তি তা নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি নূর ইসলাম তার পরিচিতজনদের দেখান। এসময় কেউ কেউ তাকে আড়াই বা তিন কেজি ওজনের বস্তুটি লোহা কেনা বেচার ব্যবসায়ীদের কাছে ২০০/৩০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে শোনা যায় এটি একটি বোমা। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নূর ইসলাম ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এলাকার আতর আলীর জমিতে তা পুঁতে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবির মাধ্যমে ৯ মার্চ বিকালে বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পারে। পরে পুলিশ মর্টারশেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার চারপাশ ঘিরে রাখে।

বোমা ধ্বংসে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিজিবি কর্মকর্তা, নালিতাবাড়ী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ওসি বছির আহমেদ বাদলসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

শেরপুরে উদ্ধার এক্সক্লুসিভ বোমা ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৯:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১
সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা (মর্টারশেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ১০ মার্চ বিকেলে ওই মর্টারশেলটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ বিকালে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কালাকুমা গ্রামের ফসলি জমির মাটির নিচ থেকে ওই বোমাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, মর্টারশেলটি ধ্বংস করেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসের মেজর নাহিদ শারমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিকেল চারটা চল্লিশ মিনিটে মর্টারশেলটি মাটির নিচে রেখে এক্সক্লুসিভ দিয়ে সচল করা হয়। পরে মর্টারশেলটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি বছির আহমেদ বাদল জানান, ১৯৬৭ সালে মর্টারশেলটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১২০ এমএম উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি এক্সক্লুসিভ বোমা। সম্ভবত পাক-ভারত যুদ্ধের সময় অথবা মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী বোমাটি এ অঞ্চলে ফেলে রেখেছিল। কিন্তু বোমাটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়।

কালাকুমা গ্রামের সোলেমান, হাসমত ও রবিউল জানায়, গত প্রায় ৮/১০ দিন আগে নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভারত থেকে নেমে আসা ভোগাই নদী থেকে নুড়ি পাথর ও বালু তোলার সময় মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি পায়। পরে তা সেখানেই ফেলে আসে নূর ইসলাম। এক পর্যায়ে এটি সাধারণ লোহা ভেবে এর ওজন বিবেচনা করে বিক্রির উদ্দেশে ওই ব্যক্তি তা নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। মর্টারশেল সদৃশ্য এ বস্তুটি নূর ইসলাম তার পরিচিতজনদের দেখান। এসময় কেউ কেউ তাকে আড়াই বা তিন কেজি ওজনের বস্তুটি লোহা কেনা বেচার ব্যবসায়ীদের কাছে ২০০/৩০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে শোনা যায় এটি একটি বোমা। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নূর ইসলাম ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এলাকার আতর আলীর জমিতে তা পুঁতে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবির মাধ্যমে ৯ মার্চ বিকালে বিষয়টি থানা পুলিশ জানতে পারে। পরে পুলিশ মর্টারশেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার চারপাশ ঘিরে রাখে।

বোমা ধ্বংসে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিজিবি কর্মকর্তা, নালিতাবাড়ী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ওসি বছির আহমেদ বাদলসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।