ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে সিডসের শিখন বিনময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল কড়ি কাইট্টা উদ্ধারকারী সেই স্কুলছাত্রী রিশাকে পুরস্কৃত করলেন শেরপুর জেলা প্রশাসক কানাডার সঙ্গে ‘শিগগিরই’ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে : ট্রাম্প আল আকাবা সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধারে গ্রাহকদের ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া সার উৎপাদন ২৫ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হাম এলার্মিং! জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল সেবা কার্যক্রম নিয়ে একটি পর্যালোচনা বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন ৪ বইয়ের অনুমোদন

যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া সার উৎপাদন ২৫ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে

সরিষাবাড়ী : যমুনা সার কারখানা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় তীব্র গ্যাস সংকটে আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায়। ২৫ অক্টোবর, রবিবার ভোর ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।

​যমুনা সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের ক্ষমতা নিয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় এই কারখানা থেকে সার সরবরাহ করা হয়।

​এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ আট মাস পর গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করলে কারখানার স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় দীর্ঘদিন সার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।

​কিন্তু এর দুই দিনের মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরবর্তীতে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে গত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল। সচল হওয়ার দুদিনের মাথায় ২৫ অক্টোবর ভোরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড হঠাৎ করেই কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

​এদিকে, কারখানায় বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে সার উৎপাদন ব্যাহত হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে এসব অঞ্চলে তীব্র সার সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে পুনরায় সার উৎপাদনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

​যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে কারখানায় পুরোদমে সার উৎপাদন চলছিল। কিন্তু ২৫ অক্টোবর ভোর থেকে তিতাস গ্যাস কোম্পানি হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যামোনিয়াসহ ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে গ্যাস সংযোগ পুনরায় পেলে যেকোনো সময় আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে সিডসের শিখন বিনময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া সার উৎপাদন ২৫ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় তীব্র গ্যাস সংকটে আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায়। ২৫ অক্টোবর, রবিবার ভোর ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।

​যমুনা সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের ক্ষমতা নিয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় এই কারখানা থেকে সার সরবরাহ করা হয়।

​এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ আট মাস পর গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করলে কারখানার স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় দীর্ঘদিন সার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।

​কিন্তু এর দুই দিনের মাথায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরবর্তীতে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে গত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল। সচল হওয়ার দুদিনের মাথায় ২৫ অক্টোবর ভোরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড হঠাৎ করেই কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

​এদিকে, কারখানায় বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে সার উৎপাদন ব্যাহত হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে এসব অঞ্চলে তীব্র সার সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে পুনরায় সার উৎপাদনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

​যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে কারখানায় পুরোদমে সার উৎপাদন চলছিল। কিন্তু ২৫ অক্টোবর ভোর থেকে তিতাস গ্যাস কোম্পানি হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যামোনিয়াসহ ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে গ্যাস সংযোগ পুনরায় পেলে যেকোনো সময় আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।