ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রথমবারের মত জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের স্বর্ণ জয় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর ট্রাম্পের ছায়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী স্টিভ হিলটন মক্কা ও জেদ্দায় ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি সৌদি আরবের এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি আগের সময়সূচিতে ফিরল মার্কেট-শপিংমল, বন্ধ রাত ৮টায় দেশজুড়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সংকটের মধ্যেও জামালপুরে একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডাক্তার হারুন কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়নের তাগিদ পর্যটনমন্ত্রীর গোয়ালের চর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

দেশজুড়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সংকটের মধ্যেও জামালপুরে একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডাক্তার হারুন

জামালপুর : জামালপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এই বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ।

সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ময়নাতদন্তের মত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। তার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জামালপুরে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি জামালপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। এর আগে জামালপুরে ময়নাতদন্তের কাজ করতেন জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)। ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ জামালপুর মেডিকেল কলেজে যোগদানের পর ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফরেনসিক মেডিসিন এমন একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা শাখা, যেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ, শরীরে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ এবং মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে হয় এই বিভাগের চিকিৎসকদের। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য-প্রমাণ অপরাধ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কারণে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি থাকায় দায়িত্ব পালনে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ নিজেই ময়নাতদন্তের কাজ করেন। বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত উপস্থিতির কারণে তার উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের চাপও রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্কতা, পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন। তাই এই ধরনের দায়িত্ব পালনে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রমে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় ভবিষ্যৎ জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। কোনো চিকিৎসক দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও বদলি, পদোন্নতি, ছুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে তার অনুপস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ফরেনসিক বিভাগ থেকে ময়নাতদন্ত ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রয়োজনীয় মেডিকোলিগ্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সামলাতে হয় তাকে। জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট থাকলেও একাই চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকোলিগ্যাল সেবা এবং একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার হারুন অর রশিদ।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাই কেবল একজন চিকিৎসকের কাজের বিবরণ নয়। বরং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসে। একজন চিকিৎসকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা গেলে কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে কোনো একটি বিভাগের কার্যক্রম যেন নির্দিষ্ট একজন চিকিৎসকের উপস্থিতির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে। সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ময়নাতদন্তের মত বিচারিক গুরুত্বসম্পন্ন কাজে দক্ষ চিকিৎসকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপিএস, ডিএফএম (বিএসএমএমইউ), পিজিটি (মেডিসিন) ও সিসিডি (বারডেম)। বর্তমানে তিনি জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার এই পেশাগত অভিজ্ঞতা ফরেনসিক মেডিসিনের মত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও তিনি ফরেনসিক বিভাগ থেকে ডাবল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভাগের সামগ্রিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে একজন চিকিৎসকের উপর দায়িত্বের চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, অপরাধ তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কারণে এই বিভাগের কার্যক্রমকে সাধারণ চিকিৎসাসেবার বাইরে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের যথার্থতা ও নিরপেক্ষতা সংশ্লিষ্ট তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।

এ অবস্থায় জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামালপুরবাসীরা।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনবল সংকটের কারণে যাতে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প চিকিৎসক প্রস্তুত রাখা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসকদের পদায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নিলে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এতে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সরবরাহের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথমবারের মত জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের স্বর্ণ জয়

দেশজুড়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সংকটের মধ্যেও জামালপুরে একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডাক্তার হারুন

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এই বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ।

সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ময়নাতদন্তের মত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। তার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জামালপুরে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি জামালপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। এর আগে জামালপুরে ময়নাতদন্তের কাজ করতেন জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)। ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ জামালপুর মেডিকেল কলেজে যোগদানের পর ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফরেনসিক মেডিসিন এমন একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা শাখা, যেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ, শরীরে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ এবং মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে হয় এই বিভাগের চিকিৎসকদের। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য-প্রমাণ অপরাধ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কারণে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি থাকায় দায়িত্ব পালনে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাক্তার হারুন-অর-রশিদ নিজেই ময়নাতদন্তের কাজ করেন। বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত উপস্থিতির কারণে তার উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের চাপও রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্কতা, পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন। তাই এই ধরনের দায়িত্ব পালনে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রমে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় ভবিষ্যৎ জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। কোনো চিকিৎসক দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও বদলি, পদোন্নতি, ছুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে তার অনুপস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ফরেনসিক বিভাগ থেকে ময়নাতদন্ত ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রয়োজনীয় মেডিকোলিগ্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সামলাতে হয় তাকে। জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট থাকলেও একাই চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকোলিগ্যাল সেবা এবং একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার হারুন অর রশিদ।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাই কেবল একজন চিকিৎসকের কাজের বিবরণ নয়। বরং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের জনবল ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসে। একজন চিকিৎসকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা গেলে কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে কোনো একটি বিভাগের কার্যক্রম যেন নির্দিষ্ট একজন চিকিৎসকের উপস্থিতির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে। সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ময়নাতদন্তের মত বিচারিক গুরুত্বসম্পন্ন কাজে দক্ষ চিকিৎসকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

ডাক্তার হারুন-অর-রশিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমসিপিএস, ডিএফএম (বিএসএমএমইউ), পিজিটি (মেডিসিন) ও সিসিডি (বারডেম)। বর্তমানে তিনি জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার এই পেশাগত অভিজ্ঞতা ফরেনসিক মেডিসিনের মত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও তিনি ফরেনসিক বিভাগ থেকে ডাবল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভাগের সামগ্রিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে একজন চিকিৎসকের উপর দায়িত্বের চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, অপরাধ তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কারণে এই বিভাগের কার্যক্রমকে সাধারণ চিকিৎসাসেবার বাইরে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের যথার্থতা ও নিরপেক্ষতা সংশ্লিষ্ট তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।

এ অবস্থায় জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামালপুরবাসীরা।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনবল সংকটের কারণে যাতে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প চিকিৎসক প্রস্তুত রাখা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসকদের পদায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নিলে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এতে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সরবরাহের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।