ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি শিশু বক্করের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী ডিবির অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে কষ্টি পাথরসদৃশ বস্তু জব্দ, আটক ১১ যমুনায় ফের ইউরিয়া উৎপাদন শুরু জামালপুরে শরৎকালীন টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত এপেক সম্মেলনের আগে কিমের দরজায় কড়া নাড়ছেন ট্রাম্প বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করলেন অস্ট্রেলীয় টিভি সাংবাদিক কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪ সেনা নিহত, আহত ৩৯ এআইয়ের মাধ্যমে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে বন্ধ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী
বিশ্ব পর্যটন দিবস : রাষ্ট্রপতির বাণী

১ হাজার ৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে : রাষ্ট্রপতি

ঢাকা : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : ফাইল

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদীর ধারা, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে-ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি সরকারি-বেসরকারি সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।’

রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

বিশ্ব পর্যটন দিবস : রাষ্ট্রপতির বাণী

১ হাজার ৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৯:২২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদীর ধারা, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে-ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি সরকারি-বেসরকারি সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।’

রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।