ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী সরকারি খরচায় অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৫ মামলা নিষ্পত্তি ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবকে পদায়ন ইসলামপুরে পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষক মাদারগঞ্জে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত নকলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রাব্বেনুর চৌধুরী, শুভেচ্ছা বিনিময়, আর্থিক সহায়তা প্রদান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বাংলাদেশে ঠাঁই নেই : মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সরিষাবাড়ীতে পূজা মন্ডপে অসুস্থ হয়ে মন্দির কমিটির নেতার মৃত্যু নকলায় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দিলেন এমপি ফাহিম চৌধুরী

মাদারগঞ্জে ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মাদারগঞ্জ : ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা বিনষ্ট হওয়া শঙ্কা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের আলো ঠিকমত না পাওয়ায় বোরোর বীজতলা হলুদ ও ফ্যাকাশে রং ধারণ করছে। ফলে বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এখনও বোরো বীজতলা ক্ষতি হওয়ার মতো পরিবেশ হয়নি। মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকেরা। যেসব চাষি আগাম বীজতলা তৈরি করেছেন, তাদের বীজতলায় তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলার সবুজ রং বদলে গিয়ে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। প্রতিক‚ল আবহাওয়ার মধ্যেও বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেউ বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ ধানের চারায় ছাই ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। তবুও বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার কৃষক জহির উদ্দিন জানান, তিনি ১৪ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ৮৯ জাতের বীজ বপন করেছেন। কিন্তু প্রচন্ড কুয়াশা ও শীতের কারণে চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না। যেগুলো গজিয়েছে, সেগুলোর রংও হলুদ হয়ে গেছে। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মাদারগঞ্জ : ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা বিনষ্ট হওয়া শঙ্কা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

একই গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান রোপণ করতে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু চারা গাছগুলো বেশ পুষ্ট হলেও ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা থেকে রক্ষায় বীজতলায় পলিথিন ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। কুয়াশাজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বীজতলায় পলিথিনের ছাউনি দেওয়াসহ সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বীজতলা ফ্যাকাশে রং ধারণ করলেও এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট সময় ১১:২৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের আলো ঠিকমত না পাওয়ায় বোরোর বীজতলা হলুদ ও ফ্যাকাশে রং ধারণ করছে। ফলে বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এখনও বোরো বীজতলা ক্ষতি হওয়ার মতো পরিবেশ হয়নি। মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকেরা। যেসব চাষি আগাম বীজতলা তৈরি করেছেন, তাদের বীজতলায় তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলার সবুজ রং বদলে গিয়ে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। প্রতিক‚ল আবহাওয়ার মধ্যেও বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেউ বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ ধানের চারায় ছাই ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। তবুও বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার কৃষক জহির উদ্দিন জানান, তিনি ১৪ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ৮৯ জাতের বীজ বপন করেছেন। কিন্তু প্রচন্ড কুয়াশা ও শীতের কারণে চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না। যেগুলো গজিয়েছে, সেগুলোর রংও হলুদ হয়ে গেছে। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মাদারগঞ্জ : ঘন কুয়াশায় বোরোর বীজতলা বিনষ্ট হওয়া শঙ্কা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

একই গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান রোপণ করতে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু চারা গাছগুলো বেশ পুষ্ট হলেও ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা থেকে রক্ষায় বীজতলায় পলিথিন ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু বীজতলায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। কুয়াশাজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বীজতলায় পলিথিনের ছাউনি দেওয়াসহ সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বীজতলা ফ্যাকাশে রং ধারণ করলেও এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।