ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী সরকারি খরচায় অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৫ মামলা নিষ্পত্তি ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবকে পদায়ন ইসলামপুরে পৌর বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষক মাদারগঞ্জে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত নকলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রাব্বেনুর চৌধুরী, শুভেচ্ছা বিনিময়, আর্থিক সহায়তা প্রদান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বাংলাদেশে ঠাঁই নেই : মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সরিষাবাড়ীতে পূজা মন্ডপে অসুস্থ হয়ে মন্দির কমিটির নেতার মৃত্যু নকলায় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দিলেন এমপি ফাহিম চৌধুরী

মাদারগঞ্জে শীতের তীব্রতা, ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানে মানুষের ভিড়

মাদারগঞ্জ : শীতবস্ত্রের দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গেল তিনদিন ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে।

উপজেলার হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের কাপড়ের দোকানগুলো এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা এসব দোকান থেকে শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বালিজুড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কম দামে কাপড় কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। শীতের আগমনকে ঘিরে মৌসুমী হকারদের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে এসব দোকানে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতাই বেশি দেখা গেছে। ফুটপাতের এসব দোকানে শীতের চাদর, জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বল, মোটা কাপড়ের গেঞ্জি, হুডি, মাফলার, কমফোর্টার, হাতমোজা, কানটুপিসহ সব ধরনের শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতা দেখলেই বিক্রেতারা হাঁকডাক করছেন।

মাদারগঞ্জ : শীতবস্ত্রের দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কাপড় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের শাল ও চাদর ৩০০-৫০০ টাকা, সোয়েটার ২৫০-৫৫০ টাকা, কাপড়ের জুতা ১৫০-২৫০ টাকা, জ্যাকেট ৫০০-১০০০ টাকা, গরম কাপড়ের তৈরি প্যান্ট ২০০-৪০০ টাকা, পায়জামা ১২০-৩৫০ টাকা, টুপিওয়ালা গেঞ্জি ১৫০-৪০০ টাকা, টুপি ১০০-২৫০ টাকা, মাফলার ১০০-৩০০ টাকার, কম্বল ১৮০-৩৫০ টাকা, মোটা কাপড়ের গেঞ্জি ২৫০-৩০০টাকা, হাতমোজা ৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বালিজুড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, গত দুই বছর শীতের মৌসুমেও ব্যবসা ভাল হয়নি। তবে এবার শীতের শুরু থেকেই  ক্রেতাদের আগমন বেড়েছে। সোয়েটার, জ্যাকেট, ব্লেজার, উলের পোশাক, চাদর, মাফলার ও কানটুপি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মিলন বাজারের ফুটপাতের দোকানি সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন বলেন, আমার দোকানে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের শীতের কাপড় আছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কাপড়ের চাহিদা বেশি। প্রতিদিন বিক্রি বাড়ছে। লাভও হচ্ছে।

শীতের কাপড় কিনতে আসা তাহমিনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, সামান্য বেতনের চাকরি করি। বড় মার্কেটে গিয়ে কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ফুটপাত থেকেই শীতের পোশাক কিনলাম। তবে গতবারের তুলনায় এবার কিছু কাপড়ের দাম তুলনামূলক একটু বেশি।

আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, শীত বাড়ায় শিশুদের জন্য শীতের কাপড় কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী ফুটপাত থেকেই কিনেছি। দোকানগুলোতে দামের তুলনায় কাপড়ের মান ভালো। আমাদের মত মধ্যবিত্তদের জন্য এই দোকানগুলো অনেক উপকারের।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ একটু বেশি। শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্রের প্রয়োজন। দরিদ্র মানুষেরা শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি অনুরোধ থাকবে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে শীতের তীব্রতা, ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানে মানুষের ভিড়

আপডেট সময় ০৭:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

গেল তিনদিন ধরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে।

উপজেলার হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের কাপড়ের দোকানগুলো এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা এসব দোকান থেকে শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বালিজুড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কম দামে কাপড় কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। শীতের আগমনকে ঘিরে মৌসুমী হকারদের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে এসব দোকানে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতাই বেশি দেখা গেছে। ফুটপাতের এসব দোকানে শীতের চাদর, জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বল, মোটা কাপড়ের গেঞ্জি, হুডি, মাফলার, কমফোর্টার, হাতমোজা, কানটুপিসহ সব ধরনের শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতা দেখলেই বিক্রেতারা হাঁকডাক করছেন।

মাদারগঞ্জ : শীতবস্ত্রের দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কাপড় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের শাল ও চাদর ৩০০-৫০০ টাকা, সোয়েটার ২৫০-৫৫০ টাকা, কাপড়ের জুতা ১৫০-২৫০ টাকা, জ্যাকেট ৫০০-১০০০ টাকা, গরম কাপড়ের তৈরি প্যান্ট ২০০-৪০০ টাকা, পায়জামা ১২০-৩৫০ টাকা, টুপিওয়ালা গেঞ্জি ১৫০-৪০০ টাকা, টুপি ১০০-২৫০ টাকা, মাফলার ১০০-৩০০ টাকার, কম্বল ১৮০-৩৫০ টাকা, মোটা কাপড়ের গেঞ্জি ২৫০-৩০০টাকা, হাতমোজা ৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বালিজুড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, গত দুই বছর শীতের মৌসুমেও ব্যবসা ভাল হয়নি। তবে এবার শীতের শুরু থেকেই  ক্রেতাদের আগমন বেড়েছে। সোয়েটার, জ্যাকেট, ব্লেজার, উলের পোশাক, চাদর, মাফলার ও কানটুপি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মিলন বাজারের ফুটপাতের দোকানি সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন বলেন, আমার দোকানে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামের শীতের কাপড় আছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কাপড়ের চাহিদা বেশি। প্রতিদিন বিক্রি বাড়ছে। লাভও হচ্ছে।

শীতের কাপড় কিনতে আসা তাহমিনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, সামান্য বেতনের চাকরি করি। বড় মার্কেটে গিয়ে কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ফুটপাত থেকেই শীতের পোশাক কিনলাম। তবে গতবারের তুলনায় এবার কিছু কাপড়ের দাম তুলনামূলক একটু বেশি।

আরেক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, শীত বাড়ায় শিশুদের জন্য শীতের কাপড় কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী ফুটপাত থেকেই কিনেছি। দোকানগুলোতে দামের তুলনায় কাপড়ের মান ভালো। আমাদের মত মধ্যবিত্তদের জন্য এই দোকানগুলো অনেক উপকারের।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ একটু বেশি। শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্রের প্রয়োজন। দরিদ্র মানুষেরা শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি অনুরোধ থাকবে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।