ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চরযথার্থপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাদারগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৪ গরু, দগ্ধ আরও দুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যানবাহন চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জামালপুরে বিআরটিএ’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বকশীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বসত ভিটা হারিয়ে দিশেহারা ২০ পরিবার!

বকশীগঞ্জে দশানী নদীর ভাঙনে কতুবের চর ও বাংগাল পাড়া গ্রামের ২০টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

বকশীগঞ্জে দশানী নদীর ভাঙনে কতুবের চর ও বাংগাল পাড়া গ্রামের ২০টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেই সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে বানভাসি পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, দশানী ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বগারচর ও নিলাখিয়া ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে এই এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২১ জুন দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ ছিল চরম দুর্ভোগে। মানুষ তাদের পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ নারী ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাংগালপাড়া গ্রামের নদী ভাঙন বসত ভিটা পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যান। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাংগাল পাড়া, কতুবেরচর, চর আইরমারী, মেরুরচর ইউনিয়নের কলকিহারা গ্রাম, টুপকার চর ও নিলাখিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা ও কুশল নগর গ্রামে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২০ জুন এসব নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ অন্যান্যরা।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু জানান, তার ইউনিয়নের বাংগাল পাড়া ও কতুবেরচর গ্রামে গত সাতদিনে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে ২০টি পরিবারের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার এসব পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বসত ভিটা হারিয়ে নিম্নআয়ের এসব পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বাংগালপাড়া এলাকায় জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে বসত ভিটিা বিলীন হওয়ার আগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এদিকে পানিবন্দি মানুষ কর্মহীন হয়ে পারায় তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে। নিম্নআয়ের এসব পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কষ্টে দিনানিপাত করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে চলতি বন্যায় অনেকটায় বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নদী ভাঙনের শিকার পরিবারকে ১০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বন্যা দুর্গত এলাকায় আরও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

বকশীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বসত ভিটা হারিয়ে দিশেহারা ২০ পরিবার!

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২
বকশীগঞ্জে দশানী নদীর ভাঙনে কতুবের চর ও বাংগাল পাড়া গ্রামের ২০টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেই সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে বানভাসি পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, দশানী ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বগারচর ও নিলাখিয়া ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে এই এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২১ জুন দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ ছিল চরম দুর্ভোগে। মানুষ তাদের পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ নারী ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাংগালপাড়া গ্রামের নদী ভাঙন বসত ভিটা পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যান। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাংগাল পাড়া, কতুবেরচর, চর আইরমারী, মেরুরচর ইউনিয়নের কলকিহারা গ্রাম, টুপকার চর ও নিলাখিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা ও কুশল নগর গ্রামে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২০ জুন এসব নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ অন্যান্যরা।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু জানান, তার ইউনিয়নের বাংগাল পাড়া ও কতুবেরচর গ্রামে গত সাতদিনে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে ২০টি পরিবারের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার এসব পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বসত ভিটা হারিয়ে নিম্নআয়ের এসব পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বাংগালপাড়া এলাকায় জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনে বসত ভিটিা বিলীন হওয়ার আগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এদিকে পানিবন্দি মানুষ কর্মহীন হয়ে পারায় তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে। নিম্নআয়ের এসব পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কষ্টে দিনানিপাত করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে চলতি বন্যায় অনেকটায় বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নদী ভাঙনের শিকার পরিবারকে ১০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বন্যা দুর্গত এলাকায় আরও ত্রাণ বিতরণ করা হবে।