ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ সহিংসতার দ্বিতীয় রাতে বিক্ষিপ্ত অগ্নিসংযোগের পর শ্রীলঙ্কার পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এএফপি’কে এ কথা জানান।

পুলিশ বলেছে, সহিংসতায় সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের হতাশা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এমনকি বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্যকে আরো সহিংসতা এড়াতে ‘দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের আত্মীয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আগুন দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটি আর স্বতঃস্ফূর্ত ক্রোধ নয়, বরং সংঘবদ্ধ সহিংসতা। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয় তাহলে পুরোপুরি নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, ৮৫ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীকে ‘আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহন করতে বলা হয়েছে’ এবং গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পরপরই জারি করা কারফিউ বুধবার সকালে তুলে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহিংসতার কারণে তা আরো ২৪ ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, হোটেলে আগুনের পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা যানবাহনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দু’টি স্থানে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে থাকা বেশ কয়েকজন বিচারকের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান এবং প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ে রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবীতে কয়েক সপ্তাহধরে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সোমবার কলম্বোতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সরকার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমন চালায়। এতে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর জনতা গভীর রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের কয়েক ডজন নেতার বাড়িতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা ঝড়ের বেগে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢ়ুকে পড়ার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্টের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে জনতা তার বাসভবনে হামলা চালায়, মঙ্গলবার ভোরের আগে এক সামরিক অভিযানে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

শ্রীলঙ্কা অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ফুরিয়ে যাওয়ায় সংকট এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার বলেছে, ‘তারা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং সেনা মোতায়েনের বিষয়ে উভয়ই উদ্বিগ্ন।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা জোর দিচ্ছি যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কখনোই সহিংসতা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। তা সামরিক বাহিনী বা বেসাসরিক ইউনিটের যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন।’

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ সহিংসতার দ্বিতীয় রাতে বিক্ষিপ্ত অগ্নিসংযোগের পর শ্রীলঙ্কার পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এএফপি’কে এ কথা জানান।

পুলিশ বলেছে, সহিংসতায় সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের হতাশা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এমনকি বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্যকে আরো সহিংসতা এড়াতে ‘দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের আত্মীয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আগুন দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটি আর স্বতঃস্ফূর্ত ক্রোধ নয়, বরং সংঘবদ্ধ সহিংসতা। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয় তাহলে পুরোপুরি নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, ৮৫ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীকে ‘আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহন করতে বলা হয়েছে’ এবং গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পরপরই জারি করা কারফিউ বুধবার সকালে তুলে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহিংসতার কারণে তা আরো ২৪ ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, হোটেলে আগুনের পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা যানবাহনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দু’টি স্থানে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে থাকা বেশ কয়েকজন বিচারকের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান এবং প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ে রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবীতে কয়েক সপ্তাহধরে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সোমবার কলম্বোতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সরকার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমন চালায়। এতে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর জনতা গভীর রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের কয়েক ডজন নেতার বাড়িতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা ঝড়ের বেগে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢ়ুকে পড়ার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্টের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে জনতা তার বাসভবনে হামলা চালায়, মঙ্গলবার ভোরের আগে এক সামরিক অভিযানে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

শ্রীলঙ্কা অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ফুরিয়ে যাওয়ায় সংকট এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার বলেছে, ‘তারা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং সেনা মোতায়েনের বিষয়ে উভয়ই উদ্বিগ্ন।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা জোর দিচ্ছি যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কখনোই সহিংসতা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। তা সামরিক বাহিনী বা বেসাসরিক ইউনিটের যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন।’