ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা জামালপুরে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে ইউএনও’র অভিযানে ২৩ বস্তা সার জব্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল করিমের দাফন সম্পন্ন, দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে যুবকের কারাদণ্ড দেওয়ানগঞ্জে নদী থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার ডেঙ্গু রোগীদের মশারি দিলেন যুবদলনেতা সোহেল রানা খান মাদারগঞ্জে ফ্রিজে ৪০ কেজি পচা মাংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা শেরপুর বার্ড ক্লাব ও শাইন এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ বিএনপিনেতা শাহ মাসুদের নির্বাচনী গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত অর্ধশত, গুলি বর্ষণ, ৭ কেন্দ্র স্থগিত

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, লুটপাট, বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ঘটনা ঘটেছে। এ সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। ১১ নভেম্বর সকাল থেকে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ চলাকালিন সময়ে লছমনপুরের দুইটি ও চর শেরপুর ইউপির একটি কেন্দ্র সংঘর্ষের সূচনা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, লছমনপুর ইউপির হাতিআগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালিন সময় দুপুরে ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আব্বাস ও পাখা প্রতীকের প্রার্থী উজ্জল সমর্থকরা একে অন্যের প্রতি জোর করে ভোট নেয়ার অভিযোগ এনে প্রথমে বাকযুদ্ধে জড়ায়। পরে ওই দুই মেম্বারের সমর্থকরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আশপাশের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ১০-১২টি বাড়ি বিদ্ধস্ত হয়।

পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ২০-২৫ জন আহত হন এবং তাতা মিয়া (৩৫) নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এছাড়া একই ইউপির অন্য ওয়ার্ডের ঘিনাপাড়া কওমি মাদরাসায় ভোট গ্রহণ চলাকালিন ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আলালউদ্দীন ও তালা প্রতীকের মিজানুর রহমানের সমর্থকরা কারচুপির অভিযোগ এনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় অন্তত আরো ৩০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ১৫-২০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে চরপক্ষীমারী ইউনিয়নেও বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

লছমনপুর ইউপির পাখা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী উজ্জল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভোট বেশী পাওয়ায় প্রতিপক্ষরা আমার উপর হামলা চালায়। এছাড়া তারা আমার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে আমার সব গরু বাছুর লুটপাট করে নিয়ে যায়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ৬-৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওইসব কেন্দ্রে আর ভোট হবে না। কোন কোন কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে এ তথ্যটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি।

তিনি জানান, স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরবর্তী যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ওইসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

স্থানান্তরের আবেদন নেই : জাল কাগজে বদলে গেল সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর ভোটার এলাকা

শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত অর্ধশত, গুলি বর্ষণ, ৭ কেন্দ্র স্থগিত

আপডেট সময় ০৭:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, লুটপাট, বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ঘটনা ঘটেছে। এ সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। ১১ নভেম্বর সকাল থেকে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ চলাকালিন সময়ে লছমনপুরের দুইটি ও চর শেরপুর ইউপির একটি কেন্দ্র সংঘর্ষের সূচনা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, লছমনপুর ইউপির হাতিআগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালিন সময় দুপুরে ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আব্বাস ও পাখা প্রতীকের প্রার্থী উজ্জল সমর্থকরা একে অন্যের প্রতি জোর করে ভোট নেয়ার অভিযোগ এনে প্রথমে বাকযুদ্ধে জড়ায়। পরে ওই দুই মেম্বারের সমর্থকরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আশপাশের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ১০-১২টি বাড়ি বিদ্ধস্ত হয়।

পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ২০-২৫ জন আহত হন এবং তাতা মিয়া (৩৫) নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এছাড়া একই ইউপির অন্য ওয়ার্ডের ঘিনাপাড়া কওমি মাদরাসায় ভোট গ্রহণ চলাকালিন ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আলালউদ্দীন ও তালা প্রতীকের মিজানুর রহমানের সমর্থকরা কারচুপির অভিযোগ এনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় অন্তত আরো ৩০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ১৫-২০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে চরপক্ষীমারী ইউনিয়নেও বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

লছমনপুর ইউপির পাখা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী উজ্জল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভোট বেশী পাওয়ায় প্রতিপক্ষরা আমার উপর হামলা চালায়। এছাড়া তারা আমার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে আমার সব গরু বাছুর লুটপাট করে নিয়ে যায়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ৬-৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওইসব কেন্দ্রে আর ভোট হবে না। কোন কোন কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে এ তথ্যটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি।

তিনি জানান, স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরবর্তী যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ওইসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।