ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান ল্যানসেটের দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে শেরপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ জামালপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ নিরাপদ সড়কের জন্য রোড-শো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

দেওয়ানগঞ্জে নৌকাডুবিতে ২ জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ আরো ৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, জামালপুর
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীতে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া নৌকার নিখোঁজ ছয়জন যাত্রীর মধ্যে ৯ আগস্ট রেজিয়া বেগম (৪০) নামের একজন নারীর লাশ বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবং দুলাল হোসেন (৩২) নামের অপরজনের লাশ পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে। স্বজনরা তাদের লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করেছেন বলে নৌ-থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। ওই ঘটনায় দু’জন নারীসহ চারজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

৭ আগস্ট রাতে নৌকাডুবির ঘটনার পরের দিন ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান শেষে জামালপুর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ওই নৌকার ২৪ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার এবং নাম-পরিচয়সহ আরো ছয়জন যাত্রী নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। নিখোঁজ যাত্রীদের সবাই উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের যমুনার দুর্গম চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ওই ছয়জনের মধ্যে ৯ আগস্ট দু’জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওই দিনের ঘটনায় দু’জন নারীসহ আরো চারজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের মৃত শখমান আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৬৫), দিলবার শিকদারের ছেলে শহীদুর রহমান (৪০), ফজলুল হকের স্ত্রী কাঞ্চন বালা (৫৫) ও ছোকমান আলীর স্ত্রী ওছিয়ত বেগম (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ৯ আগস্ট সারাদিন নিখোঁজ নৌযাত্রীদের সন্ধানে তাদের স্বজনরা নৌকা নিয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছেন।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বাংলারচিঠিডটকমকে জানান, ৭ আগস্ট রাতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ থাকা ওই নৌকার ছয়জন যাত্রীর মধ্যে ৯ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে রেজিয়া বেগমের (৪০) লাশ পাওয়া গেছে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাতিলা এলাকায় যমুনা নদীতে। স্থানীয়রা তাকে সেখানে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা নৌকা নিয়ে সারিয়াকান্দি থেকে রেজিয়া বেগমের লাশ নিয়ে ৯ আগস্ট রাতে তার গ্রামের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জের চর হলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে নিয়ে লাশ দাফন করেছে।

তিনি আরও জানান, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে নৌকাডুবির ঘটনাস্থল যমুনা নদীর টিনেরচর ভেড়াখাওয়ান মাথা নামক স্থানের কাছেই নৌকাটির নিখোঁজ আরেক যাত্রী দুলাল হোসেনের (৩২) লাশ পাওয়া গেছে। তিনি চর হলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামের তৈয়ব আলী শেখের ছেলে। স্থানীয়রা লাশটি ভাসতে দেখে এলাকায় খবর দিলে গ্রামবাসীরা সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে নিয়ে দাফন করেছে।

প্রসঙ্গত, ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের ফুটানি বাজার ঘাট থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একই ইউনিয়নের যমুনার পশ্চিমপাড়ের চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে যাচ্ছিল নৌকাটি। যাত্রীরা সবাই ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন যারা ৭ আগস্ট বিকেলে চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ চাল উত্তোলন করে একই নৌকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। নদীর মাঝামাঝি টিনেরচরের ভেড়াখাওয়া মাথা নামক স্থানে ৩০জন যাত্রীসহ নৌকাটি আকস্মিক ডুবে যায়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

দেওয়ানগঞ্জে নৌকাডুবিতে ২ জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ আরো ৪

আপডেট সময় ১১:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, জামালপুর
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীতে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া নৌকার নিখোঁজ ছয়জন যাত্রীর মধ্যে ৯ আগস্ট রেজিয়া বেগম (৪০) নামের একজন নারীর লাশ বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবং দুলাল হোসেন (৩২) নামের অপরজনের লাশ পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে। স্বজনরা তাদের লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করেছেন বলে নৌ-থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন। ওই ঘটনায় দু’জন নারীসহ চারজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

৭ আগস্ট রাতে নৌকাডুবির ঘটনার পরের দিন ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান শেষে জামালপুর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ওই নৌকার ২৪ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার এবং নাম-পরিচয়সহ আরো ছয়জন যাত্রী নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। নিখোঁজ যাত্রীদের সবাই উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের যমুনার দুর্গম চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ওই ছয়জনের মধ্যে ৯ আগস্ট দু’জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওই দিনের ঘটনায় দু’জন নারীসহ আরো চারজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের মৃত শখমান আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৬৫), দিলবার শিকদারের ছেলে শহীদুর রহমান (৪০), ফজলুল হকের স্ত্রী কাঞ্চন বালা (৫৫) ও ছোকমান আলীর স্ত্রী ওছিয়ত বেগম (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ৯ আগস্ট সারাদিন নিখোঁজ নৌযাত্রীদের সন্ধানে তাদের স্বজনরা নৌকা নিয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছেন।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বাংলারচিঠিডটকমকে জানান, ৭ আগস্ট রাতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ থাকা ওই নৌকার ছয়জন যাত্রীর মধ্যে ৯ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে রেজিয়া বেগমের (৪০) লাশ পাওয়া গেছে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাতিলা এলাকায় যমুনা নদীতে। স্থানীয়রা তাকে সেখানে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা নৌকা নিয়ে সারিয়াকান্দি থেকে রেজিয়া বেগমের লাশ নিয়ে ৯ আগস্ট রাতে তার গ্রামের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জের চর হলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে নিয়ে লাশ দাফন করেছে।

তিনি আরও জানান, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে নৌকাডুবির ঘটনাস্থল যমুনা নদীর টিনেরচর ভেড়াখাওয়ান মাথা নামক স্থানের কাছেই নৌকাটির নিখোঁজ আরেক যাত্রী দুলাল হোসেনের (৩২) লাশ পাওয়া গেছে। তিনি চর হলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামের তৈয়ব আলী শেখের ছেলে। স্থানীয়রা লাশটি ভাসতে দেখে এলাকায় খবর দিলে গ্রামবাসীরা সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে নিয়ে দাফন করেছে।

প্রসঙ্গত, ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের ফুটানি বাজার ঘাট থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একই ইউনিয়নের যমুনার পশ্চিমপাড়ের চরহলকা হাউড়াবাড়ি গ্রামে যাচ্ছিল নৌকাটি। যাত্রীরা সবাই ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন যারা ৭ আগস্ট বিকেলে চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ চাল উত্তোলন করে একই নৌকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। নদীর মাঝামাঝি টিনেরচরের ভেড়াখাওয়া মাথা নামক স্থানে ৩০জন যাত্রীসহ নৌকাটি আকস্মিক ডুবে যায়।