ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যানবাহন চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জামালপুরে বিআরটিএ’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা সরিষাবাড়ীতে অনলাইন জুয়ার ‘সম্রাট’ সবুজ গ্রেপ্তার দুর্গাপূজা : মাদারগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নকলায় পূজা মণ্ডপে জিআর চাল বিতরণ করলেন এমপি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নকলায় মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেরপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ছাত্রদল নেতার উপর হামলা : বিচার দাবি

সরিষাবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ছাত্র পলাশ। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ছাত্র পলাশ। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন্ধুর পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় পলাশ (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া গ্রামে ১৩ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি কান্দারপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নিহত পলাশ স্থানীয় পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পলাশকে নির্যাতনকারী সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জেএসসি পাশের প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়ার জন্য ২ হাজার টাকা নেয় আরেক বন্ধু সাগর। সাগর প্রশংসাপত্র দিতে না পারার কারণে তাদের মধ্যে এ নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পলাশ উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে আব্দুস ছালাম নামের একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় সাগর পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে ফোন করে ফাহিমকে রুদ্র বয়ড়ায় সাগরদের বাড়িতে যেতে বলে।

পরে রাতে ফাহিম ও পলাশসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে টাকা নেওয়ার জন্য সাগরদের বাড়িতে যায়। এ সময় সাগরের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাগর ও তার বাবা আব্দুর রশিদ পলাশদের ওপর হামলা চালায়। তারা পলাশকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তারাই গুরুতর আহত পলাশকে লেপ দিয়ে পেঁচিয়ে স্থানীয় অটোরিকশাভ্যান চালক আলীকে দিয়ে রুদ্রবয়ড়া এলাকার আব্দুল্লাহ মোড়ে রেখে আসতে বলে। এ সময় পলাশের বন্ধুরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাত ৩টার দিকে পলাশ সেখানে মারা যায়।

পলাশের মৃত্যুতে তার পরিবারের আহাজারি। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

এদিকে ঘটনার রাত থেকেই হামলাকারী আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে সাগরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। স্থানীয় তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করেছে। নিহত পলাশের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৪ জানুয়ারি বিকেলে সরিষাবাড়ীতে তাদের বাড়িতে নেয়া হয়।

নিহত পলাশের বাবা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, পলাশ পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। আসছে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জন্য স্কুল থেকে জেএসসির প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে সাগর ২ হাজার টাকা নিয়েছিল। প্রশংসাপত্র না তুলে সে টাকাগুলো খরচ করে ফেলে। টাকা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে পরিকল্পিতভাবে সাগর ও তার বাবা আব্দুর রশিদ বাড়িতে ডেকে নিয়ে পলাশকে হত্যা করেছে। আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহব্বত কবীর বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, পলাশকে কুপিয়ে আহত করার পর থেকেই আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে সাগরসহ পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদেরকে আটক করার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্যাতনকারী সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

সরিষাবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

আপডেট সময় ০৬:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৯
প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ছাত্র পলাশ। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মমিনুল ইসলাম কিসমত, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠি ডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন্ধুর পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় পলাশ (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া গ্রামে ১৩ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি কান্দারপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নিহত পলাশ স্থানীয় পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পলাশকে নির্যাতনকারী সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জেএসসি পাশের প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়ার জন্য ২ হাজার টাকা নেয় আরেক বন্ধু সাগর। সাগর প্রশংসাপত্র দিতে না পারার কারণে তাদের মধ্যে এ নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পলাশ উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে আব্দুস ছালাম নামের একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় সাগর পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে ফোন করে ফাহিমকে রুদ্র বয়ড়ায় সাগরদের বাড়িতে যেতে বলে।

পরে রাতে ফাহিম ও পলাশসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে টাকা নেওয়ার জন্য সাগরদের বাড়িতে যায়। এ সময় সাগরের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাগর ও তার বাবা আব্দুর রশিদ পলাশদের ওপর হামলা চালায়। তারা পলাশকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তারাই গুরুতর আহত পলাশকে লেপ দিয়ে পেঁচিয়ে স্থানীয় অটোরিকশাভ্যান চালক আলীকে দিয়ে রুদ্রবয়ড়া এলাকার আব্দুল্লাহ মোড়ে রেখে আসতে বলে। এ সময় পলাশের বন্ধুরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাত ৩টার দিকে পলাশ সেখানে মারা যায়।

পলাশের মৃত্যুতে তার পরিবারের আহাজারি। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

এদিকে ঘটনার রাত থেকেই হামলাকারী আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে সাগরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। স্থানীয় তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করেছে। নিহত পলাশের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৪ জানুয়ারি বিকেলে সরিষাবাড়ীতে তাদের বাড়িতে নেয়া হয়।

নিহত পলাশের বাবা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, পলাশ পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। আসছে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জন্য স্কুল থেকে জেএসসির প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে সাগর ২ হাজার টাকা নিয়েছিল। প্রশংসাপত্র না তুলে সে টাকাগুলো খরচ করে ফেলে। টাকা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে পরিকল্পিতভাবে সাগর ও তার বাবা আব্দুর রশিদ বাড়িতে ডেকে নিয়ে পলাশকে হত্যা করেছে। আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহব্বত কবীর বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, পলাশকে কুপিয়ে আহত করার পর থেকেই আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে সাগরসহ পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদেরকে আটক করার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্যাতনকারী সাগরের দাদি রওশনারাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।