ডায়াবেটিস রোগীর ভুল ও করনীয়

ডায়াবেটিস রোগীরা সচারাচর যে সব ভুল তথ্য জানেন ও ভুল করেন আমরা সে ভুলগুলো জানব ।
#ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ম সারাদিনে কমপক্ষে ৫-৬বার খাবার খেতে হয়।অধিকাংশ রোগী দিনে তিন বেলায় খায়।

#সকাল বেলার নাস্তাটা রোগীরা ৯-১০টার দিকে খায়।অনেকে আবার খাদ্য তালিকার চেয়ে কম খায় যা একটা ভুল।নির্দেশিত খাবারের চেয়েকম খেলে পরবর্তীসময়ে ক্ষুধার পরিমাণ বেড়ে যায় ও সেই সাথে সুগার কমে যাওয়ার একটা আশংকা তৈরি হয়।

# নাস্তা হতে হবে সকাল ৭-৮টার মাঝে এবং তা অবশ্যই পরিপূর্ণ খাবার হবে। মানে আপনার খাদ্য তালিকায় যদি তিনটি রুটি থাকে তবে তিনটি রুটি অবশ্যই খাবেন, সাথে একটি ডিম অথবা ডালও সবজি বেশি খাবেন ।

# সকাল ও দুপুরের মধ্যবর্তী সময়ে সকাল ১০-১১টায় রোগীরা সচারাচর কিছু খায় না।যা একদমই অনুচিত। মনে রাখবেন প্রতিটা ডায়বেটিসের রোগীরই প্রতি তিন ঘন্টা পর পর হাল্কা কিছু খাওয়া উচিত। মুড়ি, চিনি ছাড়া বিস্কুট, খই অথবা একটি পাতলা রুটি। সেইসাথে টক ফল ইচ্ছামত/ একটি মিষ্টিফল। তিন ঘন্টার বেশি না খেয়ে থাকলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হবার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

# রোগীদের ধারণা যেহেতু একবেলা ভাত খাই, সেক্ষেত্রে পেট ভরে ভাত খাওয়া যাবে।কিন্তু ভাত শর্করা জাতীয় খাবার।শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেলে রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজ আরও বেশি হবে। তাই ভাতের পরিমাণ ঠিক রেখে সবজি, শাক, সালাদ বেশি পরিমানে খাবেন।পেট ভরবে কিন্তু ডায়াবেটিস বাড়বে না।

# গরুর মাংস খেলে ডায়াবেটিস বাড়বে, ডিমের কুসুম খাওয়া যাবেনা এসব তথ্য ভুল। কারণ মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ডায়াবেটিস বাড়ায় না। ভাত রুটি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস বাড়াবে। তাই কোনও একদিন বা কোনো একবেলা মাছ-মাংস ২-৪ টুকরোর বেশি খেলে ডায়াবেটিস বাড়বে না । তবে যারা প্রেসারের ওষুধ খায়, রক্তের চর্বি কমানোর ওষুধ খায় তাদের জন্য গরু, খাসির মাংস ডিমের কুসুম, দুধের সর নিষেধ।

# বিকেলে ক্ষুধা লাগে না, খেতে ইচ্ছে করেনা এটা প্রতিরোধের উপায় হলো দুপুরের খাবার হিসাব মত খাওয়া। তাহলে বিকেল ৫-৬ টার মাঝে অবশ্যই ক্ষুধার উদ্রেক হবে। এই সময় হাল্কা কিছু খাওয়া উচিত।

# রাতের খাবার শেষ করুন রাত ৮-৯ টার মাঝে, ১০-১১টায় নয়। রাতে ঘুমানোর পূর্বে অবশ্যই এক কাপ দুধ/হাল্কা কিছু খেয়ে ঘুামাতে যান ।

# ব্যায়াম সম্পর্কিত ভ্রান্তধারণা হলো, সকালে হাঁটলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে, বিকেলে হাঁটলে থাকবে না। সঠিকতথ্য হলো যে কোনো একবেলা হাঁটুন, হাঁটাতে গতি থাকতে হবে এবং প্রতিদিন একই সময়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটলেই হবে।

# অনেক সময় রোগী শারীরিকভাবে সুস্থবোধ করায় মুখে খাওয়ার বড়ি/ইনসুলিন বন্ধ করে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস খুব বেড়ে যায়।মনে রাখবেন ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতীত কোনও ওষুধবন্ধ করা যাবে না।

ডায়াবেটিস রোগীরা সবসময় চেষ্টা করে তাদের দৈনন্দিন রুটিন মানতে কিন্তু ছোট ছোট ভুলের জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা। নিজের ভুলগুলো শনাক্তের চেষ্টা করুন।ডায়াবেটিস নিয়ে সুস্থজীবন যাপন করুন।

পুষ্টিবিদ জাহিদা সুলতানা

Views 45 ফেসবুকে শেয়ার করুন!
sarkar furniture Ad
Green House Ad