খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যয়ভার দলের: মোশাররফ

mosarrofবাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
খালেদা জিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ভার দলের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একই সঙ্গে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আবারও দাবি জানান তিনি।

১২ জুন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিন বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের যে অবস্থা তাতে তাকে সর্বক্ষণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা একান্তই জরুরি বলে মতামত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জনগণ।

তিনি বলেন, গতকাল থেকে (১১ জুন) দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ-তে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু দেশনেত্রীকে এর আগে সেখানে নেয়া হলে সেখানকার ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আইজি প্রিজন গণমাধ্যমে বলেছেন, কারাবিধি অনুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এমন কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় দেশনেত্রীকে ওই হাসপাতালেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তার এই বক্তব্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত এবং আমাদের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে দেশনেত্রীকে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের অনীহার কারণ বোঝা গেল।

মোশাররফ বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিক কারণে অবহেলা কিংবা বিলম্ব করা হলে তার পরিণাম সরকারের জন্য শুভ হবে না। দেশবাসী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের অমানবিক আচরণে ক্ষুদ্ধ।

আমরা দাবি করছি যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের পরামর্শ অনুযায়ী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে আমরা দাবি করছি, মূল মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার পরেও সরকার নানা অপকৌশলে দেশনেত্রীর মুক্তির পথে যেসব বাধার সৃষ্টি করছে তা বন্ধ করা হোক, যাতে জামিনে মুক্ত হয়ে তার পছন্দের হাসপাতালে নির্ভরযোগ্য ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ প্রমুখ।
সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ।