কামালপুর স্থলবন্দর আধুনিকায়নে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম

আজিজুর রহমান ডল॥
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর বা এলসি স্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব যুক্ত হওয়ার নতুন দরজা খুলতে যাচ্ছে। জামালপুরের কৃতী সন্তান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামালপুর জেলার অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবার কামালপুর স্থলবন্দরটির উন্নয়নও স্থান পেয়েছে। একনেকের সভায় ২৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কামালপুর স্থলবন্দরকে সচল করতে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের ২৫তম একনেক সভায় কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পসহ ৯ হাজার ৫১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ মোট ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৫ একর আয়তন জুড়ে বন্দরটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জের কামালপুর স্থলবন্দরে প্রতি বছর কম পক্ষে ২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হওয়ার অপার সম্ভাবনাময় এই স্থলবন্দরটিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর এলাকাটি মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কামালপুর সীমান্ত থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ থানা সদর। তাই ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য কামালপুর স্থলবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আমদানি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা এ বন্দরটি সুবিধাজনক স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ১৯৫২ সালে কামালপুর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে চালু ছিল। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর এ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯১ সালে এলসি স্টেশন হিসেবে ফের এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও নানা সমস্যা ও জটিলতার কারণে আমদানি-রপ্তানিকারকদের আশানুরূপভাবে টানতে পারেনি এই বন্দরটি।

এ স্থলবন্দরে প্রতিদিন ভারত থেকে কয়লা-পাথর, কাজু বাদাম, মার্বেল স্টোন, গরম মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, সুপারি, আদা, কাঠ, বিভিন্ন প্রকার ফলমূল ও বাঁশ আমদানি হয়ে থাকে। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস জুট, তুলা, প্রাণের জুস, প্লাস্টিক দ্রব্য, সিমেন্ট, শুঁটকি মাছ, মেলামাইনের জিনিসপত্র ও কসমেটিক্স রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব আমদানি রপ্তানির ফলে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া, লাঙ্গলকোর্ট, গারোহিল, মাইনকার চর, তুরা, গোহাটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উজ্জ্বল হয়েছে। কামালপুর এলসি স্টেশনের মাধ্যমে প্রতি বছর পিক-সিজনে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টন কয়লা এবং ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ সিএফটি পাথর আমদানি করা হয়। এ থেকে প্রতি বছর সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা। কিন্তু এর আধুনিকায়নসহ এলসি পদ্ধতির সমস্যা ও জটিলতা নিরসন করা গেলে এই স্থলবন্দর থেকে প্রতি বছর ২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব।

কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, নিকটবর্তী ও সহজ যোগাযোগের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এই কামালপুর স্থলবন্দরটির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকার খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামালপুর জেলার ব্যাপক পরিচিতি ও প্রসারের পাশাপাশি এই স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানিই নয়, কামালপুর স্থলবন্দর সীমান্তের সড়ক পথে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও ভ্রমণের সুবিধার্থে এই বন্দরটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরিত এবং এখানে একটি ইমিগ্রেসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও বর্তমান সরকারের রয়েছে। এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জামালপুর জেলাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

উল্লেখ্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে ৬৪টি জেলার মধ্যে ১০টি উন্নত জেলার তালিকায় জামালপুর জেলাকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, দৃষ্টিনন্দন কালচারাল ভিলেজ প্রকল্প, শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বেশ কয়েকটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দুটি ইপিজেড, তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ, তিনটি বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ সারা জেলায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্প কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিমাসেই যুক্ত হচ্ছে আরও নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প।