বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচন: শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে

মালিরচর হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম
মালিরচর হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি। ছবি : বাংলারচিঠি ডটকম

মোস্তফা মনজু, বকশীগঞ্জ থেকে॥
জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১২টি ভোট কেন্দ্রের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বকশীগঞ্জ এন এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটার ভোট দিতে এসেছেন। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তারা ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। ভোট কক্ষগুলোতে প্রার্থীদের এজেন্ট রয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব, বিজিবি পুলিশ টহল দিচ্ছে।

চরকাউরিয়া মাঝপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল দশটার দিকে একই চিত্র দেখা গেছে। পাশের মাঝপাড়া কওমি মাদরাসা কেন্দ্রেও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই কেন্দ্রসহ তিনটি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী হাকিম মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বললেন, ভোট কেন্দ্রের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। বাইরে সাধারণ জনতার জটলা কমিয়ে দিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছে ভোটারেরা।

বেলা ১১টার দিকে মালিরচর হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, খুবই ধীর গতিতে ভোট গ্রহণ চলছে। নারী ভোটারদের সারিতে ভোটের জন্য অপেক্ষমাণ মরিয়ম আক্তার (৫১) বললেন, মেলাক্ষণ হইলো দাঁড়াই আছি। লাইন ত আগায় না। ভোটার সাহেব আলী বললেন, ভিত্রে স্যারেরা কি করতাছে। কুন সকালে আইছি। এই কেন্দ্রে দায়িত্বেরত জামালপুর সদরের নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আনসার আলী বললেন, বুথ কক্ষে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেরি করা এবং সিল মারার পর ব্যালট পেপার ভাজ করতে না পারার কারণে ভোট গ্রহণ চলছে খুবই ধীর গতিতে। অনেকেই সিল মারার সাথে সাথে ব্যালট পেপার ভাজ করার কারণে দুই দিকে ছাপ লেগে অনেক ব্যালট পেপার নষ্টও করে ফেলছে দেখলাম।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে পৌরসভা গঠনের পর এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে বকশীগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়ে। নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি। বহুল প্রতীক্ষিত সেই ভোটের দিন আজ। ভোট গ্রহণ শেষে ভোটাররা পাবেন তাদের কাঙ্ক্ষিত মেয়র ও কাউন্সিলর। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে শাহীনা বেগম, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ফকরুজ্জামান মতিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে জগ প্রতীকে যুবলীগনেতা নজরুল ইসলাম সওদাগর, মোবাইল প্রতীকে এ এম নুরুজ্জামান জামান, নারিকেল গাছ প্রতীকে আনোয়ার হোসেন তালুকদার বাহাদুর ও কম্পিউটার প্রতীকে সোলাইমান হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়াও ৫৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ২১ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ৩০ হাজার ৫৯১ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন পুলিশ, ১৫ জন আনসার সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ১২টি কেন্দ্রের জন্য ১৮ জন প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম ও একজন বিচারিক হাকিম নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন।