জামালপুর শহরে শিশুধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি ধর্ষকের ১০ বছরের সাজা হওয়ায় মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির বাবাকে কুপিয়ে জখম করেছে ওই আসামির বাবা। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা।
এর আগেও ধর্ষকের বাবার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করলেও ক্ষান্ত হয়নি ধর্ষকের পরিবার। উপরন্তু নানা সময়ে ধর্ষণের শিকার পরিবারের উপর হামলা, চলাচলের রাস্তা বন্ধসহ বাড়িঘর ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকায়। শিশুধর্ষণ মামলার বাদী ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষক কাউছারের পক্ষের শফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী মোছা. কাকলি ও সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষক পলাতক কাউছারকে আসামি করে ২৫ জুলাই, শুক্রবার জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির বাবা বলেছেন, বিবাদীদের সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলছে। ইতোপূর্বে কাউছার আমার শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের দায়ের তার বিরুদ্ধে ১০ বৎসরের সাজা প্রদান করেন আদালত। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদীরা আমাদের প্রতি চরম আক্রোশ ও শত্রুতা পোষণ করে আসছে। এর আগেও আমাদের বিভিন্ন সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেখিয়েছে।
এ অবস্থায় ঘটনার দিন ২৫ জুলাই, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বেলটিয়ার জঙ্গলপাড়া ফকিরবাড়ী আমাদের বসতবাড়িতে বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে দা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে অনধিকারভাবে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন আমরা বিবাদীদের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা দা দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিলে ওই কোপ আমার মাথার ডান পাশে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তারা আমাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিবাদীরা আমাদের বাড়ি হতে বের হতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাদের চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে আটকিয়ে রাখেন। আমি ও আমার পরিবারকে সুযোগমত পেলে তারা যেকোন ধরনের ক্ষতি সাধন করবে। বিবাদীদের হুমকি-ধামকির কারণে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম জানান, ওরাই আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে ও ভাংচুর করেছে। আমরা বাধা দিয়েছি। এ সময় ধস্তাধস্তিতে কার আঘাতে কার ক্ষতি হয়েছে, সেটা আমার জানা নেই। ধর্ষণের ঘটনায় আমরা গ্রামের লোকজন নিয়ে মৌখিকভাবে আপস মীমাংসায় গিয়েছিলাম। তারা আমার কাছ থেকে অনেক টাকাপয়সা নিয়েও শেষপর্যন্ত মীমাংসা হয়নি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাহমুদুল হাসান মুক্তা : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















