ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী প্রকৃতির সুরক্ষায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে নতুন অঙ্গীকার প্রায় ২০০ দেশের যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী করা হবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নকলায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়িতে জনদুর্ভোগ, ৫ জনকে জরিমানা মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেন হুমায়ুন, সম্পাদক খাদেমুল বিশ্ব ইজতেমার আগেই মারকাজ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ইসলামপুরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ভিড়

নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে।

আগামীকাল ২৫ মে, ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য-সংগীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তার লেখায় অন্যায়, অসত্য, নির্যাতন, পরাধীনতার গ্লানি ও শৃঙ্খল মোচনের দীপ্ত উচ্চারণ যুগ যুগ ধরে মানুষকে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাশাপাশি তার রচিত গজল, রাগ-রাগিণী আজও মানব হৃদয়কে দোলা দেয়। নজরুল কেবল সংগ্রাম ও সাম্যের কবি নন, তারুণ্য ও যৌবনের কবি, জাতীয় জাগরণের কবি। তিনি হিন্দু-মুসলিমকে এক সুতোয় সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন। তাইতো কবির কণ্ঠে সচকিত উচ্চারণ, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন-মণি হিন্দু তাহার প্রাণ’।

তিনি বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। যেখানেই অন্যায়-অবিচার, সেখানেই কবির কলম হয়ে উঠেছে খাপছাড়া তলোয়ার। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে যখন নজরুলের শৈশব, কৈশোর অতিক্রান্ত হচ্ছিল উপমহাদেশে তখন স্বাধীনতা আন্দোলন ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সংগ্রাম চলছিল। ১৯২২ সালে ধূমকেতু পত্রিকাতেই নজরুল প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন। নজরুলের লেখনী থেকেই আমরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে নজরুলের গান, কবিতা ও নাটক মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী

নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ১০:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মে ২০২১
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে।

আগামীকাল ২৫ মে, ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য-সংগীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তার লেখায় অন্যায়, অসত্য, নির্যাতন, পরাধীনতার গ্লানি ও শৃঙ্খল মোচনের দীপ্ত উচ্চারণ যুগ যুগ ধরে মানুষকে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাশাপাশি তার রচিত গজল, রাগ-রাগিণী আজও মানব হৃদয়কে দোলা দেয়। নজরুল কেবল সংগ্রাম ও সাম্যের কবি নন, তারুণ্য ও যৌবনের কবি, জাতীয় জাগরণের কবি। তিনি হিন্দু-মুসলিমকে এক সুতোয় সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধতে চেয়েছিলেন। তাইতো কবির কণ্ঠে সচকিত উচ্চারণ, ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন-মণি হিন্দু তাহার প্রাণ’।

তিনি বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। যেখানেই অন্যায়-অবিচার, সেখানেই কবির কলম হয়ে উঠেছে খাপছাড়া তলোয়ার। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে যখন নজরুলের শৈশব, কৈশোর অতিক্রান্ত হচ্ছিল উপমহাদেশে তখন স্বাধীনতা আন্দোলন ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সংগ্রাম চলছিল। ১৯২২ সালে ধূমকেতু পত্রিকাতেই নজরুল প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন। নজরুলের লেখনী থেকেই আমরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে নজরুলের গান, কবিতা ও নাটক মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’