ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চরযথার্থপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাদারগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৪ গরু, দগ্ধ আরও দুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যানবাহন চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জামালপুরে বিআরটিএ’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আসুন এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাকিলের জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়াই

শাকিল

শাকিল

মো. রেজাউল করিম রেজা :: 
মনে করেন, আপনার ছেলে শাকিল এইবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে। হাতে আছে মাত্র দশ দিন। দিন-রাত অধিকাংশ সময় সে পড়া নিয়েই ব্যস্ত। রুটিন ধরে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে সে। কোনো সমস্যা হলে বন্ধু অথবা শিক্ষকের সহায়তা নিচ্ছে। আপনার মনে আছে সে যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়, তখন সে রাতে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘন্টা ঘুমাতো, বাকি সময় পড়তো। এইবারও তার একই অবস্থা এবং আপনিও তার উপর আশাবাদী। হঠাৎ একদিন রাতে ছেলেটা বলছে তার শরীর কেমন যেন করছে। আপনি তাকে বকা দিয়ে বললেন পরীক্ষার আগে এত রাত জেগে পড়লে তো এই অবস্থা হবেই, তারমধ্যে আবার খাওয়া-দাওয়াও ভুলে গেছিস। ঠিকমত ঘুমা তাহলেই ঠিক হয়ে যাবে। ছেলেকে কথাটা যতটা সহজে বললেন, নিজে ততটা সহজে নিতে পারলেন না। মন কেমন যেন খচখচ করছে।

সকালে আপনি কাজে রওনা দিয়েও মাঝ পথ থেকে ফিরে এলেন। ছেলেকে পড়তে দেখে বললেন, তৈরি হয়ে নে। বাজারে যাব। ছেলে কিছুই বোঝল না কিন্তু বাপের কথায় তৈরি হয়ে বাবার সাথে হাঁঠা ধরলো। ছেলে দেখলো বাবা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। যথারীতি ডাক্তার সাহেব দেখলেন। সব দেখে-শুনে ডাক্তার সাহেব কিছু পরীক্ষা করতে দিলেন এবং রক্তের গ্রুপ মিল রেখে রক্ত সংগ্রহ করতে বললেন। ডাক্তারের পরীক্ষাগুলো দেখে আপনার কপালে ভাঁজ পরে গেলো। আপনি সামান্য একজন রিকশাচালক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা মানেই অনেক টাকার ব্যাপার। ছেলেকে বসিয়ে রেখে বাড়ি ফিরে পাশের বাসার ভাবীর কাছ থেকে কিছু টাকা আর নিজের জমানো কিছু টাকা নিয়ে চলে আসলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো দেখে ডাক্তার সাহেবকে কেমন যেন চিন্তিত মনে হলো। ছেলেকে কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে আপনাকে বললেন, আপনার ছেলে একিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। আপনি প্রথম শব্দগুলো না বুঝলেও ক্যান্সার শব্দটি শুনে ঠিকই বুঝেছেন এটা ভয়ানক রোগ। আপনি কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন। ডাক্তার আপনাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। আপনার ছেলে আপনাদের কথা না শুনলেও আপনার কান্নার শব্দ শুনে বোঝে গেলো তার ভয়ানক কিছু হয়েছে, যা সে প্রতিবেদন দেখার সময় ডাক্তারের প্রতিক্রিয়া থেকে কিছুটা অনুমান করেছিল। বাবা এসে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, ‘তোর পরীক্ষা দেওয়া হবে না, কারণ তোর ক্যান্সার’।

হ্যাঁ, এমনটিই ঘটেছে এক বাবার সাথে, একটি সহায়-সম্বলহীন পরিবারের সাথে। ছেলেটি এইবার জামালপুর সদরের নান্দিনা শেখ আনোয়ার হোসেন কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার মাত্র দশ দিন আগে জানতে পারে সে লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে বাঁচতে হলে দরকার প্রায় বিশ লাখ টাকার। বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাকে বাঁচাতে তার পরিবার, সহপাঠী, পরিচিত-অপরিচিতরা স্বপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নান্দিনা এবং এর আশে-পাশের সবার মাঝে একটায় তাড়না বাঁচাতে হবে এই মেধাবীকে।

এখন আপনার কাছে প্রশ্ন, আপনি কি করতেন শাকিল যদি আপনার ছেলে, ভাই বা বন্ধু হতো? আপনি পারতেন তাকে মাত্র কিছু টাকার জন্য মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দিতে? জানি পারতেন না। তাই আসুন আজ শাকিলের পাশে দাঁড়াই। আজ শাকিলের জন্য আমরা, কাল হয়তো আপনার পরিচিত কারো জন্যও এইভাবেই দাঁড়াব। একবার শুধু শাকিল বা তার পরিবারের যায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন। ভাল কাজ আপনার জন্য ভালকিছুই বয়ে আনবে।

যারা তাকে সুস্থ দেখতে চানঃ

বিকাশঃ ০১৭১৯৫৩০০০০, ০১৯৯৬০৮৮৯৭৫, ০১৯২১৯৬০৪৬৬,
রকেটঃ ০১৭১৯৫৩০০০০৩, ০১৮৭৭৪৪৩২৭৩০৬
ডাচ-বাংলা ব্যাংক হিশাব নাম্বার: 206.101.49770, Md. Ataur Rahman জামালপুর শাখা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আসুন এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাকিলের জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়াই

আপডেট সময় ০৮:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯
শাকিল

মো. রেজাউল করিম রেজা :: 
মনে করেন, আপনার ছেলে শাকিল এইবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে। হাতে আছে মাত্র দশ দিন। দিন-রাত অধিকাংশ সময় সে পড়া নিয়েই ব্যস্ত। রুটিন ধরে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে সে। কোনো সমস্যা হলে বন্ধু অথবা শিক্ষকের সহায়তা নিচ্ছে। আপনার মনে আছে সে যখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়, তখন সে রাতে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘন্টা ঘুমাতো, বাকি সময় পড়তো। এইবারও তার একই অবস্থা এবং আপনিও তার উপর আশাবাদী। হঠাৎ একদিন রাতে ছেলেটা বলছে তার শরীর কেমন যেন করছে। আপনি তাকে বকা দিয়ে বললেন পরীক্ষার আগে এত রাত জেগে পড়লে তো এই অবস্থা হবেই, তারমধ্যে আবার খাওয়া-দাওয়াও ভুলে গেছিস। ঠিকমত ঘুমা তাহলেই ঠিক হয়ে যাবে। ছেলেকে কথাটা যতটা সহজে বললেন, নিজে ততটা সহজে নিতে পারলেন না। মন কেমন যেন খচখচ করছে।

সকালে আপনি কাজে রওনা দিয়েও মাঝ পথ থেকে ফিরে এলেন। ছেলেকে পড়তে দেখে বললেন, তৈরি হয়ে নে। বাজারে যাব। ছেলে কিছুই বোঝল না কিন্তু বাপের কথায় তৈরি হয়ে বাবার সাথে হাঁঠা ধরলো। ছেলে দেখলো বাবা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। যথারীতি ডাক্তার সাহেব দেখলেন। সব দেখে-শুনে ডাক্তার সাহেব কিছু পরীক্ষা করতে দিলেন এবং রক্তের গ্রুপ মিল রেখে রক্ত সংগ্রহ করতে বললেন। ডাক্তারের পরীক্ষাগুলো দেখে আপনার কপালে ভাঁজ পরে গেলো। আপনি সামান্য একজন রিকশাচালক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা মানেই অনেক টাকার ব্যাপার। ছেলেকে বসিয়ে রেখে বাড়ি ফিরে পাশের বাসার ভাবীর কাছ থেকে কিছু টাকা আর নিজের জমানো কিছু টাকা নিয়ে চলে আসলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো দেখে ডাক্তার সাহেবকে কেমন যেন চিন্তিত মনে হলো। ছেলেকে কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে আপনাকে বললেন, আপনার ছেলে একিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। আপনি প্রথম শব্দগুলো না বুঝলেও ক্যান্সার শব্দটি শুনে ঠিকই বুঝেছেন এটা ভয়ানক রোগ। আপনি কান্নায় ভেঙ্গে পরলেন। ডাক্তার আপনাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। আপনার ছেলে আপনাদের কথা না শুনলেও আপনার কান্নার শব্দ শুনে বোঝে গেলো তার ভয়ানক কিছু হয়েছে, যা সে প্রতিবেদন দেখার সময় ডাক্তারের প্রতিক্রিয়া থেকে কিছুটা অনুমান করেছিল। বাবা এসে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, ‘তোর পরীক্ষা দেওয়া হবে না, কারণ তোর ক্যান্সার’।

হ্যাঁ, এমনটিই ঘটেছে এক বাবার সাথে, একটি সহায়-সম্বলহীন পরিবারের সাথে। ছেলেটি এইবার জামালপুর সদরের নান্দিনা শেখ আনোয়ার হোসেন কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার মাত্র দশ দিন আগে জানতে পারে সে লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে বাঁচতে হলে দরকার প্রায় বিশ লাখ টাকার। বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাকে বাঁচাতে তার পরিবার, সহপাঠী, পরিচিত-অপরিচিতরা স্বপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নান্দিনা এবং এর আশে-পাশের সবার মাঝে একটায় তাড়না বাঁচাতে হবে এই মেধাবীকে।

এখন আপনার কাছে প্রশ্ন, আপনি কি করতেন শাকিল যদি আপনার ছেলে, ভাই বা বন্ধু হতো? আপনি পারতেন তাকে মাত্র কিছু টাকার জন্য মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দিতে? জানি পারতেন না। তাই আসুন আজ শাকিলের পাশে দাঁড়াই। আজ শাকিলের জন্য আমরা, কাল হয়তো আপনার পরিচিত কারো জন্যও এইভাবেই দাঁড়াব। একবার শুধু শাকিল বা তার পরিবারের যায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন। ভাল কাজ আপনার জন্য ভালকিছুই বয়ে আনবে।

যারা তাকে সুস্থ দেখতে চানঃ

বিকাশঃ ০১৭১৯৫৩০০০০, ০১৯৯৬০৮৮৯৭৫, ০১৯২১৯৬০৪৬৬,
রকেটঃ ০১৭১৯৫৩০০০০৩, ০১৮৭৭৪৪৩২৭৩০৬
ডাচ-বাংলা ব্যাংক হিশাব নাম্বার: 206.101.49770, Md. Ataur Rahman জামালপুর শাখা।