ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চরযথার্থপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাদারগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৪ গরু, দগ্ধ আরও দুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যানবাহন চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জামালপুরে বিআরটিএ’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

জামালপুরে কলেজছাত্রী মৌসুমীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর॥
জামালপুর শহরের গোলাপবাগ এলাকার হাজির মেস থেকে মৌসুমী সুলতানা মৌ (২০) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানা পুলিশ ওই মেসের তার কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের রডের সাথে গলায় উড়নায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। মৌসুমী সুলতানা মৌ জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের রিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

জানা গেছে, মৌসুমীর বাবা রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন আরেক নারীকে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। কলেজছাত্রী মৌসুমী সুলতানা মৌ জামালপুর শহরের গোলাপবাগ এলাকায় হাজি আব্দুর রহিমের চারতলা বাসার নিচতলায় ছাত্রীদের মেসের একটি কক্ষে তিনজনছাত্রীর সাথে থাকতেন। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন তার মামা পরিচয়ে গোলাম রব্বানী শাহীন নামের এক ব্যক্তি ঈদের দু’সপ্তাহ আগে মৌসুমীকে মেসে রেখে যান। ঈদের ছুটির পর মৌসুমী একাই তার মেসে উঠেন। ওই মেসের অন্যছাত্রীরা ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মৌসুমীকে ডাকতে গিয়ে ভেতরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। ওই বাসার অন্য ফ্লাটের লোকজন গিয়ে দরজায় টুকা দিয়ে ডাকাডাকি করেন। এতেও সাড়া না পাওয়ায় সদর থানায় খবর দেওয়া হয়।

সদর থানা পুলিশ রাত দেড়টার দিকে মেসের ওই কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের রডের সাথে উড়না পেচিয়ে ঝুলন্ত মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এ সময় কক্ষ থেকে তার হাতে লেখা একটি চিরকুট এবং মোবাইল ফোন সেট জব্দ করেছে পুলিশ। রাতেই পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ৩১ আগস্ট দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা আনোয়ার হোসেনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করেছে এবং তার এভাবে মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী বলে মৌসুমী তার চিরকুটে উল্লেখ করে গেছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, মৌসুমী নামের কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ না করায় এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। পরবর্তীতে ঝামেলা এড়াতে ময়নাতদন্ত সাপেক্ষেই তার স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে কলেজছাত্রী মৌসুমীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০৭:২৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর॥
জামালপুর শহরের গোলাপবাগ এলাকার হাজির মেস থেকে মৌসুমী সুলতানা মৌ (২০) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর থানা পুলিশ ওই মেসের তার কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের রডের সাথে গলায় উড়নায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। মৌসুমী সুলতানা মৌ জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের রিকশাচালক আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

জানা গেছে, মৌসুমীর বাবা রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন আরেক নারীকে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। কলেজছাত্রী মৌসুমী সুলতানা মৌ জামালপুর শহরের গোলাপবাগ এলাকায় হাজি আব্দুর রহিমের চারতলা বাসার নিচতলায় ছাত্রীদের মেসের একটি কক্ষে তিনজনছাত্রীর সাথে থাকতেন। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন তার মামা পরিচয়ে গোলাম রব্বানী শাহীন নামের এক ব্যক্তি ঈদের দু’সপ্তাহ আগে মৌসুমীকে মেসে রেখে যান। ঈদের ছুটির পর মৌসুমী একাই তার মেসে উঠেন। ওই মেসের অন্যছাত্রীরা ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মৌসুমীকে ডাকতে গিয়ে ভেতরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। ওই বাসার অন্য ফ্লাটের লোকজন গিয়ে দরজায় টুকা দিয়ে ডাকাডাকি করেন। এতেও সাড়া না পাওয়ায় সদর থানায় খবর দেওয়া হয়।

সদর থানা পুলিশ রাত দেড়টার দিকে মেসের ওই কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের রডের সাথে উড়না পেচিয়ে ঝুলন্ত মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এ সময় কক্ষ থেকে তার হাতে লেখা একটি চিরকুট এবং মোবাইল ফোন সেট জব্দ করেছে পুলিশ। রাতেই পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ৩১ আগস্ট দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা আনোয়ার হোসেনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করেছে এবং তার এভাবে মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী বলে মৌসুমী তার চিরকুটে উল্লেখ করে গেছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, মৌসুমী নামের কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ না করায় এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। পরবর্তীতে ঝামেলা এড়াতে ময়নাতদন্ত সাপেক্ষেই তার স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।