ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার : মাহদী আমিন অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সনদ সাময়িক স্থগিত কোরবানির চামড়ার দাম : ঢাকায় ৬২-৬৭ টাকা, ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা জামালপুরে জেন্ডার স্টোরিওটাইপ নিরসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ব্রেন ট্রিউমারে আক্রান্ত শিশু শিফার চিকিৎসা সহায়তার মধ্য দিয়ে মূসা ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ নির্বাচনের কালির দাগ মোছার আগেই বিএনপি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে : ওয়ারেছ আলী মামুন মাহমুদপুরে মেলান্দহ থানার ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত সুস্থ থেকেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন শিক্ষক  

কেন্দুয়া কালিবাড়ীর আজাহার হত্যা মামলার রায়ে একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর আজাহার আলী হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মামলাটির অপর তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। ১৯ জুলাই দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত আসামি তিনজন হলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের ভাই মো. সুমন মিয়া, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু সামা। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জিন্নাহর স্ত্রী হালিমা বেগম ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের মা হবিরন বেগম বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এই মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম মামলা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরৎ আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় গুরুতর আহত আজাহার আলী ও তার বোনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত চার্জগঠন করে। মামলাটি বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এ জিল্লুর রহমান ১৯ জুলাই উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষ সমর্থন করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আবুল কাশেম তারা এবং আসামিপক্ষ সমর্থন করেন আইনজীবী মো. নওয়াব আলী।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কেন্দুয়া কালিবাড়ীর আজাহার হত্যা মামলার রায়ে একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৭:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর আজাহার আলী হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মামলাটির অপর তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। ১৯ জুলাই দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত আসামি তিনজন হলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের ভাই মো. সুমন মিয়া, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু সামা। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জিন্নাহর স্ত্রী হালিমা বেগম ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের মা হবিরন বেগম বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এই মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম মামলা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরৎ আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় গুরুতর আহত আজাহার আলী ও তার বোনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত চার্জগঠন করে। মামলাটি বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এ জিল্লুর রহমান ১৯ জুলাই উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষ সমর্থন করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আবুল কাশেম তারা এবং আসামিপক্ষ সমর্থন করেন আইনজীবী মো. নওয়াব আলী।