ইসলামপুরে যমুনার বামতীরের বাঁধ ভেঙে এলাকায় আতঙ্ক

ইসলামপুরে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাঁধের ৫টি স্থানে ধ্বসে গেছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাঁধের ৫টি স্থানে ধ্বসে গেছে। বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় হুমকীর মুখে পড়েছে পার্থশী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ ঘাট থেকে কুলকান্দি হার্ডপয়েন্ট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হুমকির মুখে পড়বে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ফসলি জমিসহ লক্ষাধিক মানুষ ।

জানা গেছে, যমুনা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ফুটানী বাজার থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়ন পর্যন্ত ৩টি পয়েন্টে ৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৭ সালে শেষ হয় এই প্রকল্পের কাজ। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলালের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় বাঁধটি নির্মাণ করায় যমুনার ভাঙ্গন হ্রাস পায়।

গত বছরের ন্যায় এবারো বাঁধের ৫টি পয়েন্টে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধ্বসে গেছে। এতে হুমকীর মুখে পড়েছে বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ ঘাট থেকে কুলকান্দি হার্ট পয়েন্ট পর্যন্ত ২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পার্থশী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ ঘাট ও শশারিয়াবাড়ী এবং কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি এলাকায় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনার তীব্র স্রোত বাঁধে আঘাত হানছে। আর এতে বাঁধের বিভিন্ন স্থান ধ্বসে যাচ্ছে।

যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধের ভাঙ্গন দ্রুত প্রতিরোধ করা না হলে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নদী ভাঙ্গন ও অকাল বন্যার হাত থেকে ইসলামপুরের ৬টি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চলের মানুষ রক্ষা পাবে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, যমুনার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ধ্বস দেখা দিয়েছে। ধ্বসে যাওয়া অংশে দ্রুত বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।

sarkar furniture Ad
Green House Ad