ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের এক-দুটি স্থাপনায় এখনো হামলা চালানো বাকি: ট্রাম্প দূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে কার্যকর হলো নতুন কড়াকড়ি সোমবার থেকে ফ্রান্সে আবারও শুরু হচ্ছে হাই স্কুল অবরোধ : শিক্ষার্থী সংগঠন পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে: নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের আগামী অধিবেশনেই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত আইন পাস হবে সরিষাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মনিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক জামালপুরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত ইসলামপুরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী

২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ

মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত মনোহর আলী ও বজলুর রশীদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। ২০ জুন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। নিহত বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৫ মে, সোমবার ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। ২০ জুন, শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।

জানা গেছে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে দীর্ঘ ২৬ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

২০ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদ ও সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। তাদের জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।


মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত বজলুর রশীদের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব- জানি না।

বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।

৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ

আপডেট সময় ১১:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। ২০ জুন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। নিহত বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৫ মে, সোমবার ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। ২০ জুন, শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।

জানা গেছে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে দীর্ঘ ২৬ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

২০ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদ ও সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। তাদের জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।


মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত বজলুর রশীদের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব- জানি না।

বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।