প্রতারণামূলক তথ্যের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে বিয়ে এবং সাত মাস পর তালাক হয়ে যাওয়ার পর হুসনে আরা নামে এক নারীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে সরিষাবাড়ীর রাশেদ নামে মামলাবাজ এক প্রতারক। লিখিতভাবে থানায় এবং আদালতে প্রতারণার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী হুসনে আরা ও তার ভাই মাহমুদুল হক সৌরভ।
মামলা ও তাদের আলোচনা সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার শুয়াকৈর বড়বাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে রাশেদ মিয়া (৩২) ২০২৪ সালের ১ মে প্রতারণামূলক তথ্য দিয়ে বিয়ে করে জামালপুর পৌরসভার পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন খুপিবাড়ি গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে হুসনে আরাকে (২৮)।
হুসনে আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২৪ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর দরিদ্র মা আমাদের ভাই-বোনকে অনেক কষ্টে লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে এসেছেন। রাশেদের পরোচণয় এবং ঘটকের মধ্যস্থতায় আমার মা আমাকে বিয়ে দেন। রাশেদ সরকারি চাকরিজীবী এই মিথ্যা তথ্যে বিয়ে হয়। বিয়ের পর যখন রাশেদ তাদের বাড়ি আমাকে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকে তখনই আমার মা, ভাই, বোনদের রাশেদ সম্পর্কে সন্দেহ হয়।
তিনি আরও বলেন, খোঁজ নিতে গেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। অশান্তি শুরু হয়। জবাব চাইতে গেলে হুসনে আরার প্রতি নেমে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। রাশেদ তার ভাই পুলিশের এসিআই এর প্রভাব দেখান। রাশেদের নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বিয়ের সাত মাসের মাথায় সংসার ভেঙে যায়। জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ মহাবিদ্যালয়ে এম এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত হুসনে আরাকে পারিবারিকভাবে নরসিংদির বাসিন্দা ইমন মিয়ার সাথে বিয়ে দেওয়া হয়।
হুসনে আরার ভাই মাহমুদুল হাসান সৌরভ বলেন, রাশেদের সাথে আমার বোনের বিচ্ছেদের পর আমাদের পরিবারের উপর তিনি হুমকি, হামলা, একের পর এক মামলা দিয়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমার বোন গর্ভবর্তী হওয়র পরও তাকে নিয়ে মামলার মাধ্যমে হয়রানি করছে। আমার ভগ্নিপতি ইমন মিয়ার উপরও মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার বোনের এই সংসারেও অশান্তির কালোমেঘ ছড়িয়ে দিয়েছে।
হুসনে আরার বিধবা বৃদ্ধ মা বলেন, আমরা শান্তি মত বাঁচতে চাই। আমার মেয়ের সংসারে যেন কোন ক্ষতি না হয় সে ব্যপারে তিনি সকলের কাছে বিচার চান। মামলাবাজ প্রতারক রাশেদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 


















