ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভরা বর্ষায়ও নেই পানি, পাট জাগ নিয়ে বিপাকে ইসলামপুরের কৃষকেরা

ইসলামপুর : পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না পাটচাষিরা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ভরা বর্ষা মওসুমেও এ বছর অধিকাংশ এলাকায় খাল বিল, নদী, নালাগুলো পানিশূন্য। বন্যা না হওয়ায় খাল-বিল, পুকুর-ডোবা কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। এতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার গোয়ালের চর, গাইবান্ধা, চর গোয়ালিনী, চর পুটিমারী, পার্র্থশী, পলবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না কৃষক। বন্যার পানির আশায় পাট না কেটে ক্ষেতেই রেখে দিচ্ছেন অনেকে। আবার যারা কিছু পাট কেটেছেন, তাদের অনেকেই অটোভ্যান, ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও মহিষের গাড়িতে করে দূরে নিয়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অল্প পানিতে পাট পঁচানোর কারণে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে আঁশ। অনেকেই পাট কেটে জমির পাশে ফেলে রেখেছেন। এতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়সহ দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

মোহাম্মদপুর এলাকার কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এবার একটু বৃষ্টির হলেও বন্যার কারণে অন্য বছর এ সময় পানিতে টইটম্বুর থাকে খাল-বিল। এ বছর কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। বাড়ির পার্শে পুকুরে সামান্য বৃষ্টির পানি জমছে। উপায় না পেয়ে সেখানেই পাট জাগ দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

পলবান্ধা এলাকার কৃষক মজির শেখ (৫০) বলেন, আগে যে ডোবার পানি থাকত, এখন তা একদম শুকিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অন্যের পুকুরে জায়গা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতেছি। মোজাআটা গ্রামে পাটচাষি দুদু শেখ (৫৫) বলেন, কয়েকদিন আগে দুই বিঘা জমির পাট কেটেছি। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো পানি নাই। রোদে পাট শুকায়া যাচ্ছে, এবার মনে হয় ক্ষতি হবেই।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলায় এবার সাত হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার প্রতি বিঘায় গড়ে নয় মণ করে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্যা না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ফলন ও দাম অনুযায়ী এবার কৃষক পাট চাষে লাভবান হবেন আশারাখি। বন্যা না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

ভরা বর্ষায়ও নেই পানি, পাট জাগ নিয়ে বিপাকে ইসলামপুরের কৃষকেরা

আপডেট সময় ০৩:১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

ভরা বর্ষা মওসুমেও এ বছর অধিকাংশ এলাকায় খাল বিল, নদী, নালাগুলো পানিশূন্য। বন্যা না হওয়ায় খাল-বিল, পুকুর-ডোবা কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। এতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার গোয়ালের চর, গাইবান্ধা, চর গোয়ালিনী, চর পুটিমারী, পার্র্থশী, পলবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না কৃষক। বন্যার পানির আশায় পাট না কেটে ক্ষেতেই রেখে দিচ্ছেন অনেকে। আবার যারা কিছু পাট কেটেছেন, তাদের অনেকেই অটোভ্যান, ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও মহিষের গাড়িতে করে দূরে নিয়ে জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অল্প পানিতে পাট পঁচানোর কারণে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে আঁশ। অনেকেই পাট কেটে জমির পাশে ফেলে রেখেছেন। এতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়সহ দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

মোহাম্মদপুর এলাকার কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে এবার একটু বৃষ্টির হলেও বন্যার কারণে অন্য বছর এ সময় পানিতে টইটম্বুর থাকে খাল-বিল। এ বছর কোথাও পর্যাপ্ত পানি নেই। বাড়ির পার্শে পুকুরে সামান্য বৃষ্টির পানি জমছে। উপায় না পেয়ে সেখানেই পাট জাগ দিতে হচ্ছে। পানির অভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

পলবান্ধা এলাকার কৃষক মজির শেখ (৫০) বলেন, আগে যে ডোবার পানি থাকত, এখন তা একদম শুকিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অন্যের পুকুরে জায়গা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতেছি। মোজাআটা গ্রামে পাটচাষি দুদু শেখ (৫৫) বলেন, কয়েকদিন আগে দুই বিঘা জমির পাট কেটেছি। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো পানি নাই। রোদে পাট শুকায়া যাচ্ছে, এবার মনে হয় ক্ষতি হবেই।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলায় এবার সাত হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার প্রতি বিঘায় গড়ে নয় মণ করে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্যা না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ফলন ও দাম অনুযায়ী এবার কৃষক পাট চাষে লাভবান হবেন আশারাখি। বন্যা না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি রয়েছে।