বাংলাদেশের কিংবদন্তি নাট্যকার জামালপুরের কৃতী সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৮৩তম জন্মদিন ১৩ জুলাই রবিবার জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হয়। জামালপুরের ভাষা ও মুক্তিসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু। ভাষা ও মুক্তিসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউণ্ডেশনের সভাপতি কবি আলী জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক, উপন্যাসিক মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাট্যকার ও গবেষক দিলদার হোসেন, অধ্যাপক মাসুম আলম খান, প্রবীণ সাংবাদিক উৎপল কান্তি ধর, অধ্যাপক আলী আকবর ফকির, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম দুলাল, আব্দুল্লাহ আল মামুনের খালাত বোন মনোয়ারা খানম, লেখক ও গবেষক আসিফ হাসান, বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা লেখক শাহ মো. মনিরুজ্জামান, সাংবাদিক মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান লিয়া, মারিয়া কবির প্রমা, আব্দুল্লাহ আল ইজতিহাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্বাধীন ও নাট্যনীড়ের সাধারণ সম্পাদক সাগর মুখার্জী।

আলোচনা সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই জার্মান প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক আব্দুল্লাহ আল হারুন। আলোচনা সভার আগে নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের জীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে মেরাজ ফকিরের ‘মা’ নাটক থেকে অংশ নিয়ে শিশুরা পরিবেশন করে নাট্যপাঠ। আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্মিত চলচ্চিত্র থেকে বাছাইকৃত গান নিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশিত সংগীত দিয়ে ৫ ঘন্টাব্যপী অনুষ্ঠানের সমাপ্ত হয়।
জেলা পরিষদের হলপূর্ণ দর্শক, শ্রোতা পুরো অনুষ্ঠান মনোযোগের সাথে উপভোগ করেন অনুষ্ঠান। আলোচকেরা জামালপুরে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে চমৎকার আয়োজন করার জন্য ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশের সুস্থধারার শিল্পসম্মত নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণ, পরিচালনায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া তিনি নাটক লেখার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস রচনা করেছেন। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর নাট্যকর্মের জন্য ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮২ সালে অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, ২০০০ সালে একুশে পুরস্কারসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট এই কৃর্তিমান নাট্যকার মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই তিনি তৎকালীন জামালপুর মহকুমার কামারচরে তার মাতুতালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 


















