ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সরিষাবাড়ীতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ৪২ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা অফিস পিয়ন

পলাতক অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান।

পলাতক অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পরই গাঁ ঢাকা দিয়েছে ওই অফিস পিয়ন। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর আগে অফিস পিয়ন জয়নাল আবেদীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার কর্মস্থলে কাজ করার অনুমতি দেন জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাকিবুল হাসানকে। এ কাজ করার সুবাদে অফিসের সকল গোপনীয় কাগজপত্রসহ অফিসিয়াল টাকা লেনদেনের পিন কোর্ড জেনে ফেলে। এর পাশাপাশি অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারির বিশ্বস্ত হয়ে উঠেন সাকিবুল হাসান। তিনি সকলের বিশ্বস্ত হওয়ার সুযোগে অফিসের টাকা কিভাবে জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেয়া যায় তার ফন্দি আঁকতে থাকে। একপর্যায় পর পর চার দফায় গত তিন বছরে অফিসের অডিটর অফিসার রফিকুল ইসলাম, এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হানের স্বাক্ষর জাল করে উপজেলা কমপ্লেক্স সোনালী ব্যাংক থেকে ‘জামানত ফান্ডের’ ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা উত্তোলন করে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। তার মধ্যে ১০-১২-২০২০ তারিখে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ৩১০১২-২০২০ তারিখে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ টাকা, ২৪-০১-২০২১ তারিখে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা ও ১৬-০২-২০২১ তারিখে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮২ টাকা উত্তোলন করে নেয় অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড করলেও জানতে বা বুঝতে পারেনি কেউ।

এদিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি টাকা উত্তোলনের ভাউচার তলব করে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান। এ সময় দেখতে পায় টাকা উত্তোলিত ভাউচারে স্বাক্ষরগুলো তার নয়। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় পিয়ন সাকিবুল হাসান কৌশলে পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, সে সময়ের উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা মো. রমযান আলী তার চাচাতো ভাই সাকিবুল হাসানকে দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত বিভিন্ন সময় নানান কাজ করিয়ে নিতেন। রমযান আলীর আদেশে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের কাজ করার সুযোগ পায় সাকিব। সে সুবাদে গোপন কোড নাম্বার জেনে নেয় সে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারি কাগজপত্র খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চার দফায় কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা তুলে নিয়েছে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। বিষয়টি ওপরের মহলের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নিদের্শ অনুযায়ী থানায় দুটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অফিস পিয়ন পলাতক রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

সরিষাবাড়ীতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ৪২ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা অফিস পিয়ন

আপডেট সময় ০৭:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
পলাতক অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পরই গাঁ ঢাকা দিয়েছে ওই অফিস পিয়ন। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর আগে অফিস পিয়ন জয়নাল আবেদীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার কর্মস্থলে কাজ করার অনুমতি দেন জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাকিবুল হাসানকে। এ কাজ করার সুবাদে অফিসের সকল গোপনীয় কাগজপত্রসহ অফিসিয়াল টাকা লেনদেনের পিন কোর্ড জেনে ফেলে। এর পাশাপাশি অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারির বিশ্বস্ত হয়ে উঠেন সাকিবুল হাসান। তিনি সকলের বিশ্বস্ত হওয়ার সুযোগে অফিসের টাকা কিভাবে জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেয়া যায় তার ফন্দি আঁকতে থাকে। একপর্যায় পর পর চার দফায় গত তিন বছরে অফিসের অডিটর অফিসার রফিকুল ইসলাম, এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হানের স্বাক্ষর জাল করে উপজেলা কমপ্লেক্স সোনালী ব্যাংক থেকে ‘জামানত ফান্ডের’ ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা উত্তোলন করে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। তার মধ্যে ১০-১২-২০২০ তারিখে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ৩১০১২-২০২০ তারিখে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ টাকা, ২৪-০১-২০২১ তারিখে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা ও ১৬-০২-২০২১ তারিখে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮২ টাকা উত্তোলন করে নেয় অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড করলেও জানতে বা বুঝতে পারেনি কেউ।

এদিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি টাকা উত্তোলনের ভাউচার তলব করে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান। এ সময় দেখতে পায় টাকা উত্তোলিত ভাউচারে স্বাক্ষরগুলো তার নয়। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে পর্যায়ক্রমে ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় পিয়ন সাকিবুল হাসান কৌশলে পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, সে সময়ের উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা মো. রমযান আলী তার চাচাতো ভাই সাকিবুল হাসানকে দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত বিভিন্ন সময় নানান কাজ করিয়ে নিতেন। রমযান আলীর আদেশে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের কাজ করার সুযোগ পায় সাকিব। সে সুবাদে গোপন কোড নাম্বার জেনে নেয় সে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্নিগ্ধ রায়হান জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারি কাগজপত্র খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চার দফায় কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১২ টাকা তুলে নিয়েছে অফিস পিয়ন সাকিবুল হাসান। বিষয়টি ওপরের মহলের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নিদের্শ অনুযায়ী থানায় দুটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অফিস পিয়ন পলাতক রয়েছে।