তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ১০ বস্তা চাল লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও ১০ বস্তা চাল লুট হয়েছে। হামলায় সংরক্ষিত দুই নারী ইউপি সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ১৪ জুন সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়ন পরিষদে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়ন দু:স্থদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ভিজিএফ এর চাল বরাদ্দ পেয়েছে প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের ৭৭০ বস্তা অর্থাৎ ৩ মেট্রিক টন ৮৫০ কেজি। ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. হারুন অর রশিদ সেলিম তার ইউপি সদস্যদের নিয়ে দু:স্থ নারী ও পুরুষকে ১০ কেজি করে চাল বিরতণের জন্য ৩৮৫ জনের একটি তালিকা করে তাদেরকে স্লিপ দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দৌলতুজ্জামানের নেতৃত্বে তার সমর্থক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কিছু স্লিপ চায়। কিন্তু স্লিপ না পেয়ে এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

১৪ জুন সকাল দশটার দিকে চাল বিতরণ শুরু হলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. দৌলতুজ্জামানের নেতৃত্বে অন্তত ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাম দা, ফালা ও লাঠিসোঠা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায়। হামলায় সংরক্ষিত দুই ইউপি সদস্য চায়না ও রেখা বেগমসহ অন্তত সাতজন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা পরিষদের একটি কক্ষের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে এবং যাওয়ার সময় অন্তত ১০ বস্তা চাল লুট করে রিকশাভ্যানে করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জামালপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মাজহারুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছুলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে পুনরায় চাল বিতরণ শুরু করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ হামলা প্রসঙ্গে বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, ‘স্লিপ না দেওয়ায় মো. দৌলতুজ্জামান ও তার লোকজনরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়। অন্তত ১০ বস্তা চাল তারা প্রকাশ্যে লুট করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করবো।

জামালপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মাজহারুল ইসলাম বাংলারচিঠি ডটকমকে বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে যাই। পরে চেয়ারম্যান, ট্যাগ কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সামনেই বস্তা গণনা করা হয়। গণনা শেষে এই পরিষদের বরাদ্দের ৭৭০ বস্তা চালের মধ্যে পাওয়া গেছে ৭৫০ বস্তা। বাকি ২০ বস্তার মধ্যে কিছু চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা অন্তত ৮ থেকে ১০ বস্তা চাল লুট করে নিয়ে গেছে। হামলা এবং চাল লুটের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে থানায় মামলা দায়ের করতে বলেছি।