বিএনপি ধাপ্পাবাজ রাজনৈতিক দল : কৃষিমন্ত্রী

নকলায় ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। ছবি : সুজন সেন
নকলায় ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। ছবি : সুজন সেন

সুজন সেন, শেরপুর ॥
বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার অজুহাত খোঁজছে। বিএনপি একটি ধাপ্পাবাজ রাজনৈতিক দল বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি ৯ জুন দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নকলা উপজেলার বাউসা দিশারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার ও প্রণোদনা এবং গরীব-দুঃস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে জেনেই নির্বাচন থেকে সরে আসতে নানা পাঁয়তারা করছে। এ সময় তিনি বলেন, কোনো একদল খেলায় অংশ গ্রহণ না করলে কিন্তু খেলা থেমে থাকেনা এবং থাকবেও না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তারা নির্বাচনে আসবে কি আসবেনা সেটা তাদের দলীয় বিষয়। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণে নির্ধারিত সময়েই সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ৩৬০টি মদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাদক ব্যবসা চালু করেন। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মাদক বাংলাদেশে ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আর মাদক নির্মূলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে কেবলমাত্র চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বিনা কারণে কোনো মায়ের বুক খালি করেন না। যেমনটা করেছে ওই সন্ত্রাসী বিএনপি দল। একটা দেশকে ধ্বংস করার জন্য যুব সমাজকে বিপথগামী করতে পারলেই যথেষ্ঠ। বিএনপি সরকারের আমলে যুবসমাজকে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত করা হয়েছিল। দেশ যখন বিপথের দিকে ঠিক সে সময়েই শেখ হাসিনা যুব সমাজ রক্ষায় মাদক নির্মুলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯০ সালে রোহিঙ্গারা এদেশে এসেছিল, তখন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া তাদের দেখতে পর্যন্ত যায়নি। অথচ ২০১৬ সালে ফের রোহিঙ্গারা এ দেশে আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই তাদের বাঙ্গালীদের মতোই দেখছেন।

এ সময় সভায় উপস্থিত প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মাদকের সাথে জড়িত সে যে দলেরই হোক না কেন তাদেরকে কোনো প্রকার ছাড় দেবেননা। আওয়ামী লীগেরও যদি কেউ এ অপকর্ম করে ধরা পড়ে, তাহলে কোনো প্রকার সুপারিশ তো দূরের কথা, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এদিন মন্ত্রীর সাথে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরকার, উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম মাহবুবুল আলম সোহাগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলতাব আলী, পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটনসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ সফরে মন্ত্রী উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির অষ্টম শ্রেণির মেধাক্রম অনুসারে মেধাবী প্রথম দশজনের মাঝে ৫১০টি থ্রিপিস, নবম শ্রেণির মেধাবী প্রথম দশজনের মাঝে ৪৮০টি শাড়ি ও দশম শ্রেণির মেধাবী প্রথম দশজন করে মোট ৪৮০ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রণোদনা বিতরণ করেন। এ ছাড়াও গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে শাড়ি, ট্রাউজার-গেঞ্জি সেট, শার্ট ও খেজুর বিতরণ করেন তিনি।