ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামালপুরে এডিপির উদ্যোগে শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপিত জামালপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার প্রস্তাবিত জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ইসলামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ চলছে, প্রথম ধাপে ৩ ইউনিয়ন নকলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান শেরপুরে পূবালী ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বুথ উদ্বোধন দায়সারাভাবে মাদারগঞ্জে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালনের অভিযোগ

একদিকে নদীভাঙন প্রতিরোধ : অন্যদিকে ড্রেজার বসিয়ে বালু লুট : এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ

ইসলামপুর : দশানী নদীতীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এলাকায় বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর প্রশাসনের অভিযানের পরেও থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। উপজেলার দশানী নদীর বিভিন্ন স্পটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছেই। একদিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে সরকারিভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, অন্যদিকে অদূরেই বালু উত্তোলন কতটা টেকসই হবে? তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সাজেলের চর, হরিনধরা, চতলাপাড়া, টাবুর চরসহ নদীর বিভিন্ন স্পটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে একটি মহল উত্তোলিত বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে সাজেলের চর বাজার, চতলাপাড়া, হরিনধরা ও টাবুর চর এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সেতু, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের হুমকির শঙ্কায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতংঙ্ক বিরাজ করছে।

ইসলামপুর : দশানী নদীতীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এলাকায় বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাম্প্রতিক দশানী নদীর ভাঙনে খবর প্রকাশ হলে হরিনধরা, কান্দার চর, ডাকপাড়া, টেংরাকুড়া এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের চলমান রয়েছে। অন্যদিকে একটি মহল দশানী নদীর সাজেলের চর থেকে হরিনধরা, চতলাপাড়া, টাবুর চরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নদীর তীর ঘেষে বালু উত্তোলনের কারণে তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার শুরু হয় বালু উত্তোলন। এভাবে চলতে থাকলে সরকারিভাবে বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো বাস্তবায়ন, সেতু, রাস্তা, ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একদিকে জনগণের সম্পদ রক্ষায় সরকারের কোটি কোটি টাকার উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই নদীর বালু লুটের অভিযোগ। এ যেন একই নদীতে দুই বিপরীত চিত্র। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে বালু পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

এই বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ মো. জুবায়ের এই প্রতিবেদককে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। এর আগেও ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সেখানে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপরও যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়, আবারও অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে হরিণধরা এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি জিওব্যাগ ফেলানোর কাজে ব্যবহারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের অনুমতিক্রমে করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান এই প্রতিবেদককে বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে যেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, সেখান থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একদিকে নদীভাঙন প্রতিরোধ : অন্যদিকে ড্রেজার বসিয়ে বালু লুট : এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর প্রশাসনের অভিযানের পরেও থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। উপজেলার দশানী নদীর বিভিন্ন স্পটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছেই। একদিকে নদী ভাঙন ঠেকাতে সরকারিভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ, অন্যদিকে অদূরেই বালু উত্তোলন কতটা টেকসই হবে? তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সাজেলের চর, হরিনধরা, চতলাপাড়া, টাবুর চরসহ নদীর বিভিন্ন স্পটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে একটি মহল উত্তোলিত বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে সাজেলের চর বাজার, চতলাপাড়া, হরিনধরা ও টাবুর চর এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সেতু, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের হুমকির শঙ্কায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতংঙ্ক বিরাজ করছে।

ইসলামপুর : দশানী নদীতীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প এলাকায় বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাম্প্রতিক দশানী নদীর ভাঙনে খবর প্রকাশ হলে হরিনধরা, কান্দার চর, ডাকপাড়া, টেংরাকুড়া এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের চলমান রয়েছে। অন্যদিকে একটি মহল দশানী নদীর সাজেলের চর থেকে হরিনধরা, চতলাপাড়া, টাবুর চরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নদীর তীর ঘেষে বালু উত্তোলনের কারণে তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার শুরু হয় বালু উত্তোলন। এভাবে চলতে থাকলে সরকারিভাবে বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো বাস্তবায়ন, সেতু, রাস্তা, ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একদিকে জনগণের সম্পদ রক্ষায় সরকারের কোটি কোটি টাকার উদ্যোগ, অন্যদিকে সেই নদীর বালু লুটের অভিযোগ। এ যেন একই নদীতে দুই বিপরীত চিত্র। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে বালু পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

এই বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ মো. জুবায়ের এই প্রতিবেদককে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। এর আগেও ওইসব এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সেখানে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপরও যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়, আবারও অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে হরিণধরা এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি জিওব্যাগ ফেলানোর কাজে ব্যবহারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের অনুমতিক্রমে করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান এই প্রতিবেদককে বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে যেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, সেখান থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।