ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী হুরুল আমিন মিলন ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতে রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী ইসলামপুরে বাজার উন্নয়ন নির্মাণ কাজে বাঁধায় হতাশ ব্যবসায়ীরা বকশীগঞ্জে অটোরিকশাভ্যান চুরি ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বকশীগঞ্জে ঈদ ফুড প্যাকেজ বিতরণ জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু জামালপুরে সৈনিক সংস্থার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় জামালপুর-৩ আসনের জনগণ

জামালপুর : নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিরঙ্কুশ সমর্থন ও রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ের পর জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের জনগণ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে ছিল। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের নির্বাচনী এলাকা ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বিজয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনমানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে উঠে আসা এই মানবিক নেতাকে এবার মন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বাবুলকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী অবস্থান থাকলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।

স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। তাদের বিশ্বাস, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।

মাদারগঞ্জের কোয়ালিকান্দী বাজারের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই। নদীভাঙন, বেকারত্ব আর অবকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া-এই সমস্যাগুলো সমাধানে শক্ত অবস্থান দরকার। মন্ত্রী হলে তিনি তা আরও কার্যকরভাবে করতে পারবেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এলাকার সার্বিক উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রত্যাশা, তাদের এই প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক রকিব লিটন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল একজন অহিংস ও জনবান্ধব রাজনীতিবিদ। তিনি হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মুখেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এ কারণেই ভোটারেরা তাকে আপন করে নিয়েছেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদে থাকলে পুরো জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলেই তাকে মন্ত্রিপরিষদে চাই।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমার কাছে এখন সবাই সমান। আমি সবার এমপি। সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল দুই লাখ সাত হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। ফলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এক লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী হুরুল আমিন মিলন

মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় জামালপুর-৩ আসনের জনগণ

আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিরঙ্কুশ সমর্থন ও রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ের পর জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনের জনগণ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে ছিল। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের নির্বাচনী এলাকা ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বিজয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনমানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে উঠে আসা এই মানবিক নেতাকে এবার মন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বাবুলকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী অবস্থান থাকলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।

স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। তাদের বিশ্বাস, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।

মাদারগঞ্জের কোয়ালিকান্দী বাজারের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই। নদীভাঙন, বেকারত্ব আর অবকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া-এই সমস্যাগুলো সমাধানে শক্ত অবস্থান দরকার। মন্ত্রী হলে তিনি তা আরও কার্যকরভাবে করতে পারবেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এলাকার সার্বিক উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রত্যাশা, তাদের এই প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক রকিব লিটন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল একজন অহিংস ও জনবান্ধব রাজনীতিবিদ। তিনি হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মুখেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এ কারণেই ভোটারেরা তাকে আপন করে নিয়েছেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদে থাকলে পুরো জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলেই তাকে মন্ত্রিপরিষদে চাই।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমার কাছে এখন সবাই সমান। আমি সবার এমপি। সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল দুই লাখ সাত হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। ফলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এক লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।