হাজার হাজার নেতা কর্মী-সমর্থক ভক্তবৃন্দ ও স্বজনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১)। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৪ ফেব্রুয়ারী, বুধবার বিকালে সাড়ে ৩টায় শেরপুর পৌর ঈদগাহ ও শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কে বিশাল নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে জানাজার ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এ.টি.এম. মাছুম।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা বিএনপির সাবেক আহাবায়ক আইনজীবী মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. হযরত আলী, সাবেক সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ পলাশ, শেরপুর-১ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি, নেত্রকোনা সদর আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এনামুল হক, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাবেক আমীর ডা. মো. শাহাদাত হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাতেন, জেলা মজলিশে শুরা সদস্য ডাক্তার মো. আনোয়ার হোসাইন, এবি পার্টির আহ্বায়ক শাহজাহান মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক মো. মুকসিতুর রহমান হীরা, আব্দুল্লাহ বাদশা, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী, জেলা সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
নুরুজ্জামান বাদলের প্রথম নামাজে জানাজা বিকাল সাড়ে ৩টায় শেরপুর শহরের পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবার পর তাঁর মরদেহ শ্রীবরদী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে বিকাল ৫টায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবার পর শ্রীবরদী পৌরসভার পোড়াগড় এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা নামাজেও হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
এদিকে নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীসহ এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্বদেশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বেশ কিছুদিন যাবত কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি মা, স্ত্রী, একমাত্র পুত্র, এক ভাই, চার বোনসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে বর্তমান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি ছাত্র জীবন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসাবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে নানামূখী সমাজ সেবামূলক কাজ করে জন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।
মুগনিউর রহমান মনি : নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















