ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তারেক রহমান, ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন শাহাবুদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে বাস পরিচালকের সংবাদ সম্মেলন অটোরিকশায় নিজ এলাকা ঘুরে দেখলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রতিমন্ত্রী হলেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুরে মিষ্টি বিতরণ গণতন্ত্রের যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায় : প্রধান উপদেষ্টা বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতির সংবাদ সম্মেলন মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় জামালপুর-৩ আসনের জনগণ ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

প্রসঙ্গ : সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় : অসঙ্গতি দূর করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার

জাহাঙ্গীর সেলিম, সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পড়ালেখার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো বিদ্যালয়ের চেয়ে তুলনামূলক ভাল। সুসংগঠিত শিক্ষক দল। বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিও আন্তরিক। বাসার পাশে হলেও সাধারণত এ বিদ্যলয়ে আসা হয় না। প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে এ বিদ্যালয়ে গিয়ে একটা বড় অসঙ্গতি চোখে পড়ল।

বিদ্যালয়ের মাঠটি সংকুচিত হলেও এখানে ছাত্রীদের অবাধে খেলাধূলা ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে একটি বহুতল আবাসিক হোটেল আরেকটি রেস্টুরেন্ট। বিদ্যালয়ের সীমানা লাগোয়া আবাসিক হোটেলের জানালা সবসময় খোলা থাকে। যেখান থেকে হোটেলের গেস্ট ও স্টাফরা সবসময় ছাত্রীদের চলাচল অনুসরণ করে কিনা জানি না। তবে না দেখারও কারণ নেই। যা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।

অপরদিকে দেয়ালঘেষা রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর থেকে সবসময় ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে ছাত্রী, শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে যে কেউ কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেই পারেন। তবে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে, বিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমন সচেতনতাবোধ যেকোনো নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের থাকা উচিৎ।

সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামর্থ থাকলে ওই ব্যক্তিগত সম্পদ সরকারি বিধি মোতাবেক অধিগ্রহণ করা উচিৎ। অথবা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা উচিৎ।

পৃথিবীর যেকোনো দেশে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিদ্যালয়ের মাঠ, অবকাঠামো, উন্নত শিক্ষা উপকরণ এবং সরকার ও কমিউনিটির দায়িত্ববোধ উদাহরণ দেওয়ার মত। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই প্রতিটি বিদ্যালয় বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো অবহেলা এবং ব্যাপক বৈষম্যের শিকার। সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব না দেয় তাহলে সে জাতি মাথা উঁচু করে সহজে দাঁড়াতে পারবে না।

সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই সব অসঙ্গতি সম্পর্কে তুলে ধরার ফলে অনেকেই নেতিবাচক বা ইতিবাচক সমালোচনা করবেন। এর ফলে এ বিদ্যালয়ের নেক নজর পড়তে পারে কর্তৃপক্ষের। এতে কতটুকু কাজ হবে তার উত্তর সময়ই দিতে পারবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই বিদ্যালয়ের বিদ্যমান অসঙ্গতি ও সমস্যা দূর করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আরেকটি অসঙ্গতি হচ্ছে, বিদ্যালয়ের বহুতল ভবনের পাশেই গড়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক পল্লী যা চালু হলে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বেড়ানোর নামে নোংরামি করবে বলে অনেকই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়ের জানালা দিয়ে নোংরা দৃশ্যগুলো সহজেই দর্শন করা যাবে।

প্রিয় পাঠক একবার ভেবে দেখুন কী এক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিষয়টি একবারের জন্যেও ভেবে দেখেনি আমাদের তথাকথিত পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা। বিষয়টি আগামী সরকারে যারা আসবেন তারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নতুনভাবে পরিকল্পনা করবেন। অনেকেই বলতে পারেন আগে কেন এসব বিষয় উত্থাপন করা হয় নাই। কোন লাভ হত না। বলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছি।
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি জেলা প্রশাসন, শিক্ষা দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ

প্রসঙ্গ : সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় : অসঙ্গতি দূর করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার

আপডেট সময় ০৯:৩৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পড়ালেখার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো বিদ্যালয়ের চেয়ে তুলনামূলক ভাল। সুসংগঠিত শিক্ষক দল। বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিও আন্তরিক। বাসার পাশে হলেও সাধারণত এ বিদ্যলয়ে আসা হয় না। প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে এ বিদ্যালয়ে গিয়ে একটা বড় অসঙ্গতি চোখে পড়ল।

বিদ্যালয়ের মাঠটি সংকুচিত হলেও এখানে ছাত্রীদের অবাধে খেলাধূলা ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে একটি বহুতল আবাসিক হোটেল আরেকটি রেস্টুরেন্ট। বিদ্যালয়ের সীমানা লাগোয়া আবাসিক হোটেলের জানালা সবসময় খোলা থাকে। যেখান থেকে হোটেলের গেস্ট ও স্টাফরা সবসময় ছাত্রীদের চলাচল অনুসরণ করে কিনা জানি না। তবে না দেখারও কারণ নেই। যা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।

অপরদিকে দেয়ালঘেষা রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর থেকে সবসময় ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে ছাত্রী, শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে যে কেউ কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেই পারেন। তবে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে, বিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমন সচেতনতাবোধ যেকোনো নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের থাকা উচিৎ।

সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামর্থ থাকলে ওই ব্যক্তিগত সম্পদ সরকারি বিধি মোতাবেক অধিগ্রহণ করা উচিৎ। অথবা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা উচিৎ।

পৃথিবীর যেকোনো দেশে বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিদ্যালয়ের মাঠ, অবকাঠামো, উন্নত শিক্ষা উপকরণ এবং সরকার ও কমিউনিটির দায়িত্ববোধ উদাহরণ দেওয়ার মত। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই প্রতিটি বিদ্যালয় বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো অবহেলা এবং ব্যাপক বৈষম্যের শিকার। সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব না দেয় তাহলে সে জাতি মাথা উঁচু করে সহজে দাঁড়াতে পারবে না।

সিংহজানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই সব অসঙ্গতি সম্পর্কে তুলে ধরার ফলে অনেকেই নেতিবাচক বা ইতিবাচক সমালোচনা করবেন। এর ফলে এ বিদ্যালয়ের নেক নজর পড়তে পারে কর্তৃপক্ষের। এতে কতটুকু কাজ হবে তার উত্তর সময়ই দিতে পারবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই বিদ্যালয়ের বিদ্যমান অসঙ্গতি ও সমস্যা দূর করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আরেকটি অসঙ্গতি হচ্ছে, বিদ্যালয়ের বহুতল ভবনের পাশেই গড়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক পল্লী যা চালু হলে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বেড়ানোর নামে নোংরামি করবে বলে অনেকই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়ের জানালা দিয়ে নোংরা দৃশ্যগুলো সহজেই দর্শন করা যাবে।

প্রিয় পাঠক একবার ভেবে দেখুন কী এক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিষয়টি একবারের জন্যেও ভেবে দেখেনি আমাদের তথাকথিত পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা। বিষয়টি আগামী সরকারে যারা আসবেন তারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নতুনভাবে পরিকল্পনা করবেন। অনেকেই বলতে পারেন আগে কেন এসব বিষয় উত্থাপন করা হয় নাই। কোন লাভ হত না। বলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছি।
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি জেলা প্রশাসন, শিক্ষা দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।