কারাতে মৈত্রী টুর্নামেন্ট ২০২৬ এ অংশ নিয়ে জামালপুরের কারাতে খেলোয়াড়েরা বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে। ওজন ও বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে ও মেয়ে খেলোয়াড়রা মোট ১৮টি স্বর্ণ, ১৪টি সিলভার ও ১৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। ঢাকায় পল্লীমা সংসদে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সহযোগিতায় পল্লীমা গ্রীণ ও মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে একক কাতা, দলগত কাতা ও কুমিতে জামালপুরের ১৬ জন মেয়ে খেলোয়াড় অংশ নেয়। মেয়েরা এসব ইভেন্টে মোট ১০টি স্বর্ণ, নয়টি সিলভার ও নয়টি ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করে। ৫-৮ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে মেয়ে খেলোয়াড় আসরা একক কাতা ইভেন্টে স্বর্ণ ও কুমিতে সিলভার, অর্জিতা জামান একক কাতায় ব্রোঞ্জ, জাভেরিয়া মাহনুর একক কাতায় স্বর্ণ ও কুমিতে ব্রোঞ্জ, তায়্যিবি বিনতে সাদিক ইকরা একক কাতায় ব্রোঞ্জ, আয়েশা মাহমুদ একক কাতায় গোল্ড।
৯-১১ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে আতকিয়া সিদ্দিকা একক কাতায় ব্রোঞ্জ ও কুমিতে সিলভার। ফাতিমা মাহমুদ একক কাতা ও দলগত কাতায় পৃথক দুটি সিলভার, আত্মজা একক কাতায় ব্রোঞ্জ, মুনতাহা তানভীর একক কাতায় ব্রোঞ্জ ও কুমিতে সিলভার। ১২-অনূর্ধ্ব ১৪ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে ইউশরিয়া কুমিতে সিলভার। ৯-১১ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে ইবশা একক কাতায় স্বর্ণ, কুমিতে ও দলগত কাতায় পৃথক দুটি সিলভার, আফিফা একক কাতায় ব্রোঞ্জ ও দলগত কাতায় সিলভার।
১৪-১৫ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে মনিরা একক কাতা ও দলগত কাতায় পৃথক দুটি স্বর্ণ। ১২-১৩ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে রিফা একক কাতায় স্বর্ণ ও কুমিতে ব্রোঞ্জ। আফরা জাহান তানভী একক কাতা, কুমিতে ও দলগত কাতায় পৃথক তিনটি স্বর্ণ এবং নাবিহা তায়্যেবা নাশিতা একক কাতায় ব্রোঞ্জ ও দলগত কাতায় স্বর্ণ পদক অর্জন করে।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে ২৪ জানুয়ারি, শনিবার ১২ জন ছেলে খেলোয়াড় একক কাতা, দলগত কাতা ও কুমিতে অংশ নিয়ে আটটি স্বর্ণ, পাঁচটি সিলভার ও ছয়টি ব্রোঞ্জ জয় করে। ছেলে খেলোয়াড়দের মধ্যে ৫-৮ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে নাফিউ একক কাতায় স্বর্ণ ও কুমিতে সিলভার, সাদিন একক কাতায় স্বর্ণ ও কুমিতে সিলভার। বিজয় একক কাতা ও কুমিতে পৃথক দুটি ব্রোঞ্জ। সাফুয়ান সোয়াদ একক কাতায় ব্রোঞ্জ ও কুমিতে সিলভার। ১২-১৩ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে আফনান একক কাতা ও কুমিতে পৃথক দুটি ব্রোঞ্জ এবং দলগত কাতায় স্বর্ণ।

৯-১১ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে আহনাফ হাসান রায়ান একক কাতায় স্বর্ণ ও কুমিতে ব্রোঞ্জ, আজরাফ হাসান সায়ান কুমিতে সিলভার, সাফায়াত আল সাদিক একক কাতায় সিলভার। ১২-অনূর্ধ্ব ১৪ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে আরিক জামান একক কাতা, কুমিতে ও দলগত কাতায় পৃথক তিনটি স্বর্ণ। ১২-১৫ বছর বয়স ক্যাটাগরিতে সামস মাফুজ আলম দলগত কাতায় স্বর্ণ পদক অর্জন করে।
টুর্নামেন্টে দলগতভাবে সর্বোচ্চ পদক অর্জন করায় মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন চ্যাম্পিয়ন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্জন করায় সোতোকান কারাতে বাংলাদেশ রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২৪ জানুয়ারি রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে পল্লীমা সংসদের সভাপতি আনিসুর রহমান লিটন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফিজুর রাহমান ময়না, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোর্শেদ, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আসমাউল আসিফ বিজয়ী খেলোয়াড়দের ট্রফি, পদক, সার্টিফিকেট তুলে দেন। এছাড়াও অতিথি, রেফারি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
জামালপুরের হয়ে জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও নতুন কুড়ি মার্শাল আর্ট স্কুলের মোট ২৮ জন কারাতে খেলোয়াড় টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন, সোতোকান কারাতে বাংলাদেশ, মার্শাল আর্ট বিডি, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা, নতুন কুড়ি মার্শাল আর্ট স্কুল, নরসিংদী জেলা সোতোকান কারাতে একাডেমিসহ মোট ২০টি দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
জামালপুরের কারাতে প্রশিক্ষক ফিরোজ আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ চলমান রাখায় খেলোয়াড়দের পরিশ্রম ও অভিভাবকদের সচেতনতার জন্য এই সাফল্য এসেছে। এই টুর্নামেন্টে আমরা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করেছি। চর্চা অব্যাহত রাখলে খেলায়াড়েরা আরও সামনে এগিয়ে যাবে। তবে কারাতে খেলার মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আসমাউল আসিফ এ প্রতিবেদককে বলেন, এই প্রথম কোন কারাতে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে জামালপুরের খেলোয়াড়েরা এত বড় সাফল্য অর্জন করেছে। আশেপাশের জেলাগুলোর তুলনায় জামালপুর কারাতে খেলায় বেশ এগিয়ে। কারাতে খেলাকে এগিয়ে নিতে ও খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ খুবই জরুরি। আগামী দিনে সবার সহযোগিতা নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা জামালপুরে কারাতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে।
মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোর্শেদ এ প্রতিবেদকেকে বলেন, দ্বিতীয়বারের মত এই কারাতে মৈত্রী টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। আমরা বেশ ভাল সাড়া পেয়েছি। এই টুর্নামেন্ট কারাতের উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















