ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তারেক রহমান, ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন শাহাবুদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে বাস পরিচালকের সংবাদ সম্মেলন অটোরিকশায় নিজ এলাকা ঘুরে দেখলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রতিমন্ত্রী হলেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুরে মিষ্টি বিতরণ গণতন্ত্রের যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায় : প্রধান উপদেষ্টা বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতির সংবাদ সম্মেলন মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় জামালপুর-৩ আসনের জনগণ ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

সরিষাবাড়ীতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান

সরিষাবাড়ী : প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

‘ইচ্ছেশ্রমে গড়ি দেশ,সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’ স্লোগানে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত পরিবেশ গড়তে এ উদ্ভিদ নিধনে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগনাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষতিকর উদ্ভিদ নিধন কার্যকর পরিচালনা করে সামাজিক সংগঠন “ইচ্ছেশ্রম”।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর এই প্রভাব বিবেচনায় ১৬ জানুয়ারি দিনব্যাপী উপজেলা জুড়ে এটি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইচ্ছেশ্রমের মাধ্যমে। সংগঠনের সদস্যরা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও অধিক স্থানে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশের, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ ও জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। যা পরবর্তীতে সেখানে জৈবসারে পরিণত হয়। ২০২২ সাল থেকে এই সংগঠনের মাধ্যমে এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযানের কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছেন তারা।

সরিষাবাড়ী : প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকোতে। এটি নরম কাণ্ড বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় আগাছা। যা সাধারণত গাজর ঘাস নামে পরিচিত। এ উদ্ভিদ সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট উঁচু হয়। দেখতে অনেকটা গাজর পাতা বা চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের পাতার মত। এতে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার করে। একটি গাছ মাত্র চার মাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় চার হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে। যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ।

ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এ ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলাকে পার্থেনিয়াম থেকে মুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদিও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, বাতাসের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে যেকোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। আমার এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং আমি পরিকল্পনা করেছি, সারা বাংলাদেশ থেকে এটাকে নির্মূল করার একটা যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পার্থেনিয়াম হল একটু ক্ষতিকর উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। যা ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ

সরিষাবাড়ীতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান

আপডেট সময় ১০:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

‘ইচ্ছেশ্রমে গড়ি দেশ,সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ’ স্লোগানে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত পরিবেশ গড়তে এ উদ্ভিদ নিধনে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগনাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষতিকর উদ্ভিদ নিধন কার্যকর পরিচালনা করে সামাজিক সংগঠন “ইচ্ছেশ্রম”।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর এই প্রভাব বিবেচনায় ১৬ জানুয়ারি দিনব্যাপী উপজেলা জুড়ে এটি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইচ্ছেশ্রমের মাধ্যমে। সংগঠনের সদস্যরা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও অধিক স্থানে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশের, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ ও জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। যা পরবর্তীতে সেখানে জৈবসারে পরিণত হয়। ২০২২ সাল থেকে এই সংগঠনের মাধ্যমে এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযানের কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছেন তারা।

সরিষাবাড়ী : প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জানা গেছে, পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকোতে। এটি নরম কাণ্ড বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় আগাছা। যা সাধারণত গাজর ঘাস নামে পরিচিত। এ উদ্ভিদ সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট উঁচু হয়। দেখতে অনেকটা গাজর পাতা বা চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের পাতার মত। এতে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার করে। একটি গাছ মাত্র চার মাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় চার হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে। যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ।

ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এ ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলাকে পার্থেনিয়াম থেকে মুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদিও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, বাতাসের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে যেকোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। আমার এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং আমি পরিকল্পনা করেছি, সারা বাংলাদেশ থেকে এটাকে নির্মূল করার একটা যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পার্থেনিয়াম হল একটু ক্ষতিকর উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। যা ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে থাকে।