জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় জিঞ্জিরাম নদে সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় ১৬টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের কামাড়ের চর জিঞ্জিরাম নদে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও নির্মাণ হয়নি পাকা সেতু। প্রতিনিয়ত মৌলভীরচর, বয়রাপাড়া, সবুজপাড়া, বাদুরা, পশ্চিম লংকারচর, টুপগারচর, আলগার চর, গাছবাড়ী, ফুলছড়ি উপজেলার জিগাবাড়ী, ডাকাতিয়া, ভাটিয়াপাড়া, উনত্রিশপাড়া, উত্তর হরিচন্ডী, সন্ন্যাসীরচর তালপট্টি গ্রামসহ ১৬টি গ্রামের মানুষ। বর্ষায় নদী ভরে গেলেও শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে চর জেগে উঠে, তখন চলাচল আরও দুরূহ হয়ে পড়ে।
১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলাবাড়ী ঘাটে খেয়া নৌকায় রশি টেনে পারাপার হচ্ছেন মানুষ ও যানবাহন। দুই পাড়ে মালবোঝাই ভ্যানের সারি, নৌকায় উঠাতে গেলে যাত্রী ও মোটরসাইকেল পারাপারে সমস্যা দেখা দেয়।
চরআমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে প্রতিদিন হাজারো মানুষ নৌকায় পার হন। সেতুর অভাবে ১৬টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বর্ষায় খেয়ানৌকায়, শুষ্ক মৌসুমে চর পার হয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপার হন এই নদ দিয়ে। শুষ্ক মৌসুমে বালুরচর পড়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে অন্তত: ৩০ হাজার মানুষ।
চরআমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জানান, প্রতিদিন পশ্চিমপাড়ের ১৬টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে পূর্ব পারে যেতে হয়। নদে সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে।
ইউপি সদস্য বকুল মিয়া জানান, নদীতে সেতু না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হলে পাল্টে যাবে এই এলাকার উন্নয়ন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. জয়নাল আবেদীন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন মিললে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বিল্লাল হোসেন মন্ডল : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















