ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সরিষাবাড়ীতে দোয়া মাহফিল ওলামাদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়ক হলেন কাজী মসিউর জামালপুর- ৪ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সিপিবির জুয়েল একজন শাহীনা সোবহান মিতু : আমাদের আলোকবর্তিকা জামালপুরে অনূর্ধ-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু সরিষাবাড়ীতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান জামালপুরে শাহীনা সোবহানের ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন গণভোটে প্রচারণা সংস্কারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ : আসিফ নজরুল জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

১২ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী পাক হানাদার মুক্ত দিবস

সরিষাবাড়ী : শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার সরিষাবাড়ী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে তৎকালীন জামালপুর মহকুমার সরিষাবাড়ী থানা শত্রুমুক্ত হয়।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ১১ নম্বর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাবসেক্টর এবং সেক্টর হেড কোয়ার্টার ক্লোজ করার পর সেকেন্ড সেক্টর স্কোয়াড্রন লিডার এম. হামিদুল্লাহ খান যুদ্ধকালীন কমান্ডার নাজিম কোম্পানিকে নির্দেশ দেন। নাজিম কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা সন্ধ্যায় চর জামিরা গ্রামে এসে পৌঁছেন।

পরদিন আগে থেকেই অবস্থান নেয়া রশিদ, লুৎফর, ফজলুর কোম্পানি মিলে এলাকার রাজাকার আল বদরদের অস্ত্রসহ আটক করে থানায় নিয়ে যান। পুরো সরিষাবাড়ী রাজাকারমুক্ত করার মধ্যেই আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিসীর প্রতিরোধ মুখে পড়েন। একপর্যায়ে মুক্তিবাহিনীর হামলা আর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ গ্রামের ৪৫ জন সাধারণ মানুষ শহীদ হন।

অপরদিকে ১১ ডিসেম্বর রাতেই নাজিম কোম্পানি, রশিদ, নূরুল, লুৎফর ও ফজলু কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে যৌথ অভিযান চালান। সারারাতের অভিযান ও সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা সকল পাক সেনাদের পাকড়াও করতে সক্ষম হন। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর ভোরে মিত্রবাহিনীর হাতে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

ওইদিনই এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঐতিহাসিক গণময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সরিষাবাড়ী থানা শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। সরিষাবাড়ীর আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে বিজয়ের গান। উল্লাসে মেতে উঠে মুক্তিকামী মানুষ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা

১২ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী পাক হানাদার মুক্ত দিবস

আপডেট সময় ০৯:২২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার সরিষাবাড়ী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে তৎকালীন জামালপুর মহকুমার সরিষাবাড়ী থানা শত্রুমুক্ত হয়।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ১১ নম্বর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাবসেক্টর এবং সেক্টর হেড কোয়ার্টার ক্লোজ করার পর সেকেন্ড সেক্টর স্কোয়াড্রন লিডার এম. হামিদুল্লাহ খান যুদ্ধকালীন কমান্ডার নাজিম কোম্পানিকে নির্দেশ দেন। নাজিম কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা সন্ধ্যায় চর জামিরা গ্রামে এসে পৌঁছেন।

পরদিন আগে থেকেই অবস্থান নেয়া রশিদ, লুৎফর, ফজলুর কোম্পানি মিলে এলাকার রাজাকার আল বদরদের অস্ত্রসহ আটক করে থানায় নিয়ে যান। পুরো সরিষাবাড়ী রাজাকারমুক্ত করার মধ্যেই আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিসীর প্রতিরোধ মুখে পড়েন। একপর্যায়ে মুক্তিবাহিনীর হামলা আর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ গ্রামের ৪৫ জন সাধারণ মানুষ শহীদ হন।

অপরদিকে ১১ ডিসেম্বর রাতেই নাজিম কোম্পানি, রশিদ, নূরুল, লুৎফর ও ফজলু কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে যৌথ অভিযান চালান। সারারাতের অভিযান ও সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা সকল পাক সেনাদের পাকড়াও করতে সক্ষম হন। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর ভোরে মিত্রবাহিনীর হাতে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

ওইদিনই এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঐতিহাসিক গণময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সরিষাবাড়ী থানা শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। সরিষাবাড়ীর আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হতে থাকে বিজয়ের গান। উল্লাসে মেতে উঠে মুক্তিকামী মানুষ।