ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সরিষাবাড়ীতে দোয়া মাহফিল ওলামাদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের আহ্বায়ক হলেন কাজী মসিউর জামালপুর- ৪ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সিপিবির জুয়েল একজন শাহীনা সোবহান মিতু : আমাদের আলোকবর্তিকা জামালপুরে অনূর্ধ-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু সরিষাবাড়ীতে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল অভিযান জামালপুরে শাহীনা সোবহানের ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন গণভোটে প্রচারণা সংস্কারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ : আসিফ নজরুল জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

জামালপুরে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপিত

জামালপুর : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর আলম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ও অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর, বুধবার জামালপুরে শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেনের অর্থায়নে পরিচালিত সংযোগ প্রকল্প এ কর্মসূচি পালন করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর বিকালে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুর : অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জামালপুরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরিফ ও জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার রাফিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অপাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রিনা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর আলম বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে রাষ্ট্র কখনোই ছোট করে দেখে না। প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো সমহারে পাবার অধিবার আছে। কিন্তু সরকার তার সক্ষমতার উপর নির্ভর করে সেবা দিয়ে থাকেন। আজকে যাদের নিয়ে এই কর্মসূচি বিশেষ করে যৌনকর্মীরা তারাও মানুষ। তাদেরও অধিকার পাবার অধিকার আছে। তাদেরকে সচেতন করা গেলে কিন্তু আজকে তারা এই পেশায় আসতেন না। তাদেরকেও কিভাবে সেখান থেকে বের করে এনে স্বাভাবিক পেশাজীবনে ফিরিয়ে আনা যায় সেই বিষয়ে সরকারও কিন্তু উদ্যোগ নিচ্ছে।

জামালপুর :  বক্তব্য রাখেন সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রিনা আক্তার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ত করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে পাঁচটি ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। যৌনপল্লীর নারীরা চাইলে আমাদের এখানে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। আমি কথা দিয়ে গেলাম তাদেরকেও এখানে সুযোগ দিতে চাই। যাতে তারা কাজ শিখে সেটাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। এখনও সময় আছে তারা যদি তাদের অতীত ভুলে গিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শিখে নিজেদের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে পারবেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এই অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ানোকে একটি কার্যকর সেবামূলক উদ্যোগ বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, মানুষ হিসাবে কিন্তু আপনারা স্বাধীন। মানুষ তার জীবনকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চান এরও কিন্তু স্বাধীনতা আছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থে কাজে লাগাতে সরকার কিন্তু বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সরকার চেষ্টা করে যে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যেও যেন সবাই ভালো থাকে।

তিনি যৌনকর্মী নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষ হিসাবে যতগুলো অধিকার আছে আপনারা সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার অধিকার রাখেন। উপজেলার সকল মানুষদের নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে আপনাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যদি লংঘিত হয়। কেউ যদি আপনাদের সাথে অমানবিক আচরণ করেন। আপনারা যদি মনে করেন এখানে সুরক্ষা পাচ্ছি না। তাহলে আপনারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট থানাপুলিশ ছাড়াও যেকোনো দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা পেতে আপনারা আমার সাথেও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা মত প্রকাশও করতে পারবেন। সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে আপনাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের দরকার আছে। আপনারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন। যাতে সেগুলো দ্রুত ব্যবস্থা হয়। এগুলোর ক্ষেত্রে আমার সহযোগিতা থাকবে। নির্বাচন অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে যেখানে গেলে আপনি সেবা পাওয়ার কথা, সেই সব দপ্তরে আমিও বলে দিতে পারব। যাতে আপনাদের কাজগুলোর দ্রুত সমাধান পান। আপনারা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে চাইলে আপনাদের সেই ক্ষেত্রেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন ভাতার চাইতে প্রশিক্ষণ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি যে ভাতা ব্যবস্থা আছে সেটার পরিমাণ হয়তো কিছু কম। সেটা দিয়ে চলা হয়তো একটু কষ্টকর হয়। তাই আপনারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিলে সরকার ক্ষুদ্র ঋণও দিয়ে থাকে। সেই ঋণ নিয়ে আপনারা প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমানকে উন্নত করতে পারবেন। রাষ্ট্র কিন্তু চায় সবাইকে নিয়ে ভাল থাকতে। যৌনপল্লীর নারীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা বেশ ভাল উদ্যোগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এমন বেসরকারি উদ্যোগেরও অনেক গুরুত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরিফ যৌনপল্লীর নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা অনেকেই এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পেরেছেন। আরও যারা আবেদন করবেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে অল্প কাগজপত্রে যাতে সহজেই এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র পান। কারণ আপনাদের জন্য এটি খুবই দরকারি বিষয়। সরকারি সেবা পেতে এটা ছাড়া হবে না।

জামালপুর : সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ডাক্তার রাফিয়া সুলতানা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধে এবং তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগের কাজই হল নারী, পুরুষ, শিশু সকল স্তরের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। যৌনপল্লীর নারীরাও সেই সেবা থেকে বাদ যাচ্ছেন না। আমরা যারা চিকিৎসক তাদের দায়িত্বও হল চিকিৎসাবেসা দেওয়া। সেই চিকিৎসাসেবা জামালপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আপনাদের দিয়ে আসছে। আপনারা আমাদের কাছে গেলে অন্যসব রোগীদের মতই আমরা আপনাদের জন্য সেবা দিয়ে আসছি। সবাইকে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার অনুষ্ঠানের শুরুতেই অপরাজেয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় পরিচালিত কার্যক্রমসহ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় সংযোগ প্রকল্পের অপর মাঠ কর্মকর্তা হাফিজা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা

জামালপুরে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপিত

আপডেট সময় ০৩:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ও অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর, বুধবার জামালপুরে শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএন-উইমেনের অর্থায়নে পরিচালিত সংযোগ প্রকল্প এ কর্মসূচি পালন করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর বিকালে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ যৌনপল্লীতে অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের জামালপুর অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুর : অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জামালপুরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরিফ ও জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার রাফিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অপাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রিনা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর আলম বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে রাষ্ট্র কখনোই ছোট করে দেখে না। প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো সমহারে পাবার অধিবার আছে। কিন্তু সরকার তার সক্ষমতার উপর নির্ভর করে সেবা দিয়ে থাকেন। আজকে যাদের নিয়ে এই কর্মসূচি বিশেষ করে যৌনকর্মীরা তারাও মানুষ। তাদেরও অধিকার পাবার অধিকার আছে। তাদেরকে সচেতন করা গেলে কিন্তু আজকে তারা এই পেশায় আসতেন না। তাদেরকেও কিভাবে সেখান থেকে বের করে এনে স্বাভাবিক পেশাজীবনে ফিরিয়ে আনা যায় সেই বিষয়ে সরকারও কিন্তু উদ্যোগ নিচ্ছে।

জামালপুর :  বক্তব্য রাখেন সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রিনা আক্তার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ত করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে পাঁচটি ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। যৌনপল্লীর নারীরা চাইলে আমাদের এখানে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। আমি কথা দিয়ে গেলাম তাদেরকেও এখানে সুযোগ দিতে চাই। যাতে তারা কাজ শিখে সেটাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। এখনও সময় আছে তারা যদি তাদের অতীত ভুলে গিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শিখে নিজেদের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে পারবেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এই অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ানোকে একটি কার্যকর সেবামূলক উদ্যোগ বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, মানুষ হিসাবে কিন্তু আপনারা স্বাধীন। মানুষ তার জীবনকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চান এরও কিন্তু স্বাধীনতা আছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থে কাজে লাগাতে সরকার কিন্তু বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সরকার চেষ্টা করে যে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যেও যেন সবাই ভালো থাকে।

তিনি যৌনকর্মী নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষ হিসাবে যতগুলো অধিকার আছে আপনারা সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার অধিকার রাখেন। উপজেলার সকল মানুষদের নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে আপনাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যদি লংঘিত হয়। কেউ যদি আপনাদের সাথে অমানবিক আচরণ করেন। আপনারা যদি মনে করেন এখানে সুরক্ষা পাচ্ছি না। তাহলে আপনারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট থানাপুলিশ ছাড়াও যেকোনো দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা পেতে আপনারা আমার সাথেও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা মত প্রকাশও করতে পারবেন। সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে আপনাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের দরকার আছে। আপনারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন। যাতে সেগুলো দ্রুত ব্যবস্থা হয়। এগুলোর ক্ষেত্রে আমার সহযোগিতা থাকবে। নির্বাচন অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে যেখানে গেলে আপনি সেবা পাওয়ার কথা, সেই সব দপ্তরে আমিও বলে দিতে পারব। যাতে আপনাদের কাজগুলোর দ্রুত সমাধান পান। আপনারা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে চাইলে আপনাদের সেই ক্ষেত্রেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন ভাতার চাইতে প্রশিক্ষণ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি যে ভাতা ব্যবস্থা আছে সেটার পরিমাণ হয়তো কিছু কম। সেটা দিয়ে চলা হয়তো একটু কষ্টকর হয়। তাই আপনারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিলে সরকার ক্ষুদ্র ঋণও দিয়ে থাকে। সেই ঋণ নিয়ে আপনারা প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমানকে উন্নত করতে পারবেন। রাষ্ট্র কিন্তু চায় সবাইকে নিয়ে ভাল থাকতে। যৌনপল্লীর নারীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা বেশ ভাল উদ্যোগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এমন বেসরকারি উদ্যোগেরও অনেক গুরুত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরিফ যৌনপল্লীর নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা অনেকেই এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পেরেছেন। আরও যারা আবেদন করবেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে অল্প কাগজপত্রে যাতে সহজেই এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র পান। কারণ আপনাদের জন্য এটি খুবই দরকারি বিষয়। সরকারি সেবা পেতে এটা ছাড়া হবে না।

জামালপুর : সংযোগ প্রকল্পের উদ্যোগে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ডাক্তার রাফিয়া সুলতানা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধে এবং তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগের কাজই হল নারী, পুরুষ, শিশু সকল স্তরের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। যৌনপল্লীর নারীরাও সেই সেবা থেকে বাদ যাচ্ছেন না। আমরা যারা চিকিৎসক তাদের দায়িত্বও হল চিকিৎসাবেসা দেওয়া। সেই চিকিৎসাসেবা জামালপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আপনাদের দিয়ে আসছে। আপনারা আমাদের কাছে গেলে অন্যসব রোগীদের মতই আমরা আপনাদের জন্য সেবা দিয়ে আসছি। সবাইকে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অপরাজেয় বাংলাদেশের সংযোগ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা রীনা আক্তার অনুষ্ঠানের শুরুতেই অপরাজেয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং রানীগঞ্জ যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় পরিচালিত কার্যক্রমসহ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় সংযোগ প্রকল্পের অপর মাঠ কর্মকর্তা হাফিজা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।